রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মাহমুদুল হাসান রাকিব : চট্টগ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের আকবরশাহ থানাস্ত বিশ্ব-কলোনীর কালির ছড়া ভূমি-দস্যুদের কবলে পড়ে হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহি এই কালির ছড়া। বর্তমানে কালির ছড়াটি ৬০ ফুট থেকে ৫ ফুটে চলে এসেছে ভরাট করতে করতে। দেখলে বিশ্বাস হয় না,শহরের ভিতর মানুষ এভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখায়।
চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের আওতাধীন ৯নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বিশ্বকলোনী ভিতর দিয়ে প্রবাহিত কালির ছড়া আজ ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে পানি প্রবাহ এবং পরিবেশের মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। কালের স্বাক্ষীপাহাড়তলী কালির ছড়া এক সময় যার প্রশস্ত ছিল ৫০-৬০ ফুট পর্যন্ত। গভীরতা ছিলো প্রায় ১৫-২০ ফূট।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে এ ছড়াতে প্রচুর পরিমানে মাছ পাওয়া যেত। আজ দখলের কবলে পড়ে ছড়াটি তার সব কিছু হারিয়ে নগর বাসীদের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বর্ষার পানি প্রবাহের ফলে ২০ মাইল দৈর্ঘ্য ছাড়াটি জরুরী ভিত্তিতে দখল মুক্ত করে সংস্কার করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবী জানাচ্ছে ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকাবাসী। অত্র এলাকার মানুষ বিগত বর্ষায় ৮-৯ ফুট পানিতে প্লাবিত ছিলো। এই ছড়াটি ছিন্নমূল,বায়োজিদ হয়ে, বিশ্ব কলোনী, নন্দন হাউজিং, গ্লাস্কো ও লতিফপূর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করেছে।
এলাকার জনপ্রিয় প্রতিনিধি মীর আহম্মদ খোকন বলেন, এ ছড়াকে সরকার ও প্রশাসন সুনজরে দেখে পূর্ণখনন করে বর্ষার পানি প্রবাহ নিশ্চিত করে ঢাকা ট্রাংকরোড ও কর্ণেলহাট বাজার সহ শহরের অনেকগুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং এলাকাবাসী বর্ষায় বন্যা থেকে রক্ষা পাবেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বকলোনী বায়তুল মামুর জামে মসজিদের পাশে বিশ্বকলোনী কাঁচাবাজারের সববর্জ্য ময়লা ছড়ায় এনে ফেলা হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ময়লা আবর্জনা এখানে ফেলতে নিষেধ করার পর বলা হয় মসজিদ কমিটির লোকজন ফেলতে বলেছেন। প্রতি বছর বন্যায় সময়ে মায়ের কোল খালি করে শিশুর মৃত্যু হয়। গত বন্যায়ও একটি চার বছরের শিশু করুন মৃত্যু হয়। আর্শ্চ্যযের বিষয় হচ্ছে অত্র এলাকার বাসিন্দারা সরকারকে জমির খাজনা, সিটি কর্পোরেশন কে হোল্ডিং ট্যাস্ক দেওয়ার শর্তেও তাদের জীবনের যে হাল পরিলক্ষিত হয় তা দেখে মনে হয় যেন অত্র এলাকা দেখার কোন অভিবাবক নেই।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, ছড়া অবৈধ দখলে বাধা বা প্রতিবাদকারীকে হুমকী দেয়া হয় এবং সরকারী ছত্রছায়ায় এসব করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।অত্র এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নাছির উদ্দিন বলেন আমাদের বসবাস যেন ছিটমহলবাসীর মতো। আমরা এমন মানবেতর জীবন যাপন করছি,বর্ষায় আমরা ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারিনা। পুরুষরা বাহির হতে পারিনা। আমাদের দেখার কেউ নেই। সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি ছড়াটি দখল মুক্ত করে আমাদের বন্যার হাত থেকে রক্ষা করুন।
পাহাড়তলী ৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান কমিশনার জহুরুল আলম জসিম জনসম্মুখে এসে বলেন, ‘আমার দখলদাদের ব্যাপারে আমার বক্তব্য স্পষ্ট। আমি কোন ভাবেই জনস্বার্থেই বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কিছু মেনে নিবো না। অবৈধ দখলদার যত শক্তশালী হোক না কেন আমি এর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে নিয়ে সমাধান করব। আমাকে খাঁন সাহেব নামে এক ভদ্র লোক কল করে হুমকী দেয় যাতে কালীর ছড়া অবৈধ দখল নিয়ে মাথা না গামায়।
খান সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার এই জায়গা নিয়ে পুলিশের এসপি, ডিএসপি,ওসি, এবং সিডিএর সালাম সাহেবের নাম ব্যবহার করে এলাকাবাসীকে জিম্মি করে তারা অবৈধ কাজ চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম ৪ আসনের এমপি দিদারুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাবাসীকে বলেন,’যতদ্রুত সম্ভব এই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে কালির ছড়া অংশটুকু উন্মুক্ত করব। পাহাড়তলী কালির ছড়া আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনেক মুক্তিযোদ্ধা গোপন রাস্তা হিসাবে ব্যবহার করেছে। স্বাধীন দেশে এই কালির ছড়াটি সংরক্ষন করা আমাদের জরুরী প্রয়োজন। এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কালি ছড়াকে যদি যথাযথ ভাবে সংস্কার করা যায়।বর্ষায় চট্টগ্রাম শহরে অনেকাংশে জলবদ্ধতা দূর হবে’ ।
সময়ক্ষেপন না করে এখনই এই কালির ছড়াকে সংস্কার করে এলাকাবাসীর প্রানের দাবী বাস্তবায়ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এটি সকলের প্রত্যাশা করেন।









