দেরিতে হলেও রোহিঙ্গা গনহত্যার বিষয়ে সরব হয়েছে বিশ্ব মিডিয়া

সোমবার,০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাশেদুল করিম: দেরিতে হলেও মায়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিংগা গনহত্যার বিষয়ে সরব হয়েছে বিশ্ব মিডিয়া। আল-জাজিরা,দ্য টেলিগ্রাফ,বিবিসি,আরব নিউজ এসব মিডিয়ায় মায়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত,নিষ্পেষিত রোহিংগাদের বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববাসী। ঈসরাইল মায়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কঠোর হবার আভাস দিয়েছে। অন্যদিকে বিবিসি বাংলা’র বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে রোহিংগা বিরোধী অভিযান বন্ধের জন্য চার মুসলিম দেশ অনুরোধ জানিয়েছে। অন্য আরেকটি গনমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, সূচি’র শান্তিতে নোবেল পাওয়ার বিষয় নিয়ে আঙ্গুল তুলেছেন অনেকে ।
এদিকে তুরষ্কের সরকার প্রধান বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকি তারা সকল খরচ বহন করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

এদিকে মায়ানমার সরকারের কার্যত নির্বিচার গনহত্যার মুখে ভিটে মাটি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন রোহিংগারা। আর এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার মানবিক বিষয় বিবেচনা করে যথেষ্ট পরিমান সহানুভূতির ভূমিকা রেখেছে। রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিংগাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুদের আগুনে নিক্ষেপ করে জীবন্ত হত্যা করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। গ্রামে গ্রামে আগুন জালিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোহিংগা নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণ করে হত্যা করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তার অভাব বোধ করার কারনে ভাঙ্গা বাঁধের পানির ন্যায় বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হচ্ছে। কার্যত বাংলাদেশে এক লক্ষ রোহিংগা প্রবেশ করার বিষয়ে বলা হলেও এর সংখ্যা আরও বেশী হতে পারে। তাদের মানবেতর জীবন যাপনের চিত্র যেন বলে দেই পৃথিবীর নিগ্রহ একটি জাতি হিসেবে প্রকাশ পাওয়া যেন তাদের অপরাধ। এদিকে রোহিংগা নিধনের বিষয়টি পুরাতন হলেও নতুন করে মায়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি সে দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারাও ছুটে এসেছেন জীবন হাতে নিয়ে বাংলাদেশে।

সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা আগত রোহিংগাদের সাথে মানবিক আচরন করছেন সরকারের নির্দেশনা পেয়ে। তবে কঠোর অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছেন।

এতো কথার পরেও শেষ কথা মায়ানমার সরকার কেন কোন কিছুর তোয়াককা করছে না? মায়ানমার সরকার কোন ইশারাই সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে রোহিংগা নিধনে নেমেছেন তা ভাবনার বিষয় বৈকি। কোন বিদ্রোহী গোষ্ঠি যদি তাদের আতংকের বিষয়বস্ত হয়ে দাড়ায় তাহলে এর দায়ভার কেন নিরহ নারী ও শিশুদের নিতে হবে?

কেন গ্রামের পর গ্রাম জালিয়ে দিয়ে নারী, শিশুদের হত্যা করে একটি জাতিকে শেষ করে দেবার নীল নকশা আঁকছে শান্তিতে নোবেল পাওয়া মায়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সূচি এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো ভবিষ্যতে মিলবে।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালে রোহিংগা গনহত্যার বিচার হবে কিনা সময় বলবে।

লেখক : সংবাদকর্মী

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image