শনিবার,১৫ অক্টোবর ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি দু’দিনের বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। আমরা তাঁর সফরকে স্বাগত জানাই এবং এই সফরের সার্বিক সাফল্য কামনা করি। বহুবিধ কারণে চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতির এই সফর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রপতির একান্ত বৈঠকের পরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে:
“দুদেশের সম্পর্ক এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে”।
অপর দিকে চীনের প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে :
“বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বন্ধু হিসেবে পাশে থাকতে চীন প্রস্তুত। তিনি বলেন, ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পর্যায় থেকে দুদেশের সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্কে উন্নীত হবে”।
চীনের রাষ্ট্রপতি তাঁর এই সফরে চব্বিশ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ঝৃণ বিনিয়োগ নিয়ে এসেছেন। ইতিমধ্যে ছাব্বিশটির মতো চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে এবং উদ্বোধন হয়েছে ছয়টি প্রকল্প যার মধ্যে রয়েছে দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী নদীর নীচ দিয়ে টানেল নির্মাণ , একটি সার কারখানা, ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন। এখানে দেখার বিষয় হলো বাংলাদেশের তরফ থেকে এই সফরকে আখ্যায়ীত করা হয়েছে:
এক। সম্পর্কের নবতর পর্যায় হিসাবে।
অন্য দিকে চীন এই সফরকে চিহ্নিত করছে;
এক। সম্পর্কের ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসাবে।
দুই। অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন।
তিন। বাংলাদেশর সাথে চীনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক পর্যায়ক্রমে উন্নতি হবে কৌশলগত ও অংশিদারিত্বের সম্পর্কে ।
এইযে তিনটি স্তর আমরা চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেখছি এটা বিশ্লেষণ করলে যা দাঁড়ায় তাহলো বাংলাদেশ এবং চীন ভবিষ্যৎের দিন গুলোতে একে অপরের ষ্ট্রাটেজিক পার্টনার হিসেবে আবির্ভূত হবে এমন এক কৌশলগত অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে যা অন্তর্ভূক্ত করবে পলিটিকো ইকোনমিক এন্ড মিলিটারী ষ্ট্রাটেজিকে। বাংলাদেশের এবং চীনের এই মহা পরিকল্পনায় অবশ্যম্ভাবী ভাবে বঙ্গপোসাগরে চীনের উপস্থিতির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা দেখলাম চীনের প্রেসিডেন্ট ক্যাম্বোডিয়া থেকে বাংলাদেশ এসেছেন। ক্যাম্বোডিয়া ভিয়েতনামের পশ্চিম সীমান্তের দেশ এবং ভিয়েতনামের সাথে একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগর সংলগ্ন। ভারতের ভিয়েতনামে নৌ ঘাটি স্থাপনের পরিকল্পনার অব্যবহতি পর থেকে চীনের কাছে বঙ্গপোসাগরের গুরুত্ব বহুমাত্রিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরকে ঘিরে বিশ্ব শক্তির চীনের সাথে গভীর টানাপোড়েনর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ এবং বঙ্গপোসাগরের গুরুত্বকে চীনের কাছে অপরিহার্য করে তুলেছে। বাংলাদেশের এই ভূকৌশলগত গুরুত্ব চীনের কাছে বাংলাদেশকে একটা মিডিল কিংডম স্টেটের পর্যায়ে উন্নীত করেছে যার বহিঃপ্রকাশ আমরা চীনের রাষ্ট্রপতির এই হাই লেভেল ভিজিটের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারীত্বের ঘোষণার মাধ্যমে বাস্তবায়ীত হতে দেখছি। বাংলাদেশ এবং চীনের এই জিও ষ্ট্রাটেজিক বা ভূকৌশলগত অংশীদারীত্বের এইযে শুভ সূচনার শুভারম্ভ আমরা অবলোকন করছি যা বাংলাদেশের মিডিল কিংডম হিসাবে তার আবির্ভাবকে অবশ্যম্ভাবী ভাবে বাস্তব করে তুলবে।
জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান
প্রাক্তন মহাপরিচালক বিডিআর।




