রিয়াজুল হাফিজ । ৬ আগস্ট ২০১৬
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি বিহীন গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন। তাছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের প্রচলিত আইন মোতারেক এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এরপরও কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন। নির্মাণাধীন ভবনটির বেজমেন্টের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে দীঘি ভরাট করে এ বহতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
নির্মাণাধীন এ ভবনটি গড়ে তোলা হলে একদিকে যেমন পর্যটন নগরীর ঐতিহ্যবাহী লালদীঘির সৌন্দর্যহীন হয়ে পড়বে অন্যদিকে সংকোচিত হয়ে যাবে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপনের পানির উৎস। অনুমতি বিহীন দীঘি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য ইতিমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে নোটিশও দিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর।
এছাড়া পর্যটন শহর কক্সবাজারের ঐতিহ্য, পরিবেশ ও ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপনের পানির উৎস লালদীঘিতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন নির্মাণকাজ দ্রুত বন্ধ করতে তিন সচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রসহ ৭ কর্মকর্তাকে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
নোটিশে বলা হয়েছে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ঐতিহ্যবাহী এ দীঘিতে বহুতল ভবন নির্মাণ কক্সবাজারের ঐতিহ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরুপ। এ ছাড়া দীঘির শ্রেণী পরিবর্তনের এরকম কার্যক্রম দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই লালদীঘির পশ্চিম দিকে বহুতল ভবণ করে মার্কেট নির্মাণকাজ বন্ধ করে তা বাতিলের পাশাপাশি দখলকৃত পাড় পুণরুদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ আগামী ১০ দিনের মধ্যে বেলাকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যতায় নোটিশ গ্রহীতা ৬ সরকারী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে। সম্প্রতি ডাকযোগে আইনী এ নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ও বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওযানা হাসান।
এ প্রসঙ্গে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওযানা হাসান বলেন, ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ লালদীঘিতে বহুতল ভবন করে মার্কেট নির্মাণ কাজ দ্রুত বন্ধ না করলে স্থানীয় জনগণের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বেলা আইনের আশ্রয় নেবে।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয় থেকে দেয়া ওই নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ১৯১০) এর ২(ক) অনুযায়ী জায়গাটি জলাধার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং দীঘিটি খনন ব্যতিত স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা থাকে তা হলে তা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
নোটিশের বিষয়টি স্বীকার করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ দীঘিতে কোন ভাবেই স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।
তারপরেও উক্ত স্থাপনার নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তাই এ ব্যপারে শীঘ্রই আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় দেড় একরের লাল দীঘির পশ্চিম পার্শে পানিতে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন। ইতিমধ্যে ভবনের নীচ তলার কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে।
এসময় আব্দুল হাকিম ও আলী আহম্মদ নামের দুই শ্রমিক জানান, এ ভবনটি পাঁচ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। পুরো ভবন জুড়ে গড়ে তোলা হবে মার্কেট। ইসমাইল নামের এক ঠিকাদার এ কাজটি করছেন।
কক্সবাজার বাচাঁও আন্দোলনের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, লালদীঘিতে স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কক্সবাজারের একাধিক সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দীন বলেন, পর্যটন শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘিকে বাচাঁতে সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মগড়সহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছি।
কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান স্থাপনা নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, ওই জায়গাতে পুরনো মার্কেট ছিল। বর্তমানে তা সংস্কার করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে বলে আমি মনে করিনা।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, বিষটি নিয়ে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশসককে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে।



You must log in to post a comment.