বৃহস্পতিবার,২৪ আগস্ট ২০১৭
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
শাহিদুল ইসলাম (৫০) দেড় বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন চারা রোপন করেছিলেন। বন্যায় তার সেই রোপা আমন ধানের চারা দীর্ঘদিন পানির নিচে ডুবে থাকায় পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
তিনি কী করে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। বিবর্ণ ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।
ছবি তুলতে গেলে শাহিদুল ইসলাম বিলাপ করে বলেন, ‘বাবা, হামরা মরি গেইনু বাহে। বানে সউগ শ্যাষ করি ফালাইলো। হামরা একন কোনটে যামো। সমিতির লোনের ট্যাকা শোধ করমো ক্যানকা করি। হামার দুঃখগুলো একনা পেপারোত দ্যান। সরকার দেখুক।’
মিঠাপুকুর উপজেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে মিলনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মিলনপুর গ্রামে সরেজমিনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্থ আমন ধনের ক্ষেতের পাশে বসে উদাস চোখে চেয়ে ছিলেন আরেক প্রান্তিক চাষী আবদুল হাই (৩৫)। তিনি এলাকার এক ব্যক্তির কাছে ৬০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে আমন রোপন করেছিলেন।
আমন চারা রোপনের খরচের জন্য আবদুল হাই স্থানীয় একটি সমিতির কাছে সুদের ওপর ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তার রোপা আমন ধানের চারা পুরোটাই দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় নষ্ট হয়েছে।
অপর প্রান্তিক কৃষক শামছুল ইসলামের অবস্থাও শোচনীয়। একই সমিতি থেকে ১০ হাজার টাকা সুদের ওপর ঋণ নিয়েছেন তিনি। ওই টাকা পুরোটাই বিনিয়োগ করেছেন ৩৭ শতক জমিতে রোপা আমন ধানের ক্ষেতে। তার সমস্ত রোপা আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩৫ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। শাকসব্জি চাষ হয়েছে ১০ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে। বন্যায় রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমির। এসব জমিতে ১৫ হাজার ৫৪০ মেট্রিকটন ধান ফলনের লক্ষমাত্রা ছিল। যার বর্তমান বাজার দর ৫২ কোটি ৮৩ লক্ষ ৬ হাজার টাকা।
বন্যায় ৪শ’ হেক্টর জমির শাক সবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষি বিভাগ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৬ হাজার মেট্রিকটন। বর্তমান বাজার দর হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ ১২ কোটি টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসার খোরশেদ আলম বলেন, এবারের বন্যায় স্মরণকালের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অধিদফতরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন-অর রশীদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।



