মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বুধবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৬ ২১:৪০ ঘন্টা
চট্টগ্রাম : শক্তিশালী ভূমিকম্পে বন্দর নগরীতে এ পর্যন্ত ৭টি ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান বিশু কুমার দাশ সিটিজিবার্তা২৪ডটকম কে গঠনার সত্যতা শিকার করে জানান, ভূমিকম্পের কম্পনটা জোরালো হয়েছে যার ফলে নগরীতে বেশ কয়েকটি ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়েছি এবং আমাদের বিভিন্ন ইউনিটকে গঠনাস্থলে দ্রুত পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বন্দর নগরী সহ তীব্র ভূমিকম্পে কাঁপলো সারাদেশ। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। এর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে। ভূমিকম্পে গভীরতা ছিল ১২৫ কিলোমিটার। একই সময় ভূকম্পন অনুভূত হয় পাশের দেশ ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানেও।
মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানায়, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের মাওলাইকে। ভূমিকম্পে গভীরতা ছিল ১৩৫ কিলোমিটার। আনুমানিক স্থায়ীত্বকাল ছিল ১ মিনিটের মতো। আর এতেই হেলে পড়েছে বন্দর নগরীর বেশ কয়েকটি ভবন।
হেলে পড়া ভবনগুলো হলো :
নন্দনকানন রাইফেল ক্লাবের উত্তরে মুসাফিরখানা মসজিদের পাশে ১১ তলা একটি নির্মাণাধীন ভবন পশ্চিম-উত্তর দিকে হেলে গেছে।
লাভ লেইন মোড়ে ১৭৩ জুবিলি রোডে তিনতলা একটি আবাসিক ভবন দক্ষিণ দিকে হেলে পড়েছে।
রেয়াজউদ্দিন বাজার তামাকুন্ডিলেন আলমাস শপিং মল।
সাগরিকা শিল্প এলাকার ভিএস গার্মেন্টের পরিত্যক্ত গুদাম।
নগরীর কোতোয়ালি থানার জুবলি রোডের বন্দর গাঁ হোটেল।
হালিশহর বি ব্লকের একটি ভবন।
এছাড়া চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি ব্লকের আট নং সড়কের একটি ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মাত্রা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানের তাৎক্ষনিক পর্যবেক্ষনে এ তথ্য জানা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।
নগরীর ব্যাস্ততম বানিজ্যিক এলাকা রেয়াজউদ্দিন বাজারের তামাককুন্ডি লেইনের গলির মুখে আলমাস শপিং কমপ্লেক্স নামের ভবনটি ভূমিকম্পে হেলে পড়ে। কিন্তু উৎসুক জনতা হেলে পড়া ভবনটি এক দেখার জন্য রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে ভির করায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
নগরীর জুবিলী রোড এলাকার বন্দর গাঁ আবাসিক হোটেলের তিন তলা ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া যায়। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। উভয় ভবনের বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে আসতে সক্ষম হয়েছে।
নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় ছয়তলা একটি ভবন আংশিক হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এতে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানাগেছে। হেলেপড়া ভবনটি ও পাশের ভবনের বাসিন্দারা নিরাপদে নিচে নেমে আসেন।
হেলে পড়া ভবনগুলোতে এখনো কোন উদ্ধারকারী দল আসেনি বলে সিটিজিবার্তা২৪ডটকম কে জানায় স্থানীয় বাসিন্ধারা।
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকে আট নম্বর রোডের ৫৩৮ নম্বর ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি সিটিজিবার্তা২৪ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন জানিয়েছেন চান্দগাঁও থানার ওসি আবু মো.শাহজাহান কবির। ভবনটির মালিক জনৈক নূরুল আজিম বলেও জানিয়েছেন থানা ভারপাপ্ত কর্মকর্তা।
চান্দগাঁও থানার ওসি আবু মো.শাহজাহান কবির জানান, ভূমিকম্পের আধাঘণ্টার মধ্যে নূরুল আজিমের ভবনটি পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার খবর থানায় আসে। আমরা থানা থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলে পড়ার সত্যতা পান।
‘পাশের বিল্ডিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে ছয়তলা ভবনটি।তবে পাশের ভবন থেকে এখনও প্রায় পাঁচ ইঞ্চি দূরত্বে আছে। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলেও তারা এখনো আসেনি। দুই ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা নিচে খোলা জায়গায় নেমে আসে। এসময় সবার চোখেমুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছোট শিশুরা ভয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে।

