শুক্রবার, ০১ জানুয়ারি ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
ডেস্ক রিপোর্ট : মাদক নিয়ে লেখালেখি করার কারণেই খুন হয়েছেন রংপুরের দৈনিক যুগের আলোর সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস। এমনটাই দাবি করেছেন তার সহকর্মী ও স্বজনরা।
হত্যাকাণ্ডের ৮ দিন পার হলেও উৎসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে মামলার তদন্তে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপার।
খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে নানা কর্মসূচি পালন করছে রংপুর প্রেস ক্লাব, সিটি প্রেস ক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, জেলা মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন ভিডিও জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।
প্রকৃত খুনি গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন রংপুর সিটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের সদস্য সচিব শরিফুজ্জামান বুলু।
তিনি বলেন, কেন ও কী কারণে উৎস খুন হলো সেটি তারা জানতে চান। দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সিটি প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বায়ান্নর আলোর স্টাফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবীর মানিক জানান, দেশব্যাপী সাংবাদিক হত্যা ও লাঞ্চিতের ঘটনার মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও অপরাধ করার সুযোগ পাচ্ছে। এসব ঘটনা সাংবাদিকদের জন্য অশনিসংকেত।
সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যাকাণ্ডে গঠিত সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক আলী আশরাফ পূর্বপশ্চিমবিডিকে জানান, মাদক ও রেল সিন্ডিকেট সংক্রান্ত একাধিক রিপোর্ট করার কারণেই উৎস রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত উৎসের খুনিদের গ্রেফতারের দাবি করেন।
সাংবাদিক উৎস হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পূর্বপশ্চিমবিডিকে জানান, মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে একাধিক রিপোর্ট করার কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উৎসের সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। এসব বিষয় নিয়ে তারা তদন্ত করছেন। খুব শিগগিরই এই হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে বলে জানান তিনি।
মামলার তদন্তে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক পিপিএম জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রকৃত খুনিদের ধরতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উৎস নগরীর স্টেশন রোড এলাকার পীরপুরে পরিবারসহ বসবাস করতেন। তার মা-বাবা ও স্ত্রী ছাড়াও মালিহা মুমতাজ উর্বি নামে দেড় বছর বয়সের এক মেয়ে রয়েছে।
গত ২৪ ডিসেম্বর বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে যুগের আলো পত্রিকা অফিস থেকে খালার বাসায় যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন উৎস। এরপর ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর দমদমা এলাকার ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাশের একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।




