হাটহাজারী থেকে তিন জেএমবি আটক,বিস্ফোরক উপাদান ও সামরিক বাহিনীর পোশাক উদ্ধার

রোববার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. বাবুল আক্তার বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে মো. নাঈম (২৫), নালাপাড়া থেকে মো. ফয়সাল (২৫) ও কসমোপলিটন এলাকা থেকে মো. রাসেলকে (২৫) আটক করা হয়। তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং চট্টগ্রামে জেএমবির প্রধান মো. ফারদিনের সহযোগী। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া এমকে ডাবলওয়ান স্নাইপার রাইফেলের নিশানা কখনো বিফল হয় না। দেড় হাজার গজ দূর থেকেও নিশানা রাখা যায়। জেএমবির হাতে এটি কীভাবে গেল- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আমানবাজার এলাকার হাজী ইসহাক ম্যানসন নামে দোতলা বাড়ির মালিক হাজী ইসহাক দোতলায় থাকেন। নিচতলায় দুটি ফ্ল্যাট। ডিবি বলছে, নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে জেএমবির প্রধান ফারদিন থাকতেন।

বাড়ির মালিক মো. ইসহাক জানান, ৬ মাস আগে নাফিস নামে একজন ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মাসিক ৬০০০ টাকায় বাসাটি ভাড়া নেন। কোরবানি ঈদের আগে নাফিসের স্ত্রী ও সন্তান ঢাকায় চলে যায়। মাঝে মাঝে নাফিস এই বাসায় আসতেন। জিজ্ঞেস করলে জানাতেন, বাসার কাজে পরিবার বাইরে আছে। ১০ দিন আগে নাফিস ওই বাসায় সর্বশেষ আসেন। তাদের আচরণে কোনো সন্দেহ হয়নি। গতকাল রাতে অভিযানের পর পুলিশকে বাসা থেকে অস্ত্র বের করতে দেখেছি।

ওই বাসার সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে ৮-১০টি টিনের ঘর রয়েছে। সেখানকার ভাড়াটিয়ারা জানান, নিচতলার ওই ঘরের ভাড়াটিয়াদের আচরণে তেমন সন্দেহের কিছু দেখা যায়নি। তাদের চলাফেরা খুব স্বাভাবিক মনে হয়েছিল।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. বাবুল আক্তার বলেন, উদ্ধার হওয়া এমকে ডাবলওয়ান স্নাইপার রাইফেলের নিশানা কখনো বিফল হয় না। দেড় হাজার গজ দূর থেকেও নিশানা রাখা যায়। জেএমবির হাতে এটি কীভাবে গেল- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নগরের সদরঘাট এলাকায় তহবিল সংগ্রহের জন্য ছিনতাই করতে গিয়ে গ্রেনেড বিস্ফোরণে জেএমবির দুই সদস্য নিহত হন। আহত হন ফারদিনসহ জেএমবির কয়েকজন সদস্য।

ঢাকার মিরপুরে ৬তলা একটি বাসায় গত বুধবার রাত থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই বাড়ির ৬তলা থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় হাতে তৈরি ১৬টি গ্রেনেড (আইইডি—ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), দুটি ককটেল, বোমা বা গ্রেনেড রাখার একটি বিশেষ জ্যাকেট ও গ্রেনেড তৈরির প্রচুর উপকরণ। এর আগে বুধবার রাতে ডিবি জেএমবির এক সদস্যকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাত ২টার দিকে মিরপুরের ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করা হয়। ডিবি বলেছে, আটক ৭ জনের মধ্যে ৩ জন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বাকি চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image