ব্রেকিং নিউজ

আদি পর্বের মানুষ

প্রাচীন মিসরে পণ্যের বিনিময় প্রথা

সোমবার, ৪ মে, ২০১৫

ফিওদর করোভকিন

ঢাকা ঃ চাষীরা মাটির সঙ্গে ডালপালা, নলখাগড়া মিশিয়ে ঘর তৈরি করত, পুরু মোটা কাপড় বুনত, লাঙ্গল-কোদাল ইত্যাদি বানাত, তৈরি করত মাটির বাসন-কোসন। যারা এসব কর্ম অন্যদের চেয়ে দ্রুত ও উৎকৃষ্টভাবে করতে পারত তারা ধীরে ধীরে কৃষিকর্ম ছেড়ে দিল। পেশার দিক দিয়ে তারা কেউ হল ছুতোর, কেউ কুমোর, কেউ-বা তাঁতি কিংবা অন্য কোনো ধরনের কারিগর। ছেলেপিলেরা বাল্যকাল থেকেই বাবা-মাকে সাহায্য করতে করতে নিজেরাও রপ্ত করে নিল সেই কাজ, তারাও হল কারিগর। বিশেষভাবে দক্ষতার প্রয়োজন হতো তামা থেকে অস্ত্রশস্ত্র বা অন্যান্য শ্রম-হাতিয়ার তৈরি কিংবা সোনা দিয়ে গহনা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে।

প্রথমদিকে হস্তশিল্পী বা কারিগররা জিনিস তৈরি করত নিজের গোষ্ঠীর লোকজনের জন্য, বিনিময়ে গ্রহণ করত রুটি বা অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। কিন্তু পরে তারা নিজেদের তৈরি দ্রব্যাদি ভিন্ন গোষ্ঠীর লোকদের কাছেও বিনিময় করতে লাগল।

জিনিসপত্র লেনদেন বা বিনিময়ের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা হিসেবে নীল নদের জলপথ ছিল অত্যন্ত সুবিধাজনক উপায়। গম, কাঠ ও নানাবিধ হস্তশিল্প বোঝাই নৌকা নীল নদের ওপর ভেসে যেত উজানে-ভাটিতে সারা বছর ধরে। নীল নদের তীরে গড়ে উঠল ছোট-বড় শহর। ওই সব শহরেই হতো এসব লেনদেন, সেখানেই বাস করত এবং কাজকর্ম করত কারিগরের দল।

মানুষের বিপুল শ্রমের বিনিময়ে নীল নদের উপত্যকার পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হচ্ছিল। মনুষ্য বসবাসের প্রায় অনুপযোগী একটি স্থান থেকে মিসর রূপান্তরিত হচ্ছিল ঘন বসতিপূর্ণ কৃষিপ্রধান দেশে।

প্রাচীন মিসরীয় সমাজে শ্রেণীর উদ্ভব : আদিম শিকারি জীবনে একজন মানুষের পক্ষে শুধু নিজের খাদ্য সংস্থান করাই সম্ভব ছিল। অবস্থা এমন ছিল যে, এমনকি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা পর্যন্ত নিজেদের খাবার নিজেরাই জোগাড় করতে বাধ্য হতো। নিজের জন্য অন্য লোকজনকে খাটিয়ে নেয়ার কোনো সুযোগই ছিল না তখন। নিজের পরিশ্রম ও চেষ্টায় একজন যা সংগ্রহ করতে পারত, সেটুকুই সে ভোগ করতে পারত। মিসরের কৃষিজীবী মানুষ নিজেদের শ্রমে যে খাদ্যসামগ্রী ফলাতে পেরেছিল, শিকারি মানুষ সে পরিমাণ খাদ্যবস্তু কখনও সংগ্রহ করতে পারেনি। নীল উপত্যকার উর্বরা জমিতে ফসল ফলত প্রচুর, বিশেষত লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষের ফলে। যতটুকু তাদের প্রয়োজন ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি ফসল ফলাত তারা এবং গৃহপালিত পশুর সংখ্যাও ছিল প্রয়োজনাতিরিক্ত। ক্ষেতে কাজ করে ফসল যারা ফলাত, তাদের অন্নসংস্থান সে ফসল থেকে হতো তো বটেই, উপরন্তু বেঁচেও যেত। এরকম অবস্থায় মানুষকে আরও বেশি কাজ করিয়ে আরও বেশি বাড়তি ফসল পাওয়ার চিন্তা মাথায় এলো। উদ্দেশ্য, সংগৃহীত খাদ্যশস্য ও পশুর বিনিময়ে তামা, সোনা, রুপা এবং কারিগরদের তৈরি নানা হস্তশিল্পদ্রব্য পাওয়া। মিসরে কৃষিব্যবস্থার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে শোষণ করা সম্ভবপর হয়েছিল। মানুষকে শোষণ করা- এর অর্থ, অন্যের মেহনতের ফল তাকে ভোগ করতে না দিয়ে নিজে ভোগ করা। শোষণ মানে অন্যের শ্রমে উপার্জিত জিনিস নিজে ভোগ করা।

অনুবাদ : হায়াৎ মামুদ