সিটিজিবার্তা২৪ডটকম । ৮ আগস্ট ২০১৬
এডিসি সানোয়ার হোসেন
আমাদের সমস্যা ধর্মে নয়, বুদ্ধিতে। তাইতো আমরা বুঝতে চাই না যে, জঙ্গিবাদের বিরোধিতা মানেই ইসলামের বিরোধিতা নয়। কারণ জঙ্গিবাদের মূল কারণ ইসলাম নয়, অন্য কিছু। জঙ্গিবাদ যুদ্ধ ফেসাদ লাগিয়ে রাখার লক্ষ্যে ধূর্ত লোকের গবেষণালব্ধ এক রাজনৈতিক কূটকৌশল মাত্র।
তাই, জঙ্গিরা যাই বলুক না কেন ইসলাম ধর্ম, জিহাদ, বেহেস্ত প্রভৃতি বিষয় নিয়ে মুখরোচক কথাবার্তা বা অতিরঞ্জন কোন যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যথায় সেটাও হবে এক প্রকার উগ্রবাদ।
জঙ্গিবাদের উছিলায় ধর্মকে নির্বোধের মত খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই। বরং ধর্মের প্রতি বিচ্ছিন্নভাবে কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্রয়াস নিয়ে সমালোচনা হতে পারে। কেননা, প্রত্যেকটা ধর্মই শান্তির পথ দেখায়। কেউ বিভ্রান্ত হয়ে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় শান্তি খোঁজলো সেই দোষ ধর্মের উপর দেয়া যাবে না। ইসলাম ইসলামের জায়গায় সপ্রতিভ আর অন্যান্য ধর্ম বা ধর্মহীনতা নিজ নিজ গন্ডির ভিতর থেকেই দীপ্তিময়। বিশেষ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কৃতকর্মের কারণে ধর্মকে জঙ্গিবাদের কারণ মনে করার কোন যৌক্তিকতা নেই।
ধর্মে বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ এই সভ্যতায় এসে বড় বেমানান মনে হয়। পারস্পারিক আক্রমণের ধরণ খুব সেকেলে, যার পদ্ধতিগত ও আচরণগত ব্যাপক উন্নয়ন দরকার। জঙ্গিদের খুনখারাবি আর নাস্তিক্যবাদীদের খিস্তি-খেউর সমর্থন করা প্রকারান্তের বুদ্ধিবৃত্তিক উগ্রবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বললে ভুল হবে না। অনলে তেল ঢালা অব্যাহত রেখে ফায়ার সার্ভিস খবর দেয়াটা স্ববিরোধী এবং নিম্নমানের প্রতারণারও সামিল। অনেকেই এমনি ভাবে জঙ্গিবাদ অথবা উগ্র নাস্তিক্যবাদকে সমর্থন করছেন।
ভ্যাটিকান সিটির পোপ যেখানে বলেছেন,
“জঙ্গিবাদের কারণ ইসলাম নয়।”
সেখানে অনেক মুসলমানও তা বুঝতে চায় না, আর অন্যান্য ধর্মের লোক কিংবা অ্যাথিস্টদের কথা তো বাদই দিলাম।
আসলে গাছের মগডাল থেকে যা দেখা যায়, তা কি গাছের গোড়ায় বসে গুগল সার্চে বুঝা যায়? সে যে ধর্ম বিশ্বাসের লোকই হোক না কেন তার স্পিরিচুয়ালিটি আর ভাবনার জায়গাটা পরিষ্কার থাকলে মগ ডাল থেকে মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখা যায়, ধর্ম ভিত্তিক বিভাজন থেকে নয়। তাই, হয় আমাদের মগডালে উঠা উচিৎ, না হয় আমাদের যুক্তি-বুদ্ধি-জ্ঞানের লেভেলটা মগডালে উঠানো উচিৎ। অন্যথা আমাদের নাড়িভুঁড়ি-মগজ-পেশীগুলো গিনিপিগের মত আজন্মকাল দুষ্টু লোকের ল্যাবরেটরির গবেষণার খোঁড়াক হয়েই থাকবে। আর এভাবেই ধর্মের প্রতি আমাদের অন্ধ বিশ্বাসকে ব্যবহার করে এক স্বার্থান্বেষী মহল মগডাল দখল করে বসবে।
ইসলামের উপর জঙ্গিবাদের দায় চাপানো বিষয়টা হচ্ছে, কেউ মজা করার জন্য পিছন থেকে কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে খোঁচা দিল যে, খোঁচা খাওয়া লোকটি তার পাশে বসা নিরাপরাদ লোকটাকেই সন্দেহ করে বসলো, আর দু’জনের মধ্যে শুরু হয়ে গেল তুমুল ঝগড়া।
খোঁচা প্রদানকারী দুষ্ট লোকটি পাশে বসে মিটিমিটি হাসছে আর ভাবছে “ছাগলের আইকিউ মানুষের মাথায় কিভাবে আসলো?”
এক্ষেত্রে খোঁচা প্রদানকারী দুষ্টু লোকটি বিভ্রান্ত লোকটার আইকিউ লেভেলের উপর ভিত্তি করে এই খেলাটি পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে যেতে থাকলো। এক সময় দুষ্টু লোকটি দলবল নিয়ে এই খেলেটি খেলতে লাগলো এবং সেটি একটি চরম পর্যায়ে পৌছে গেল। এভাবে বোকারা গিনিপিগ বনে গিয়ে নিজেদের মধ্যে খুনাখুনি করে নি:শেষ হতে থাকলো। কিছু কিছু গোত্র বা জাতি বা দেশ বা ধর্ম এভাবেই ভুক্তভোগী হতে থাকলো এই একই কায়দায়।
এই গেইমটি যারা বুঝে তারা হয় বিশ্বের অধিপতি, আর যারা বুঝেনা তারা হয় রণপতি। এ সময় গিনিপিগরা হাতে তোলে নেয় বন্দুক, বোমা, ধর্মীয় বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঝান্ডা, আর প্লে মেকাররা হাতে নেয় পরবর্তী খেলার কৌশল নির্ধারণের পরিকল্পনা।
‘আসলে আমাদের সমস্যা ধর্মে নয়, বুদ্ধিতে।’
লেখক: সানোয়ার হোসেন
এডিসি, ঢাকা মহানগর পুলিশ (গোয়েন্দা বিভাগ)



You must log in to post a comment.