বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
লাইফস্টাইল ডেস্ক : কলা আরবী শব্দ ”ব্যানান” হতে এসেছে। যার অর্থ আঙ্গুল। বহুবর্ষজীবি একটি হার্ক্ষ শ্রেনীর উদ্ভিদ। সমস্ত ফল গাছ থেকে এলেও ব্যতিক্রমি এই ফলটির গাছ বললেও এটা মুলত জন্মে হার্ব শ্রেনীর উদ্ভিদে। এই জন্যই কোন বিষয়ের অসারতা বুঝাতে কলাগাছ বলা হয়। গঁংধপবধব ফ্যামিলি বা পরিবারের অর্ন্তগত এর বৈজ্ঞানিক নাম গঁংধ ধপঁসরহধঃব । কলা পৃথিবীতে প্রথমে মালেশিয়াতে পাওয়া যায় এর পর পর্যটকদের আগ্রহের বিষয় হবার কারনে তা ভারতবর্ষে চলে আসে। পশ্চিমা বিশ্বে কলা বিস্তারে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন আলেকজান্ডার। এর ও প্রায় ৩৫০ বৎসর পর আমেরিকানরা কলার স্বাদ গ্রহন করে। কলা সহজপ্রাপ্য একটি সুপরিচিত ফল। আমাদের দেশে সর্বত্র কম বেশি এর আবাদ ল্য করা যায়। তবে কয়েকটি পার্বত্য এলাকা সহ কিছু জেলায় এর ব্যাপক ভিত্তিক উৎপাদন ল্য করা যায়। কলা কাচা পাকা দু অবস্থায় খাওয়া যায়। কাচা কলা সবজি হিসেবে বা ভর্তা করে আর পাকা কলার জনপ্রিয়তা তো সব বয়সের সবার কাছে আছেই। স্থানীয় কিছু জাতের ব্যাপক সমাদর থাকলেও চাহিদার প্রেেিত বিভিন্ন জাতের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক গুনের সমাদৃত এই কলা সম্পর্কে আসুন জানি। কলা সম্পর্কে প্রবাদ আছে দুধ যেমন সুষম খাদ্য কিন্ত ভিটামিন সি নেই কিন্ত কলাতে ভিটামিন সি’ও আছে। ১০০ গ্রাম কলাতে নিম্ন বর্নিত ভিটামিন আছেঃ ভিটামিন এ ৪৩০ আন্ত. একক ভিটামিন বি থায়ামিন ০.০৪ গ্রাম ভিটামিন সি ১০ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম ৮ মি. গ্রাম আয়রন ৬ মি. গ্রাম ফসফরাস ২৮ মি. গ্রাম পটাশিয়াম ২৬০ মি. গ্রাম কার্বোহাইড্রেটস ২৩ গ্রাম প্রোটিন ১.২০ মি. গ্রাম ক্যালরি ৮৮ কলা পুষ্টিগুনে ভরপুর । এটি শর্করা আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ লবনের অপূর্ব সমন্বয়। কলায় আছে শর্করা, সামান্য আমিষ কিঞ্চিৎ ফ্যাট, পর্যাপ্ত খনিজ লবন ও যথেষ্ট আঁশ। খনিজ লবনের মধ্যে আছে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ। ভিটামিনের মধ্যে আছে ’এ’ ’বি’ ও কিছু ’সি’। এই পুষ্টি সমৃদ্ধ কলার কিছু ব্যবহার/উপকার আসুন জানি। ▪ কলাতে আছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং ডায়াটেরি ফাইবার। এ ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এই ভিটামিন শরীরের সংযুক্ত টিস্যু, শরীরে আয়রনের শোষন বাড়ায় এবং রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে। ▪ কলাতে পটাসিয়াম আছে । এই পটাসিয়াম পেশি তৈরিতে ও প্রোটিন সিনথেসিসে সহায়তা করে। যেহেতু কলাতে প্রচুর পটাসিয়াম আছে এবং সোডিয়াম নেই তাই এটা উচ্চ রক্তচাপের ঝুকি কমায়। ▪ কলা ফাইবার সহ তিনটি প্রাকৃতিক চিনি