বিশেষ প্রতিনিধি, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৬
চট্টগ্রাম: ‘রাজনীতিতে দলীয় কর্মীরাই নেতাদের উৎসাহ, সাহস, অনুপ্রেরণা। অনেক ক্ষেত্রে আবার কর্মীরাই সৃষ্টি করছে নেতাদের মাঝে বিভেদ!’
চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবির মুক্ত কে করেছে কার নেতৃত্বে হয়েছে ত নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরের পর থেকেই নিজেদের ভেতরে মতবিরোধ চলে আসছিলো। কয়েকদিন আগে মহসিন কলেজ ও চট্টগ্রাম কলেজে সংঘর্ষের পর্যায়ে গিয়ে গড়িয়েছে এ মত-বিরোধের জেরধরে। নগর ছাতলীগের এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে জনসম্মুখে মিছিল ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচী পর্যন্ত করেছে।
“চট্টগ্রাম কলেজ শিবির মুক্ত কে করেছে এ বিষয়ে সিটিজিবার্তা২৪ডটকম এর সাথে নগর ছাত্রলীগের রাজনীতি বিরোধ নিয়ে আলোচনা আড্ডায় বিস্তারিত জানালেন , ১৬ ডিসেম্বর ক্যাম্পাস দখলের দিন সামনের সারিতে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও হাজেরা তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সভাপতি ফারুক ইসলাম। “
চট্টগ্রাম কলেজ শিবিরমুক্ত কে করেছে? এ নিয়ে যেন তর্ক-বিতর্ক শেষ নেই। সোজা কথায় বলা যায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কেউ একক দাবিদার হতে পারে না।
ব্যক্তি বিশেষ নই, সম্মিলিত চেষ্টায় বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে সবাই এক ধারার নই। বিশেষ করে টিনু-পাভেল-রনি এ তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও ভূমিকা রাখেন। যদিও চট্টলার রাজনীতিতে একেকজন একেক নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
ছাত্রলীগের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শিবিরের গুলি বর্ষণ, দিনব্যাপী সড়ক অবরোধ
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে ইমু সহ নগর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ সহ আমাদের মত অনেকেই সহযোগীতা করেছেন।
পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। কলেজ প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়রের মধ্যে আরিফ, কায়সার, সাইফুল, জনি, ছোট পাভেল, পাশাপাশি সবুজ, মাহমুদ, রাজু, নোমান, আনোয়ার সহ অনেকের নাম উঠে আসে।
মূল কথায় আসি…
চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ এ ক্যাম্পাস দুটি কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এ বিষয়ে আজ ছাত্রলীগের মধ্যে বিরোধ অনেকটা দৃশ্যমান! হয়তো এভাবে শৃংখলাবিহীন চলতে থাকলে খুব বেশি সময় এ বিজয় ধরে রাখা সম্ভব হবে না। আবারো সেই পুরনো চিত্রে।
বিজয় দিবসের ঠিক তিনদিন পর ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কলেজ নামক শিবির পরিচালিত একটি পেইজে তারা লিখেছিল- “এখন আরেকটা খবর শোনার অপেক্ষায় আছি, চট্টগ্রাম কলেজে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে তিন উইকেট এর পতন” এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিল।
আমার প্রশ্ন, তিন উইকেট বলতে কোন তিন জনকে বুঝিয়েছে? সেদিন হয়তো তাদের এ স্ট্যাটাস হাসি মুখে পাত্তা দেয়নি। তবে তাদের পরিকল্পনা এটাই ছিল বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট বোজাচ্ছে।
ছাত্রলীগের বিক্ষোভের মুখে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা : গ্রেপ্তার ৭১
দলের ননেতা-কর্মীদের মাঝে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি করে ছাত্রলীগের ঐক্য নষ্ট করা, অত:পর সেই সুযোগে বড় কোন অঘটনের মাধ্যমে ক্যাম্পাস ফের তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ ও উস্কানি দাতাদের চিহ্নিত করতে সর্বদা ছাত্রলীগকে সজাগ থাকতে হবে।
নেতাদের মাঝে অনেক বিরোধ, মতপার্থক্য রয়েছে, থাকবে। তবে চট্টগ্রাম কলেজ ইস্যুতে যেসব ছাত্র ছাত্রলীগের হয়ে আগামীতে ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দিবে তাদের মাঝে ঐক্য, আন্তরিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে, নগর রাজনীতিতে দলীয় প্রত্যেক কর্মী সে যে নেতার অনুসারী হোক, রাজপথে সকলের সহ-অবস্থান, সম্মিলিত চেষ্টায় এ দুই কলেজ চট্টগ্রাম মহানগরে শীর্ষ ইউনিট তথা নেতৃত্ব গড়ে তোলার তীর্থ স্থান হবে সে প্রত্যাশা করি।
মনে রাখতে হবে সবাইকে, সংগঠনের সাথে রাজনীতিতে আপনার অস্তিত্ব বিরাজমান। তাই প্রাণের এ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কে ভালোবাসুন।

