পুলিৎজার থেকে রুডলফ এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপট

Monday, 01 Jan 2018

Ctgbarta24.com

বিষয়ের দিক থেকে যে সাংবাদিকতা আমাদের প্রথম আসে সেটি হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা বা ইয়েলো জার্নালিজম। এই হলুদ সাংবাদিকতা চাঞ্চলকর সংবাদ ছাপাতে ব্যবহিত হয়। পত্রিকার প্রচারসংখ্যা বাড়াতে এই ধরনের সাংবাদিকতায় অহেতুক চাঞ্চল্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। অকারণে চমক ও সেই সঙ্গে অলীক এবং ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করাকে লোকে হলুদ সাংবাদিকতা বলে।
 
কিন্ত যে নিন্দনীয় অর্থে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ কথাটি আজ পরিচিত তার উদ্ভব হয়েছিল ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। উনিশ শতকের শেষদিকে সাংবাদিকতার দুই পথিকৃৎ জোসেফ পুলিৎজার ও রুডলফ হাসট তাদের দুটি পত্রিকায় ইয়েলো কিড নামে হলদে রঙের কার্টুন কিড ছাপাতেন। সেটা ভাল দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। কিন্ত তাদের মুল বিরোধ ছিল অন্যখানে। অযথা চাঞ্চল্য সৃষ্টি, গসিপ ও কেলেঙ্কারি,পারস্পরিক রেষারেষি তৈরি করে সংবাদ বিবরণীগুলোকে আরও উপজীব্য করে তুলাই ছিল তাদের কাজ। আর এটি নিয়ে খুনোখুনি পর্যন্ত হয়েছে তাদের মধ্যে। সেই থেকেই চাঞ্চল্যকর সাংবাদিকতা ইয়েলো জার্নালিজম নামে পরিচিত। তবে এটি মনে করার কারন নেই যে, চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারে এমন সহজাত ঘটনা সৎ সাংবাদিকতার আওতায় পড়ে না । বড় সংবাদ সবসময় আলোড়ন সৃষ্টি করে। 
পুলিৎজার ও হাসট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার প্রয়াস পেয়েছেন যে ধরনের পত্রিকায় তার সফল প্রয়োগ হয়েছে ট্যাবলয়েড পত্রিকায়। যে পত্রিকাগুলো নির্ভেজাল পপুলার পত্রিকা হিসেবেও পরিচিত। তবে ‘সান’, ‘মিরর’- এর মতো ট্যাবলয়েড পত্রিকা যে ভূমিকা পালন করে থাকে তা আমাদের দেশের ট্যাবলয়েডগুলো করে না। বরং উল্টোপথে মূলস্রোতের অনেক পত্রিকাও মাঝেমধ্যে ট্যাবলয়েড পত্রিকার মতো আচরণ করে থাকে। অন্যদিকে অসংখ্য পত্রিকা বা বিভিন্ন অনলাইন ডটকমে এমন সব সংবাদ বিবরণী ছাপছে যেগুলোকে অবলীলায় হলুদ সাংবাদিকার আওতায় ফেলা যায়। আর এখন সচেতন পাঠককূল নিজেরা বুজে নিতে পারেন হলুদ সাংবাদিকতা কতটা কুৎসিত ও অপরাধমূলক কাজ।  
লেখক ঃ মোঃ সাইফুল করিম
চেয়ারম্যান, এস কে ইন্টারন্যাশনাল
তথ্য সূত্র –  সাংবাদিকতা নীতি শৈলী

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image