নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৬

চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১০৭ তম আসরে টেকনাফের শামসু বলী ১৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে রামুর দিদার বলীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মুকুট জয় করলেন।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১০৭ তম আসরের ফাইনালে যেন কেউ কাউকে ছাড় দিতে নাহি রাজি! ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন রামুর দিদার বলী লালদীঘির বলী খেলার মঞ্চে যদি টেকনাফের নবাগত শামসু বলীকে মাটিতে ফেলে দেন। শামসু বলীও ছাড় দিতে রাজি নয়। ঠিক পরক্ষণেই চেপে ধরে দিদার বলীকে পরাস্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এভাবে হাজার হাজার দর্শকের তুমুল করতালিতে চলতে থাকে প্রায় ৩৪ মিনিটের ধরে দুই বলীর লড়াই। এরমধ্যে তাদের মধ্যে মূল লড়াই চলে ২৭ মিনিট ২১ সেকেন্ড।
ততক্ষণে রেফারি ও কুস্তি প্রতিযোগিতার কমিটি ঘোষণা দেন কেউ কাকে যদি হারাতে না পারে তাহলে ফেয়ার কুস্তিগিরিকেই এবার চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। একথা শুনেই নিজের মুকুট ধরে রাখতে দিদার বলী নীতি বিরোধী খেলা শুরু করেন। এরপর মঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচ রেফারী আব্দুল মালেক প্রধান অতিথি আ জ ম নাছিরের সাথে আলাপ করে টেকনাফের শামসু বলীকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন।
বিগত ১৫ বছরের রেকর্ডকে ভেঙে টেকনাফের শামসু বলী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়েই ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১০৭ তম আসরের চ্যাম্পিয়নের মুকুট নিজের করে নেন। পাশাপাশি নিজের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট বিসর্জন দিতে হয়েছে দিদার বলীকে।
পরে চ্যাম্পিয়ন শামসু বলী ও রানার আপ দিদার বলীকে ট্রাফি ও নগর অর্থ পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী অন্য বলীদেরও পুরস্কার দেয়া হয়।

জব্বারের বলী খেলার ফাইনালে কক্সবাজার জেলা রামুর দিদার বলী ও টেকনাফের শামসু বলীর লড়াই। কেও কাওকে ছাড় দিতে নাহি রাজি।
প্রতিবছর ১২ই বৈশাখ চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই খেলা, যাকে ঘিরে বৈশাখী মেলাও গড়ে উঠেছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য আব্দুল জব্বার সওদাগর নামে এক ব্যবসায়ী এই খেলাটি শুরু করেন, যেটি এখনো জব্বারের বলী খেলা নামেই পরিচিত। এই প্রতিযোগিতায় ১৩ বার চ্যাম্পিয়ন হবার কারণে দিদারুল আলম ‘দিদার বলী’ নামেই বেশি পরিচিত ছিল।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১০৭ তম আসরের ফাইনাল লালদীঘির মাঠে গত ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন রামুর দিদার বলীকে পরাজিত করে ১৫ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন চ্যাম্পিয়ন টেকনাফের শামসু বলী।
গত ১৫ বছরের মধ্যে যে দু’বার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দিদার বলীর নাম নেই সে দু’বার তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেননি। মাঝখানে দুই বছর অর্থাৎ ২০১২ এবং ২০১৩ সালে তিনি খেলতে পারেননি।
