মাহফুজ হাসান: রাজধানী ঢাকাজুড়ে চলে রাজউকের নকশা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের মহড়া, আর এবার সে মিছিলে যোগ দিলি সাভারের আরেকটি চাঞ্ছল্যকর ঘটনা। ঘটনাস্থল পৌর এলাকার আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন বহুতল ভবন যার নকশা পাশ করা হয় ২০১৫ সালে। রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ ১৩ শতাংশ জমির উপর যে নকশা অনুমোদন করেন, সাম্প্রতি নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে তাঁর সাথে বিস্তর পার্থক্য দেখতে পান।
যোগাযোগ করা হলে রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, ভবন নির্মানে প্ল্যান মেনে না চলাতে নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য ২২ মে মালিকপক্ষকে নোটীশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ এতে কর্ণপাত না করায় সাভার থানার মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখবার নির্দেশ প্রদানপূর্বক সাত দিনের কারণ দর্শানো নোটীশ পাঠানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় রাজউক আইনের ৩০৭/৩০৯ এবং ৩১০ ধারাকে তোয়াক্কা না করেই ১০ তলা ঐ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল মহাসড়কের পাশে কোন রকমের অনুমোদন না নিয়েই ভবন নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে। আর সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগটি হল আশেপাশের ভবনগুলোর জন্য কোন জায়গা না রেখেই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে আর বেসমেন্টেরও নেই কোন অনুমোদন।
ভবন মালিক আব্দুস সালাম গং কিভাবে রাজউকের নির্দেশ উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তা জানতে চাওয়া হলে ঐ কর্মকর্তা জানান, আগে আব্দুস সালামকে সাভার পৌরসভা থেকে কাজ বন্ধ্বের নির্দেশ দেয়া হলেও রাজউকের নকশার দোহাই দিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন। এখন সরজমিনে যখন প্রমাণ পাওয়া গেল যে তারা এই নকশাও মানছেন না তখন তাঁদের কাজ বন্ধের সব চেষ্টা করে যাচ্ছে রাজউক। কিন্তু ২০১৫ সালে পৌরসভার কাছে যখন স্থানীয়ভাবে ভবন প্ল্যান পাশ করবার ক্ষমতা আবার ফিরিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, তখন থেকে রাজউকের তদারকি খর্ব হচ্ছে।
সাভার পৌরসভার কতৃপক্ষের কাছ থেকে এ ব্যাপারে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। তাঁদের মতে রাজউকের প্ল্যান এর কোন কপি তাঁদের কাছে না থাকায় তাঁদের দ্বারাও কাজের তদারকি সম্ভব নয়। তারা মনের করেন এমতবস্থায় রাজউকের উচিত যদি নকশাবহির্ভূত কোন নির্মাণকাজ পরিচলানা হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা।
জানা যায়, কথিত নির্মাণাধানী ভবনটির নির্মাণকাজে জমি জালিয়াতির মাধ্যমে সাভারের ব্যাংক এশিয়ার হেমায়েতপুর শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহন করা হয়েছিল যা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাব্র অভিযোগ প্রেরণ করা হয় এবং পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন আছে।
সাভার থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানা, মালিকপক্ষকে নোটীশ প্রদান করা হয়েছে আর সমস্ত বিষয়টি দেখভাল করতে একজন এস আই কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

