মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৭২ তম জন্মদিন আজ। পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনের কেক কাটাসহ আঢ়ম্বরপূর্ণ কোনো আয়োজন না থাকলেও স্বজন-শুভার্থী ও নেতাকর্মীদের জন্য পাঁচ গরুর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে তার ২ নম্বর গেটের চশমা হিলের বাসায়। গণমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন বীর চট্টলার গণমানুষের এই অবিসংবাদিত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
প্রিয় নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে রাত থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে। বুধবার রাত থেকে তার নগরীর চশমা হিলের বাসায় ফুল আর কেক হাতে ভিড় করতে শুরু করেছেন দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংগঠক, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
পর পর তিনবারের নির্বাচিত চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন উদযাপন করেননি। তবে প্রতিবছর তার জন্মদিনটিতে তার নিজ দলের নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ তাকে ভালোবাসায় সিক্ত করেন।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৭২ তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে পারিবারিক কোনো আয়োজন নেই। তবে তার অনুসারীদের রয়েছে বিভিন্ন প্রস্তুতি।
জানা গেছে, সকাল থেকে তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে তার রাজনৈতিক অনুসারীরা জড়ো হবেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসায়। সেখানে থাকবে তার জন্মদিনের কেক কাটাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। তার দীর্ঘায়ু কামনা করে থাকবে মিলাদ মাহফিল।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর একান্ত সচিব ওসমান গণি সিটিজিবার্তাকে বলেন, ‘জন্মদিনের তেমন কোনো বড় আয়োজন নেই। তবে স্যারের শারীরিক সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা নেতাকর্মীদের অ্যাপায়িত করার জন্য পাঁচ গরুর মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে।’
মহানগর যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ বলেন, ‘নেতার জন্মদিন উদযাপন করতে আমরা অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সকালে নেতার জন্মদিনের কেক কাটার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে সারাদিনের এই কর্মসূচি। থাকবে নেতার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে মিলাদ মাহফিল।’
১৯৪৪ সালের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ১ তারিখ রাউজানের গহিরায় মরহুম হোসেন আহমেদ চৌধুরী ও মরহুমা বেধুরা বেগমের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। চার ভাইয়ের মধ্যে তার অবস্থান ২য়।
মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে শ্রমিক লীগের রাজনীতি করে এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কান্ডারী হন মহিউদ্দিন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মহিউদ্দিনের রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর আর্দশে অটল থাকতে গিয়ে সামরিক শাসনসহ বিভিন্ন সময়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।
‘স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনে চট্টগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া মহিউদ্দিন এখনও সক্রিয় আছেন রাজপথে’।
“বঙ্গবন্ধু” যখন চট্টগ্রামে আসতেন ট্রেন থেকে নেমে প্রথমে জিজ্ঞেস করতেন আমার “মহিউদ্দিন” কই? উনি সেই “মহিউদ্দিন চৌধুরী”।
“বঙ্গবন্ধু” কে স্বপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা যখন আত্নগোপনে তখন “মহিউদ্দিন চৌধুরী” মৌলভী ছৈয়দ, ফণীভূষণ, এস এম ইউসুফ সহ দলবল নিয়ে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে মোস্তাক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদ সংগ্রাম করেছিলেন।
১৯৮১ সালে যখন শেখ হাসিনা দেশে আসলেন তখন সবাই বাকশাল নিয়ে ব্যস্ত। এমনকি পার্টি অফিসও বেদখল, তালা মারা। কেও ঢুকতে পারছেন না। তখন এই মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম থেকে দলবল লাঠিসোটা নিয়ে পার্টি অফিসের তালা ভেঙে অফিস দখল করেছিলেন এবং সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে অফিস বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতা ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
২০০৫ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন মন্ত্রীকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।
‘১৯৯১ সালে ২৯ এপ্রিল ঘুর্ণিঝড়ের পরবর্তী সময় নগরীর বন্দরটিলায় তখন লাশের পর লাশ। লাশপচাঁ গন্ধে বাতাস তখন ভারী। চট্টগ্রামের অন্যন্যা নেতারা যখন নাকে রুমাল বেধে মায়াকান্নায় ব্যস্ত তখন একমাত্র উনিই কোমর বেধে একের পর এক লাশ দাফন করেছেন।’
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শুধু বুকেই নয় নিজের পোশাকেও ধারণ করে তিনি অন্তত গত ২০ বছরে উনাকে মুজিব কোট ছাড়া অন্য সবার মত শার্ট প্যান্ট, স্যুট বুট পড়া অবস্থায় আওয়ামী লীগের কোন মিটিং সমাবেশে কেউ দেখেনি? (ঘরে ছাড়া)। বঙ্গবন্ধুর পোশাকের অবমাননা করায় এমপি লতিফ সাহেবের উপর ক্ষেপার অন্যতম কারণ।
বিএনপি-জামাত গত ৫ই জানুয়ারি থেকে একটানা ৯৩দিন হরতাল অবরোধ করে জ্বালাও পো করে মেতে উঠেছিল টিক তখনি এই মহিউদ্দিন চৌধুরী এই বৃদ্ধ বয়সে চট্টলার রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ছিলেন।
এখনো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলেরা হরতাল ডাকলে কিংবা জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস বিরোধী যে কোন কর্মকান্ডে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নিজের অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে প্রতিরোধে নেমে যান।
চট্টগ্রামের গণমানুষের এই নেতা বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মহিউদ্দিন টানা ১৭ বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন।











