ব্রেকিং নিউজ

সিলেটে গৃহকর্তৃর নির্মম নির্যাতনের শিকার কিশোরী গৃহকর্মী

বুধবার , ০১ জুলাই ২০১৫ , বিশেষ প্রতিবেদক , সিটিজি বার্তা ২৪ ডটকম, সিলেট  ঃ                                                                            তুচ্ছ কারণে সিলেটের শাহপরানে গৃহকর্তৃর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে কিশোরী গৃহকর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরীকে এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে জুহেনা বেগম নামে (১৪) ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সার্ভিস সেন্টার (ওসিসি) তে ভর্তি করেছে।

শাহপরান থানাধীন নগরীর উপশহর ই-ব্লকের ২নং রোডের ১৯ নং বাসার চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে গৃহকর্তৃ প্রবাসীর স্ত্রী গৃহিনী ইমা রহমানকে (৩০)।

গ্যাসের চুলায় ছোলা পুড়িয়ে ফেলায় ইমা রহমানের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় ওই গৃহকর্মী। গৃহপরিচারিকা জুহেনা বেগমকে রান্না ঘরে ওড়না দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধরের পর এক পর্যায়ে প্লেইট ভেঙে কাঁচ দিয়ে তার দু’হাত জখম করে।

রোববার বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে। জুহেনা তেররতন এলাকার নাজিম মিয়ার ভাড়াটে আজিজুর রহমানের মেয়ে। আর নির্যাতনকারী গৃহিনী ইমা রহমান সিলেটের বিয়ানীবাজারের আঙ্গুরা মামনপুর গ্রামের প্রবাসী মাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

এদিকে, সোমবার সেহেরির পূর্বে মেয়েটির পিতা মেয়েকে নিয়ে স্থানীয়দের কাছে এ বিষয়টি অবগত করলে তেররতন এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ উপশহরের ওই বাসায় গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

খবর পেয়ে শাহপরান থানার এসআই হাদিউল ও এএসআই জনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে ওই ভবনের তৃতীয় তলায় অভিযান চালান। সেখান থেকে নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত রক্ত লাগানো ভাঙা প্লেইটের কয়েকটি অংশ ও ভাঙা বাটি জব্দ করেন।

ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ওই দিন রাতে বাসার গৃহিণী ইমা রহমান (৩০) আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সোমবার দুপুরে ইমাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে শাহপরান থানা পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করে।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ শুরু করার প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর ওই গৃহিনী বাসার দরজা খোলেননি। পরে গৃহিনী ফোন করে অজ্ঞাত এক যুবককে তার বাসায় নিয়ে আসলে তখন তিনি বাসার দরজা খুলে দেন। তখন ওই যুবক নিজেকে তাদের আত্মীয় পরিচয় দেন। এমনকি তখন তিনি পুলিশকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বেশ কয়েকবার ম্যানেজ করারও চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

গৃহপরিচারিকা জানায়, রোববার গৃহিনী ইমা বেগম (৩০) তাকে গ্যাসের চুলায় ছোলা সিদ্ধ দেয়ার কথা বলেন। ছোলা রেখে এসময় সে অন্য কাজে চলে যাওয়ায় ছোলা পুড়ে যায়। পরে গৃহিনী ইমা প্রথমে মারধর করেন। এরপর তিনি উত্তেজিত হয়ে তার পড়নের ওড়না দিয়ে বেঁধে রান্না ঘরে মারধর করেন। তবুও তিনি ক্ষান্ত হননি। পরে কাঁচের প্লেইট ভেঙে তার দুহাতে কাটা শুরু করেন। এমনকি তখন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দিয়ে মেঝেতে পড়া রক্তের দাগ ও বাসার অন্যান্য রুম পরিষ্কার করান। রুম পরিষ্কার করার সময় গৃহিনী ইমা রান্না ঘর থেকে দা নিয়ে এসেও হত্যা করার হুমকি দেন।

শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশ নির্যাতনের শিকার মেয়েকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সার্ভিস সেন্টার (ওসিসি) তে ভর্তি করেছে। পুলিশ মহিলাকে রাতেই গ্রেফতার করেছে এবং সোমবার তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।