রবিবার,১০ জুলাই ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
আমাদের মনন, মনস্তত্ব, রুচি, চিন্তা, চেতনা, দর্শন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বুঝার এক অদ্ভুত পরীক্ষাগারের নাম ফেসবুক। ফেসবুকে সক্রিয় হয়েছি অতি সম্প্রতি। আমি ছোট বড় সব রকমের লেখা পোস্ট করেছি। মাঝে মধ্যে বিখ্যাত কারো লেখা সরাসরি বা একটা ভূমিকা লিখে ছেড়ে দিয়েছি। কিছু লেখা পড়তেই ৭/৮ মিনিট লাগার কথা, ভাবতে এবং লাইক দেব কি দেব না তা চিন্তা করতেওতো সামান্য সময় খরচা হবার কথা। কিন্তু পোস্টের, বোধ হয় ১ সেকেন্ডেরও কম সময়েই লাইক পড়তে দেখি। জানি, আমি প্রায় পাঠকশুন্য অখ্যাত এক ফেসবুকী লেখক। কিন্তু আমারতো মনে হয় নামী লেখকদের অভিজ্ঞতাও আলাদা নয়। আমাদের পাঠ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রায় ৯৮ পারসেন্টই শুধু পরীক্ষার আগের রাতে পড়তে শোনা যায়। তারা পরীক্ষার আগের দিন বিকালে স্ট্যাটাস দেয় “ফটোকপির দোকানে বসে আছি, এখনো বেশ কিছু নোট হাতেও আসেনি, কার কি অবস্থা আওয়াজ দে”। কমেন্ট বক্স মেদ ভুঁড়ির মত ফুলে ওঠে, “সেম কন্ডিশন, দোস্ত”- এই বাক্যে। এর জন্য অবশ্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তথা পরীক্ষা পদ্ধতিও কম দায়ী নয়। কিন্তু তাদের নন-একাডেমিক পড়াশুনার স্বাস্থ্যও খুব খারাপই শুনি, বুঝি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ অবস্থা হলে অন্যদের কথা না তোলাই ভাল। আছে, আমাদের মেধাবী, পড়ুয়া, সৃষ্টিশীল, চিন্তাশীল মানুষও আছে। কিন্তু সেই সংখ্যালঘুরাতো দেশের সুযোগ সুবিধা এবং এখানে তাদের মূল্যায়ন বিবেচনা করতঃ ইউরোপ আমেরিকায় পাড়ি জমায়।
ফেসবুকে হয়ত কেউ লিখেছে,” প্রচন্ড দাত ব্যাথা”- ব্যস! লাইকে লাইকে একাকার। যেন দাত ব্যাথা খুব রোমান্টিক ব্যাপার। “গুলশান হত্যাকান্ডে জাতি শোকাহত”- এ খবরেও হাজারো লাইক। মানে কি! “পছন্দ” আর “অনুরুপ” ছাড়া কি লাইকের আর কোন অর্থ আছে? হতে পারে, হয়ত আমিই এই লাইকের মাজেজা বুঝি না।
কমেন্ট বক্স হচ্ছে আমাদের চিন্তা আর রুচি পরীক্ষার এক অদ্ভুত ধ্রুবক। ব্যাখ্য প্রদান অর্থহীন।
আর লম্বা না করি। সরলীকরণও না করি। তারপরও বলি, যদি আমাদের পাঠ্যাভ্যাস, আমাদের চিন্তা-চেতনা আর রুচির এই সংকট, এভাবেই প্রকট হতে থাকে, তবে গ্লোবাল দূরে থাক আমরাতো জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোও মোকাবেলা করতে পারব না। অবশ্য পারছিও না।
লেখক : জাহিদুর রহমান
শিক্ষক, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


