নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মঙ্গলবার, ৩ মে ২০১৬

চট্টগ্রাম ঃ নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দুই নেতা দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন। চলছে তাদের মধ্যে বাকযুদ্ধ। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সংগঠনটির দায়িত্বশীল নেতারা।
দু জনের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি নিয়ে যে কোনো মুহূর্তে ‘অপ্রীতিকর ঘটনা’ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
গত পরশু মে দিবস উপলক্ষে নগরীতে দুই নেতা একই সময়ে একই ব্যানারে ৫০০ গজ দূরত্বে পৃথক সমাবেশ করেছেন। দুই মেরুতে অবস্থান নিয়ে একে অপরকে উদ্দেশ করে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন। এতে ‘গুরু-শিষ্যের’ মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ পায়। এর আগে গত প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
নগরের লালদীঘি ময়দানে মে দিবসের সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে কর বাড়ানোর সমালোচনা ও নগরের উন্নয়ন করতে না পারার অভিযোগ এনে তাকে ‘হুংকার বন্ধ করে সংযত হয়ে কথা বলার’ আহ্বান জানান।
অপরদিকে শহীদ মিনারের সমাবেশে আ জ ম নাছির স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে সংগঠনে বিশৃঙ্খলা, বিতর্ক ও বিরোধ সৃষ্টি হয় জানিয়ে বলেন, সংগঠন করতে হলে ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করতে হবে।
কিছুদিন ধরে নগরবাসীর ‘কর বাড়ানো’ নিয়ে দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে আসছেন। গত বৃহস্পতিবার নগরের ফিরোজশাহ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেয়র নাছির মহিউদ্দিন চৌধুরীকে উদ্দেশে করে বলেছিলেন, সাবেক একজন মেয়র ও বিশিষ্টজনরা পত্রপত্রিকায় মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য-উপাত্ত উপস্থান করে নাগরিকদের বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত রয়েছেন।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে দুই নেতার মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলে আসলেও মাস খানেক আগে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়রপনি’ এক ছাত্রলীগ নেতা খুনের ঘটনায় তাদের সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিতে থাকে।
দুই নেতার এমন বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত নগর আওয়ামী লীগ নেতারা। দুই নেতাকে সমঝোতার টেবিলে বসার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইসহাক মিয়া বলেন, ‘তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়েছে। বিএনপি কিংবা জামায়াতের সাথে নয়।’
তারা নিজেরা একসাথে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিরসন করতে পারে জানিয়ে প্রবীণ এ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘যত কথাই হোক না কেনো, মহিউদ্দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। এটা আমি না শুধু, সবাই বলবে। এখন তারা কেউ কারও থেকে যদি পরামর্শ নিতে না চায় তাহলে নেত্রী তাদেরকে ডেকে পরামর্শ দিতে পারে।’
‘মীর নাছির বিএনপির মেয়র কিন্তু তিনি এলডিপি নেতা কফিল উদ্দিনসহ কয়েকজনকে উপদেষ্টা রেখেছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও নামকাওয়াস্তে হলেও উপদেষ্টা আছে। কাজেই পরামর্শ দেওয়ার মানুষ রাখতে হবে। উপদেষ্টা ছাড়া কোনো কাজ হয় না, ’বলেন তিনি।
নগর আওয়ামী লীগের আরেক উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য একেএম বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে নমনীয় থাকতে হয়। সমালোচনা সহ্য করতে হয়। কিন্তু বিভিন্ন ইস্যুতে মেয়র নাছির একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন। ফলে এটা আজকে জনসমক্ষে এসে গেছে।’

মহান মে দিবসে চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথীর ভাষন দিচ্ছেন নগর আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
মহিউদ্দিন চৌধুরী ব্যক্তিস্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করে জানিয়ে প্রবীণ এ আওয়ামী লীগ নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘নগরের যদি ট্যাক্স বাড়ানো না হয় যেটা বাড়ানো হবে না সেটা কি মহিউদ্দিন চৌধুরী পাবেন?’
নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, ‘এটা কারও জন্য কাম্য নয়। সংগঠনের স্বার্থে তাদের বিরোধ নিরসন না হলে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’
নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী উৎকণ্ঠার সুরে বললেন, ‘তাদের এমন বিভাজন সংগঠনের জন্য কোনো অবস্থাতেই ভালো না। এটা অশনিসংকেত। আমরা চাই দুজনেই সমঝোতার টেবিলে বসে বিরোধ নিরসন করুক, সংশোধন হোক।’
তথ্যসূত্র-সুপ্রভাত বাংলাদেশ
