“নগরীতে ভূমিকম্প যদি সকাল ১০টা- বিকেল ০৪টা মধ্যে হলে মৃত্যু হতে পারে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর”
নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৬
চট্টগ্রাম: গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় নগরীতে ভূমিকম্পের কারনে হেলে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি ভবনের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন চুড়ান্ত করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রধান চুয়েটের সাবেক উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলমের গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয় তবে চট্টগ্রামের ১ লাখ ৬৮ হাজার ভবনই ধ্বংস হবে, যেগুলোর একটিও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে তৈরি হয়নি। আর ভূমিকম্প যদি সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে হয় তবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে মৃত্যুবরণ করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে। সরেজমিনে পরিদর্শন, সয়েল টেস্ট, ভবনের নকশা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কমিটির সদস্যরা প্রাথমিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
চসিক ও সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, সিডিএ ২০০৬ সালের দিকে নগরীর ৫৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে। ইমারত নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুসারে জরাজীর্ণ ভবন অপসারণের দায়িত্ব চসিকের হওয়ায় পরের বছরের ১১ ডিসেম্বর তালিকাটি চসিকের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ওই তালিকায় যুক্ত করা হয় আরও ছয়টি ভবন।
এ পর্যন্ত ‘চসিক দুটি ভবন অপসারণ করেছে। তবে সিডিএ ও চসিকের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা ও ভবন সম্পর্কিত কর্তৃত্ব নিয়ে।’
এদিকে বিগত ‘২০০৯ সালে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির এক জরিপে বলা হয়েছে, নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ১ লাখ ৮২ হাজার ভবন আছে।’
সংবাদ প্রতিবেদনকারীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, হেলে পড়া ভবনের পাশাপাশি যে ভবনের ওপর হেলে পড়েছে এমন ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও আমলে নিয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল ভবনের ওপরের তলাগুলো খালি করে সিলগালা করার এবং ভবন মালিকের নিজ খরচে চুয়েট বা বুয়েটের বিআরটিসি কর্তৃক সিসমিক ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি বরাবর দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা বলা হতে পারে।
ভূমিকম্প নিয়ে আরো বিস্তারিত সংবাদ পড়তে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন :
প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরির আগে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-ভবন মালিকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ভবনের অবস্থান (হোল্ডিং নম্বর, ওয়ার্ড নম্বর ও নাম, রাস্তা বা এলাকার নাম), ভবনের অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য (বিসি কেইস নম্বর ও তারিখ, নির্মিত নাকি নির্মাণাধীন, কত তলা ও ব্যবহারের বিবরণ, আবাসিক, বাণিজ্যিক বা অনাবাসিক ইত্যাদি), অবৈধ ও ব্যতিক্রমী সংক্রান্ত তথ্য (কোন তলা কী কাজে ব্যবহার, ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, তথ্য বোর্ড, বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড, মোবাইল টাওয়ার এবং ব্যতিক্রমী অংশের বর্ণনা), ভবনের ক্ষতি নির্ধারণ, বিধিমালা, প্রাথমিক করণীয় নির্ধারণ ইত্যাদি।
ক্ষতিগ্রস্ত ও হেলে পড়া ভবনগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বসবাসের উপযোগিতা নির্ধারণপূর্বক করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে সিডিএর গুরুত্বপূর্ণ এ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে চুয়েটের সাবেক উপাচার্য, ভূমিকম্প-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মো. শাহিনুল ইসলাম খানকে সদস্য সচিব এবং চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান ভূঁইয়া, সিডিএর অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামিম ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইলিয়াছকে সদস্য করা হয় কমিটিতে। এ কমিটির অধীনে কাজ করেন সিডিএর ইমারত পরিদর্শকরাও।
তদন্ত কমিটির আমলে নেওয়া ভবনগুলো হচ্ছে –হালিশহর হাউজিং এস্টেটের বি ব্লকের ৮ নম্বর লেনের ২ নম্বর সড়কের ১ নম্বর প্লটের মো. আকাম্বিল হোসেনের পাঁচ তলা ভবন (নিচতলায় দোকান ও উপরে মোবাইল টাওয়ার), একই এলাকার ৯ নম্বর লেনের ২ নম্বর সড়কের ২ নম্বর প্লটের মো. আ. মান্নানের সাত তলা ভবন, কোতোয়ালি থানার বটতলি মৌজার ৪-এ জুবিলি রোডের মো. আবু বকর ছিদ্দিকীর আট তলা (বেইজমেন্টসহ) ভবন, একই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, ১৭৩ নম্বর জুবিলি রোডের মৃত মৌলভি সিরাজুল হকের সন্তানদের ভবন, এবি ব্যাংক ভবন, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ৮ নম্বর সড়কের ৫৩৮ নম্বর বাড়ির মো. নুরুল আজিম চৌধুরীর হেলে পড়া ভবন, আতুরার ডিপোর লতিফ কোম্পানি সড়কের ৪৬০-এ নম্বর বাড়ির নূর মোহাম্মদের পাঁচ তলা ভবন (নিচতলায় রেইনবো এনএম পাবলিক স্কুল), জিইসি মোড়ের সিডিএ অ্যাভেনিউর পাঁচ তলা বাদশা ভবন, ওয়াসার মোড়ের ৯২ নম্বর হাইলেভেল রোডের মো. সফিউল আজমের পাঁচ তলা বাণিজ্যিক ভবন, ৮৮ হাইলেভেল রোডের ১০ তলা মীম হাসনাত টাওয়ার এবং আতুরার ডিপোর লতিফ কোম্পানি সড়কের আয়েশা টাওয়ার।
আরো বিস্তারিত পড়তে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন : “ভূমিকম্প ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম”
এর মধ্যে আয়েশা টাওয়ারের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা, মীম হাসনাত টাওয়ারের চতুর্থ হতে টপ ফ্লোর পর্যন্ত, ওয়াসা মোড়ের সফিউল আজমের ভবনের পঞ্চম তলা, আতুরার ডিপোর নূর মোহাম্মদের ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলা, চান্দগাঁওয়ের নুরুল আজিম চৌধুরীর ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলা, মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের উপরের ছয়টি ফ্লোর খালি করে সিলগালা করে দেওয়ার সুপারিশ আসতে পারে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে।
সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব স্থপতি মো. শাহিনুল ইসলাম খান গতকাল বুধবার বিকেলে বলেন, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির বিশেষজ্ঞরা ১৮ ও ১৯ এপ্রিল দুই দফা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ও হেলে পড়া ভবনগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের হাতে কমিটি রিপোর্ট তুলে দেবে।
রিপোর্ট হস্তান্তরের আগে প্রতিবেদন সম্পর্কে কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

