শনিবার, ০৪ জুলাই ২০১৫, সিটিজি বার্তা ২৪ ডটকম ঃ
রাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা ছাড়া ব্যক্তিগত কোন প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করবে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সিদ্ধান্তের ফলে এমন কয়েক হাজার অভিযোগ ফাইলবন্দী হয়ে আছে দুদকে। এতে একদিকে মামলা জট যেমন বাড়ছে; অন্যদিকে সুবিচার বঞ্চিত হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা। কমতি নেই হয়রানি ও ভোগান্তির।
বিচারপ্রার্থীরা যেমন; তেমনি দুদকও রয়েছে এই তদন্তভার থেকে বাঁচতে আইন সংশোধনের অপেক্ষায়।
দুদক বলছে, সরাসরি রাষ্ট্রের স্বার্থ ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ের দুর্নীতির অভিযোগ আর তদন্ত করবে না সংস্থাটি। তবে বেসরকারি পর্যায়ের অভিযোগের সঙ্গে কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকলে কেবল সেই অংশটুকুর তদন্ত করবে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন এ সংস্থাটি। দুদক চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সকল প্রকার দুর্নীতির সমস্যা সমাধান না করে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দূর করতে এ ধরনের চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে প্রতিদিনই ব্যক্তিগত পর্যায়ের শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে দুদকে। যেগুলোতে শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বের বিষয় জড়িত রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে দুদককে বর্তমানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যক্তিপর্যায়ের সমস্যা ও অভিযোগ সমাধান করতে গিয়ে দেখা যায় সরকারি অতি গুরুত্বপূর্ণ মামলা বা অভিযোগ সমাধান করা সম্ভব হয় না। এতে এসব রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধান করতে অনেক সময় পার হয়ে যায়। তাছাড়া জনবল সংকট বা কাঠামোও নেই। ফলে বেসরকারি খাতের শত শত অভিযোগ দুদকের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। যেসব দুর্নীতি প্রাইভেট পার্সন টু প্রাইভেট পার্সন হয় সেগুলো আমরা করতে চাচ্ছি না। তবে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তি যদি জালিয়াতির মাধ্যমে কোন বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আত্মসাত করে সেগুলো আমরা তদন্ত করব। তাছাড়া ২০১৩ সালে সংশোধনীতে দুদক আইনে ৪২০ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ধারায় সরকারি-বেসরকারি খাতের সব ধরনের প্রতারণামূলক অভিযোগ দুদককে দেখতে বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটা সম্ভব নয়। চেয়ারম্যান বলেন, ৪২০ ধারার পাশাপাশি ঢালাওভাবে ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯ ও ৪৭১ সব ধারা দুদক আইনের তফসিলভুক্ত করা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে লিখিত প্রস্তাব করেছি, সরকারি সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করবে দুদক।
২০১৩ সালের ২০ নবেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশোধিত আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এতে দ-বিধির ৪২০, ৪৬২ এ ও বি, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, ৪৭৭-এ ধারাগুলো দুদক আইনের তফসিলভুক্ত করা হয়েছে। ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা হয়। অন্য ধারাগুলো অর্থ আত্মসাত ও জালিয়াতি-সংক্রান্ত অপরাধের। আইন সংশোধনের ফলে এসব মামলার তদন্তের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই পড়ে দুদকের উপর। এ ধারাগুলো ২০১৩ সালের সংশোধিত দুদক আইনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার্য ও পুলিশের তদন্তযোগ্য ছিল। কিন্তু দুদক আইনে অন্তর্ভুক্ত করায় এখন এসব ধারার অপরাধ ম্যাজিস্ট্রেট যেমন আমলে নিতে পারছেন না, তেমনি পুলিশও তদন্ত করতে পারছে না।
অপরদিকে তদন্তের জন্য দুদকের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এবং এসব ধারার অপরাধ বিচারে পর্যাপ্ত বিশেষ জজ আদালত না থাকায় অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় বিচারাধীন থাকা এ ধরনের লক্ষাধিক মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব ধারার মামলা বিচার করতে না পারায় বিচারপ্রার্থী জনগণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এসব মামলায় বাদী ও বিবাদী উভয়ের সম্মতিতে অনেক সময় অভিযুক্তদের জামিন প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসব ধারা দুদক আইনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটরা জামিনের প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন না।
দুদকের এসব মামলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গ বা জাল দলিল সৃজন করা বিষয়ে দ-বিধির ৪০৮ ও ৪০৯ এবং ১৬৭ ধারা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এ তফসিলভুক্ত রয়েছে। ফলে এই আইন সংশোধন করে নতুন করে ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯ এবং ৪৭১ ধারা অন্তর্ভুক্তির আবশ্যকতা পরিলক্ষিত হয় না। এ অবস্থায় দুদক আইন থেকে উল্লেখিত ছয়টি ধারা প্রত্যাহার করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, এসব ধারার হাজার হাজার মামলার নথি এখন দুদকের ঘাড়ে এসে চেপেছে। থানা ছাড়াও আদালত থেকেও এ ধরনের মামলা তদন্তের জন্য দুদকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
সূত্র ঃ শীর্ষ নিউজ
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper