বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর,২০১৪
সিটিজিবার্তা২৪ নিউজ ডেস্ক।। বাংলাদেশের ‘বিজনেস মোগল’ নামে পরিচিত ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসের সম্প্রতি দেশে গণমাধ্যমের আলোচনার বিষয় উঠেছেন। সুইস ব্যাংকে আটকে পড়া ৫১ হাজার কোটি টাকা দেশ ফিরিয়ে আনাসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৮ ডিসেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে জানা গেছে।
কিন্তু তিনি কী এমন ব্যবসা করেন যে সুইস ব্যাংকে এই বিপুল অংকের অর্থ তিনি রেখেছিলেন? বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং অনলাইন সূত্র যাচাই করতে গিয়ে তার নানা পরিচয় এখন গণমাধ্যমের হাতে। কোথাও তিনি ‘প্রিন্স মুসা’, কোথাও তিনি ‘অস্ত্র ব্যবসায়ী’ আবার কোথাও তিনি ‘জনশক্তি রপ্তানিকারক।’
তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে তাকে ‘বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানির জনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঠিক কী কারণে সুইস ব্যাংকে তার ৫১ হাজার কোটি টাকা আটকা (ফ্রিজ) পড়ে আছে তা জানা যায়নি।
তথ্যপ্রবাহ মাধ্যম উইকিপিডিয়া ও মুসার নিজস্ব ওয়েবসাইটের দেয়া তথ্য মতে, মুসা বিন শমসেরের জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ অক্টোবর, ফরিদপুরে। পড়াশোনা করেছেন ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া। ওই একই ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিও লাভ করেন।
দেশভাগের আগে জন্মানো মুসা বিন শমসের তার অর্থনৈতিক উত্থানের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে শুরু করেছিলেন জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসা। ১৯৭০ এবং ১৯৮০ সালের দিকে জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্ত্র বাণিজ্যেও নাম লেখান তিনি। তবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমল থেকেই তার ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। সে সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহচর্য পান, যা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কাজে লাগান। এ সময়েই মূলত ১৯৭৪ সালে তিনি জনশক্তি রপ্তানি কাজে গড়ে তোলেন নিজের প্রতিষ্ঠান ‘ড্যাটকো’। ড্যাটকোর প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৬ সালের দিকে মুসা বিন শমসের সৌদি আরবে একটি বাণিজ্যিক ভ্রমণে যান। সে সময় তিনি সৌদি রাজ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্মানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেই অনুষ্ঠানে আরব বিশ্বের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসাসফল হওয়ার পর মুসা বিন শমসের জনশক্তি রপ্তানির কাজে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর দিকে হাত বাড়ান। এ সময় বিশেষত লিবিয়াতে কয়েক হাজার মানুষ পাঠান তিনি। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও প্রবেশ করেন অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। সত্তরের দশকের সেই সময় পশ্চিমের বেশ কিছু গণমাধ্যম এশিয়ার বিজনেস টাইকুন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় মুসা বিন শমসেরকে। একই সঙ্গে এও বলা হয়, তিনি আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।
অর্থ আর বাণিজ্যের হাত ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনেও হাঁটতে চেয়েছিলেন এই বাংলাদেশি বিজনেস টাইকুন। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি এবং বিশেষত টনি ব্লেয়ারকে তিনি পাঁচ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লেবার পার্টির পক্ষ থেকে এই ডোনেশন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরবর্তীতে তার সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক দলের সংশ্রবের সংবাদ পাওয়া যায়নি। কিন্তু তিনি আসলে কখন থেকে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তা জানা যায়নি।
২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘বিজনেসপণ্ডিত’ নামের একটি অনলাইন পত্রিকা বিশ্বের প্রধান দশ অস্ত্র ব্যবসায়ীর একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকার আট নম্বরে উঠে আসে মুসা বিন শমসেরের নাম। সেখানে বলা হয়, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো ক্ষেপণাস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত মুসা বিন শমসের। এছাড়া তার বিলাস বৈভবের কথা বলতে গিয়ে বলা হয়, তার নিজস্ব শতাধিক গাড়ির বহর এবং হীরে খচিত জুতা রয়েছে। যে জুতার মূল্য প্রায় তিন মিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি ম্যাগাজিনে লণ্ডনে বসবাসরত মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই ম্যাগাজিনে মুসা বিন শমসেরের জবানিতে তার জীবনযাত্রা, আর্থিক সামর্থ ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হয়। ম্যাগাজিনে তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় সাত বিলিয়ন ডলার (৫৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা প্রায়)। প্রতিবেদনে মুসা বিন শমসেরের আয়, আয়ের উৎস, জীবনযাপনের কথা যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা দুদকের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে বলেই এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper


