আগ্রাবাদ পার্ক এখন প্রেম কেন্দ্র

ctgbarta24.com
Share

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৬

 

আজীম অনন ও মনির হোসেন ● অযত্ন আর অবহেলায় নগরীর আগ্রাবাদস্থ কর্ণফুলী শিশু পার্কের এখন বেহাল দশা। মূল ফটকসহ বেশিরভাগ রাইডের রঙ উঠে বিবর্ণ হয়ে গেছে। কয়েকটি রাইড আবার অচল পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। দর্শনার্থী কমে যাওয়ায় এ পার্কটি এখন প্রেমকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্কের বিভিন্ন কোণে এমনকি শিশুদের রাইডের মধ্যেই জুটিরা অন্তরঙ্গ সময় কাটায়। এতে বিব্রত হন সাধারণ দর্শনার্থীরা। এছাড়া পার্কের ভেতরের খাবারের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে আছে বেশি দাম নেয়ার অভিযোগ। সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের মূল ফটকটি দীর্ঘদিন রঙ না করার ফলে কালচে হয়ে গেছে।

মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই বাম পাশে লেক ভিউ রেস্টুরেন্ট। যে লেকের ওপর রেস্টুরেন্টটি অবস্থিত, সে লেকটির পানি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করার ফলে নোংরা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। লেকের মধ্যে স্থাপন করা পাথরের সাদা পদ্মফুল ও ব্যাঙগুলো ধূলা-বালিতে কালো হয়ে আছে। লেকের একপাশে দু’টি নষ্ট বোট ফেলে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ রাইডই পরিচর্যার অভাবে বিবর্ণ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ‘ওয়েল জার’ রাইডটি শুরু থেকেই বিকল বলে জানিয়েছেন পার্কের কর্মকর্তারা। সেটির নিচের চাকাগুলো পাংচার হয়ে আছে। এ সুযোগে রাইডটি এখন কপোত-কপোতিদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর স্থানে পরিণত হয়েছে। চার জুটিকে এ রাইডে অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে দেখা গেছে। একই অবস্থা পাশের শাপলা ফুলের রাইডটিরও। এ রাইডটিতেও জুটিরা বসে খোশগল্পে মেতে আছে।

প্রায় সবগুলো রাইডের ভেতরেই একাধিক জুটিকে অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে দেখা গেছে। রেসিং কার রাইডটির স্থানে কোন কার দেখা যায়নি। থ্রিডি সিনেমা ও পার্কের পানির ফোয়ারাটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল পড়ে আছে। ফোয়ারার নিচে ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব। দেখে মনে হয়, দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা হয়নি। পার্কের কিডস জোনটি তালা মেরে রাখা হয়েছে। অনেক শিশু এ জোনের সামনে গিয়ে মা-বাবার কাছে ঢোকার আবদার করে। কিন্তু তালা মেরে রাখার কারণে তারা ঢুকতে পারেনি।

বাচ্চাকে নিয়ে পার্কে আসা পাঠানটুলির গৃহিণী ইয়াসমিন আক্তার  বলেন, বাচ্চাকে কি রাইডে চড়াব, সব রাইডেতো বড়রা বসে আছে। দেখেতো মনে হচ্ছে এটা বড়দের পার্ক। যেদিকে দেখি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা। কিডস জোনের ভেতর জিরাফ, হাতি দেখে বাচ্চা আবদার করছে এখানে ঢুকবে। কিন্তু এখানেও তালা দেয়া। আর পুরো পার্কের যে অবস্থা, এককথায় জঘন্য। ভালোমতো ঝাড়ুও দেয়া হয় না, ধোয়া-মোছাতো দূরের কথা। শিশু পার্কে যদি বড়রাই এসে বসে থাকে, তাহলে শিশুরা কোথায় যাবে? এসব ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া দরকার।

পার্কের পাশের বিশাল মাঠটি অঘোষিতভাবে জুটিদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর স্থানে পরিণত হয়েছে। অন্তত ১০ জুটিকে এ মাঠের বিভিন্ন গাছের কোণে বসে আলাপরত দেখা যায়। অথচ মাঠের মধ্যেই দুজন আনসার সদস্য ছিল। তারা সেদিকে নজর না দিয়ে নিজেরা এক কোণে বসে গল্প করছিল।

আশপাশের দোকানিরা জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবস্থা আরো খারাপ থাকে। তখন আশপাশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পার্কে এসে সময় কাটায়। আনসার সদস্যরা কিছু বলে না। তারা শুধু ঘোরাঘুরি করে। এছাড়া মাঠটির একপাশে পার্ক কর্তৃপক্ষ সাইনবোর্ড লাগিয়েছে ‘ময়লা আবর্জনা ফেলা নিষেধ’। বাস্তবতা হচ্ছে সাইনবোর্ডের পাশেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ।

এদিকে, পার্কের ভেতরের খাবারের দোকানগুলো বাইরের চেয়ে বেশি দাম নেয় দর্শনার্থীদের কাছ থেকে। বাইরে যে মেরিডিয়ান চিপস ১৫ টাকায় পাওয়া যায়, এখানে তা বিক্রি হয় ২০ টাকায়। একটি কাপ আইসক্রিম বাইরে বিক্রি হয় ১৫ টাকা, কিন্তু এখানে কিনতে হয় ২০ টাকা দিয়ে। এভাবে প্রায় প্রত্যেকটি খাবারের দামই মূল দামের চেয়ে ৫-১০টাকা করে বেশি নেয়া হয়। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে পার্কে দর্শনার্থীও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তাই বিভিন্ন রাইডের অপারেটরদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে কর্ণফুলী শিশু পার্ক কতৃপক্ষ বলেন, চলমান বিভিন্ন মেলার ও বর্ষবরণে বিভিন্ন অনুষঠানের  কারণে পার্কে দর্শনার্থী আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তবে পার্কে শুধু জুটিরাই অন্তরঙ্গ সময় কাটায়, একথা ঠিক নয়। কোন জুটি বেশি অন্তরঙ্গ হলে আনসার সদস্যরা তাদের সাবধান করে দেয়। এজন্য ১৫ জন আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। আর ‘ওয়েল জার’ রাইডটি শুরু থেকেই বিকল ছিল। এটি চালুই করা যায়নি। পুরো পার্কের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য তিনজন কর্মচারী আছে। তারা নিয়মিত পার্কের বিভিন্ন রাইড ও স্থাপনা পরিষ্কার করে। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন জিনিস এখানে-সেখানে ও লেকের পানিতে ফেলে। তাই হয়ত একটু নোংরা হয়েছে। এগুলো আবার পরিষ্কার করে ফেলা হবে। আর ফোয়ারাটি বৃষ্টির পানি দিয়ে চালানো হয়। বৃষ্টি না হলে এটি বন্ধ থাকে।

তিনি জানান, পার্কে বর্তমানে ২৫টি রাইড আছে। প্রতিটি রাইডের জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ২৫ টাকা। প্রবেশমূল্য প্রতিজন ৪০ টাকা, যার মধ্যে যেকোন একটি রাইডে চড়া যাবে। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকে।TEXT_HERE

ছবি: আজীম অনন

ছবি: আজীম অনন

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ

মঙ্গলবার থেকে আবারও আন্দোলনে যাচ্ছে বাঁশখালীবাসী... নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৬ বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়ন কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প বিরোধী সংগঠন গণ্ডামারা বসতভিটা ও গোর...
সোমবার খুলছে প্রিমিয়ারের দামপাড়া ক্যাম্পাস... ক্যাম্পাস ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম রোববার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ চট্টগ্রাম: আগামীকাল সোমবার (২৫ এপ্রিল) থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্য...
৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ১০ মাত্রার হার্ট! ৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ১০ মাত্রার হার্ট! রোববার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ "ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ" শফিকুল ইসলাম জীবন : ঢাকায় নাকি সাড়ে সাত কিংবা...
একজন উদ্যোক্তা এবং আলোকিত মানুষ কিরণ সাইফুল...   একজন উদ্যোক্তা এবং আলোকিত মানুষ কিরণ সাইফুল জেনিফার আলম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম রোববার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ একজন উদ্যোক্তা এবং আলোকিত সফল মানুষ...
চট্টগ্রামে সাংবাদিককে স্বপরিবারে হত্যার হুমকি... রোববার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ সাংবাদিক জীবন কৃষ্ণ নাথ সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :  জাতীয় দৈনিক আমাদের সংবাদ পত্রিকা ও চট্টগ্রাম থেকে প্...



Leave a Reply