ধারন করে যথাঃ সুক্রোজ, ফুক্রটোজ এবং গ্লুকোজ যা তাৎনিক শক্তি সরবরাহ করে। ▪ কলাতে ভিটামিন বি-৬ বিদ্যমান যাহা শরীরে এন্টিবডি তৈরিতে সহায়তা করে যাহা লোহিত রক্ত কনিকা তৈরী, প্রোটিন হজমে, এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারীতায় ভুমিকা রাখে। ▪ কলার চাইতে অন্য কোন ফলে এত বেশি হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট থাকে না। তাছাড়া শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরী প্রোটিন ও ফ্যাটের চাইতে কার্বোহাইড্রেট থেকে দ্রুত গ্রহন করতে পারে। কলায় আছে সহজে হজমযোগ্য শর্করা দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে কান্তি দুর করতে সহায়তা করে। ▪ কলা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য একটা উত্তম খাবার কারন এতে অতি সামান্য পরিমানে সোডিয়াম থাকে। ঞযব ঘবি ঊহমষধহফ লড়ঁৎহধষ ড়ভ গবফরপরহ এর মতে ৪০% উচ্চ রক্তচাপের ঝুকি কলা কমিয়ে থাকে। ▪ কলা আযরনের উৎস হবার কারনে অ্যানিমিয়ার জন্য অত্যন্ত উপকারী। ▪ কলা ট্রিপটোফেন ধারন করে যাহা এক প্রকার প্রোটিন। শরীরের মধ্যে রাষায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা পরিবর্তন হয়ে সেরোটোনিন এ পরিবর্তর্তিত হয়। সেরোটোনিন একটি হরমোন যা মানুষকে রাখে প্রফুল্ল। সুতরাং আপনার মুডকে প্রফুল্ল রাখতে কলা খান বেশি করে। এইজন্য অষ্ট্রেলিয়াতে কলাকে বলা হয় ”মুড ফুড” ▪ বলা হয়ে থাকে দৈনিক দুটি কলায় আপনার পটাসিয়ামের ঘাটতি পুরন করে। কলাকে ”ব্রেন ফুড” বলা হয় কারন কলায় ব্রেন এর জন্য উপকারী প্রচুর পটাসিয়াম আছে। পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন ও শরীরে পানির সমতানায়নের ভুমিকা রাখে। উচ্চ চাপের সময় শরীরে দ্রুত পটাশিয়াম এর পরিমান কমে যায়। এমতবস্থায় কলা খেলে দ্রুত ও কার্যকরী ফল পাওয়া যায়। ▪ প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকার কারনে ডায়রিয়ার রোগীকে কলা খাওয়ালে ইনটেষ্টাইনের স্বাভাবিক কার্যকারীতায় ফিরিয়ে আনে। ▪ গবেষনা গ্রন্থ অৎপযরাবং ড়ভ ঙঢ়ঃযধষসড়ষড়মু প্রমান করেছে বয়স্ক লোকেরা এটা খাওয়ার মাধ্যমে ”বয়সের কারনে যে বয়সের কারনে ভিশন সমস্যা ”৩৬% কমিয়ে আনে। ▪ কলা আলসার প্রতিরোধে ভুমিকা পালন করে। পাকস্থলির ভিতরের কোষকে উদ্দীপ্ত রাখে। এটা পাকস্থলির ভিতরের গাত্রে একটি মিউকাস স্তর সৃষ্টি করে। । এছাড়া কলায় চৎড়ঃবধং রহযরনরঃড়ৎং থাকে যাহা পাকস্থলির আলসার সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া দুর করে। ▪ এছাড়া বাতের ব্যাথায় ও এর উপকারিতা ল্য করা যায়। তাছাড়া কলা কোষ্ট্যকাঠিন্য দুর করে। সুতরাং সহজলভ্য এই ফলটি সামান্য গ্রহনে উপকারিতা অনেক। তাই প্রতিদিন সামান্য হলে গ্রহন করুন জনপ্রিয় উপকারী এই ফলটি।









