বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : ‘বাড়ি থেকে গাড়িতে তোলার পর আমার হাত-পা ও চোখ কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা একটানা বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে গাড়িটি একটি জায়গায় গিয়ে থামে। আমাকে একটি বাসার ভেতরে নিয়ে গিয়ে টয়লেটের ভেতরে আটকে রাখা হয়। হাত ও পা বেঁধেই আটকে রাখা হয়েছিল। মাঝেমধ্যে অল্প খাবারও দিত তারা।’
কথাগুলো বলছিলেন অপহরণের ১৪ দিন পর চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে উদ্ধার হওয়া রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সাইফুজ্জামান সোহাগ।
সোহাগ আরো বলেন, ‘প্রথম দিন গাড়ির মধ্যেই আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা একটানা বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর আর তেমন নির্যাতন করা হয়নি।’
রাজশাহী থেকে অপহরণের ১৪ দিন পর চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে উদ্ধার হওয়া সোহাগকে আজ বুধবার সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে নগরীর রাজপাড়া থানায় নেওয়া হয়। অপহরণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহাগকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোহাগকে রাজশাহীতে আনার পর সরাসরি তাঁকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তাঁর চিকিৎসায় ছিলেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাখাওয়াত হোসেন রানা।
তিনি জানান, সোহাগ শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। সোহাগকে হাসপাতালে আনার খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন সোহাগের মা শিরিন জামান ও সোহাগের স্ত্রী ফারজানা রহমান। এর আগে দুপুরে সোহাগের বাবা আক্কাস উজ্জামান মোবাইল ফোনে জানান, বুধবার ভোর ৪টার দিকে তাঁর ছেলে সোহাগ ফোন করে জানায় সে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আছে। অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা তাঁর চোখ বেঁধে মিরসরাইয়ে ফেলে গেছে। খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় অবস্থানরত তার শ্যালককে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে বলেন। দুপুরে সোহাগকে মিরসরাই থেকে নিয়ে তাঁরা ঢাকার ধানমন্ডিতে পৌঁছান। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ছেলেকে নিয়ে ঢাকা থেকে তাঁরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁর ছেলে ভালো আছে, তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানান তিনি। অপহরণের পর থেকে এতদিন তাঁকে চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। তবে কারা অপহরণ করেছিল, সে বিষয়ে সে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে।









