শনিবার, ১৯ মার্চ ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)। পাশাপাশি আটকের সূত্র ধরে লিবিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সমর আলী (২৫) নামে এক অপহৃতকে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে আজ শনিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত টানা তিনদিন রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- আব্দুল কাইয়ুম (৪৪), খোকন আহম্মেদ আজগর ওরফে আলী (৩০), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩০), মো. নাসির উদ্দিন (৪০), ফারুকুল ইসলাম রাসেল (৩১), মো. রুবেল হাওলাদার (২৯) ও মো. বাদল হাওলাদার (৩৫)।
শনিবার র্যাব-৩ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘অপহৃত সমরের পিতা কনু মিয়াকে এই চক্রটি জানায় যে, সাড়ে চার লাখ টাকা দিলে তার ছেলে সমরকে বিদেশে পাঠানো যাবে। সেই চুক্তি অনুযায়ী বিমানবন্দরের ওপেন হোটেলে কাইয়ুমকে দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন কনু মিয়া। বাকি দুই লাখ টাকা বিদেশে যাওয়ার পর দিলেও হবে বলে চক্রটি জানায়। কিন্তু সুদানে যাওয়ার পর সমরকে জিম্মি করে কনু মিয়ার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। টাকা না দিলে তারা সমরের কিডনি বিক্রি করে দেবে বলে হুমকি দেয়।’
তিনি জানান, বিভিন্ন সময় চক্রটির হুমকির প্রেক্ষিতে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ টাকা দেন কনু মিয়া। এর আগে সমরের পরিবার সিলেটের সুনামগঞ্জের কোম্পানিগঞ্জ থানাকে ঘটনাটি অবগত করে। কিন্তু থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো সাহায্য করেনি। পরে র্যাবের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান এবং ভান্ডারিয়া ও পিরোজপুর থেকে ওই ৭ জনকে আটক করা হয়। সুদানে অবস্থানকারী শাহীন, দেলোয়ার, অলিল, সোহাগ, জহির ও লিটন নামে কয়েকজন এ চক্রের সদস্য। তারা ভিকটিমকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ে সহায়তা করত। তারপর সেখান থেকে লিবিয়ায় পাচার করে দিত। তবে লিবিয়ায় পাচারের সময় অনেকে মারাও যেত।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) আরো বলেন, ‘আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়ার বেনগাজী থেকে সমরকে উদ্ধার করা হয়। তবে লিবিয়ায় এ চক্রের সদস্য ইসমাইল ওরফে রাসেল, রায়হান ওরফে সবুজ, রাকিব ও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ভিকটিম সমরকে লিবিয়ার ত্রিপলীতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়ে আসা হয়।’

