নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬
কক্সবাজার : বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে থার্টি ফাস্ট নাইট মানেই আনন্দ উল্লাস আর উৎসবে মেতে ওঠা। পর্যটকদের পদচারণায় লোকে লোকারণ্যে সমুদ্র নগরী এছাড়াও তভাগ অগ্রিম বুকিং হয়েছে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজ ও রিসোর্টগুলোর রুম। আর পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে অভিজাত হোটেলগুলো আয়োজন করছে বিশেষ অনুষ্ঠান।
শীতের হিমেল হাওয়া এড়িয়ে সাগরের উষ্ণতার খোঁজে কক্সবাজারে ভিড় করছে বিপুল সংখ্যক পর্যটক। থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে সমুদ্র শহরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছে মানুষ। সৈকত ছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন স্পট পর্যটকদের পথচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পর্যটক বরণে যেমন প্রস্তুতি নিয়েছেন, তেমনি পর্যটকদের স্বাগত জানাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
বছরের এই শেষ সময়ে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। বিশেষ করে বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগ ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজারে ছুটে এসেছে পর্যটকরা। সে সঙ্গে যোগ হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ছুটি। সব মিলিয়ে পর্যটকে ভরপুর এখন কক্সবাজার। সব বয়সের মানুষের পদচারণায় সৈকতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
কক্সবাজারে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বিচে থাকছে ওপেন কনসার্ট। হোটেলে থাকছে ইন্ডিয়ান আইডল নিয়ে অনুষ্ঠান। ইতোমধ্যে সব হোটেল মোটেলগুলোও অগ্রিম বুকিং হয়ে যাওয়ার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার তারকা মানের হোটেল সি-গার্ল এর সহকারী ম্যানেজার নুরুল আলম জানান, ‘অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে দেশের ও কক্সবাজারের পরিবেশ পরিস্থিতি খুবই ভালো। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক এখন কক্সবাজারে অবস্থান করছে।’
কক্সবাজার হোটেল বিচটা বে-রির্সোটের ম্যানেজার মো. কলিম উল্লাহ জানান, ‘প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইটে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের ভিড় হয় কক্সবাজারে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইতোমধ্যে সব হোটেল অগ্রিম বুকিং হয়ে যাওয়ায় ভিন্ন আঙ্গিকে প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।’
কক্সবাজারে তারকা মানের হোটেল লং বিচ এর হেড অব অপারেশন মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘কক্সবাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে চারশতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ রয়েছে। এবার দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকেরও সাড়া পাওয়া গেছে।’
হোটেল দি কক্স টুডে’র রুম ডিভিশন অফিসার আবু তালেব শাহা জানান, ‘দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও খুব ভালো। তাই লাখো পর্যটক এখন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের অপেক্ষায়।’
হোটেল মোটেল ওনার’স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এবার ভিন্ন আঙ্গিকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের বরণ করে নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছি। আশা করা যাচ্ছে এবারের থার্টি ফার্স্ট নাইটে ব্যবসাও ভালো হবে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, কবিতা চত্ত্বর, শাহীন চত্ত্বর, দরিয়া নগর, ইনানীতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করবে।
এদিকে হোটেল-মোটেল জোনের প্রায় প্রতিটি হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসে চলছে সাজসজ্জার কাজ। এছাড়া জেলা সদরের বাইরেও পর্যটন স্পট মহেশখালী, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট সাজছে নতুন করে।
এদিকে, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তিন দিন ব্যাপী বিচ কার্নিভালের উদ্বোধন করে পর্যটন করপোরেশন। ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতারা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










