শনিবার, ৫ মার্চ, ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম : নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। এগিয়ে চলার এ পথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিপ ইয়ার্ড শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
শনিবার সকালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে এফএমসি ডক ইয়ার্ডে দুইটি জাহাজ নির্মাণসহ তিনটি প্রকল্প কাজের উদ্বোধনী ও ১৮ টি পন্টুন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের এফএমসি ডকইয়ার্ড লিমিটেড বিআইডব্লিউটিএ’র জন্য অত্যাধুনিক স্পেশাল ইন্সপেকশন মাল্টিপারপাস সার্ভে ভ্যাসেল ও ৫৩ টি বয়া, বিআইডব্লিউটিসির ৫০০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতার কোস্টাল প্যাসেঞ্জার ভ্যাসেল নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে।
এ সময় নৌ মন্ত্রী ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ২০ ড্রেজারের সংগ্রহ প্রক্রিয়া ডিপিএম (ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতির পরিবর্তে ওপিএম (ওপেন প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতিতে সংগ্রহ করার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘আগের পদ্ধতিতে কাজ হলে ড্রেজারগুলো নৌ বাহিনীর মাধ্যমে সংগ্রহের কথা ছিল। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর দেশের সকল ক্লাস শিপ বিল্ডার এ দরপত্রে অংশ নিতে পারবে।’
এফএমসি ডকইয়ার্ডের সিইও মো: ইয়াছিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত সচিব অশোক মাধব রায়,বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল রিয়াজউদ্দীন আহমেদ, মার্কেন্টাল মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল অফিসার ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফএমসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাতুনে জান্নাত।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে তখন নৌ পরিবহন খাতের বেহাল দশা ছিল। ২৮ বছর পূর্বে কেনা জাহাজ দিয়ে এ খাতটি চলছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সাত বছরে নৌ পরিবহন খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সাতটি ড্রেজার ক্রয় করা হয়েছে, ২০টি ড্রেজার নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া সমুদ্রের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তিনটি স্ক্যাবেটর জাহাজ ক্রয়, দশটি ফেরি ক্রয়, যাত্রী পরিবহনে দুইটি জাহাজ নির্মাণ, লঞ্চ উদ্ধারের জন্য দুইটি উদ্ধারকারী জাহাজ নির্মাণ করে সরকার নৌ পরিবহন খাতকে আরো গতিশীল করেছে। নৌখাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।’
চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে শাহজাহান খান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আমাদের টার্গেট ছিল ২০১৬ সালের মধ্যে ২০ লাখ টিইউইএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর তার সক্ষমতার মাধ্যমে এক বছর পূর্বেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে গেছে। এছাড়া ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মংলা সমুদ্র বন্দর শুধু লোকসানের মুখ দেখেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মংলা সমুদ্র বন্দর লাভজনক হয়েছে। গত ২০১৪ সালে ৬০ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে ৭০ কোটি টাকা লাভ করেছে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিহাস।’

