নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৬
চট্টগ্রাম : নগরীতে সম্প্রতি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বিশিষ্টজনেরা পত্রপত্রিকায় নাগরিকদের ওপর চসিকের করের বোঝা, শিক্ষার্থীদের বেতন ও ফি বাড়ানো হচ্ছে বলে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ উপস্থাপন করে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) ফিরোজশাহ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, কৃতী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর একটি মন্তব্য প্রতিবেদনের উল্লেখ্যয টেনে বলেন, “মহিউদ্দিন ভাই বলেছেন- নগরবাসী এখনো গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের উপর ট্যাক্সের বোঝা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। স্কুলের ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি চাহিদা পূরণ করে তারপর করের বোঝা বাড়ানো যেতে পারে।”
“এখন আমার কাছে প্রশ্ন-মহিউদ্দিন ভাই তো একটানা ১৭টি বছর মেয়র ছিলেন। নিজেকে সফল মেয়র বলেন। তিনি কি নগরবাসীকে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ করেছেন। এসব চাহিদা পূরণ কি মেয়রের দায়িত্ব?”
গ্যাস দিচ্ছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন, বিদ্যুৎ দেয় পিডিবি আর পানি দেয় ওয়াসা। তাহলে কি তিনি এই বয়সে নগরবাসীকে জেনেশুনে বিভ্রান্ত তথ্য দিচ্ছেন। মিথ্যাচার করছেন।
আসলে আমি মহিউদ্দিন ভাইয়ের কষ্ট, বেদনা, হতাশা বুঝি। তিনিও তো মেয়র মনোনয়ন পাওয়ার জন্য অনেক দৌঁঁড়-ঝাঁপ করেছেন। শেষে ১৪ দল করে রীতিমত স্বতন্ত্র শোডাউন দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনাকে মনোনীত করেননি। তাই এখন তিনি প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে এসব মিথ্যাচার, বিষোদাগার ছড়াচ্ছেন।
আমি মহিউদ্দিন ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, ইসলামে মিথ্যাচার মহাপাপ। তিনি এসব করে গুণাহ’র পাল্লা আর ভারী না করার জন্য তাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
সিটি মেয়র বলেন, কর ধার্য করা কোনো মেয়রের এখতিয়ারে নেই। কর ধার্য করে সরকার।সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ট্যাক্স আদায় করতে পারে মাত্র।
মেয়র আরো বলেন, মিথ্যাচার করে স্বল্প সময়ের জন্য বাহবা অর্জন করা যায়। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করা যেতে পারে। কিন্তু সত্য উদঘাটিত হলে মিথ্যাচারের আর কোন সত্যতা থাকে না। জনগণ এখন বোকা নয়। জনগণ এখন অনেক সচেতন। তাই জনসাধারণের প্রতি আমার অনুরোধ এবং আহবান জানাচ্ছি আপনারা মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবেন না। যেকোন বিষয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নিন। আমার কোন ভুল-ভ্রান্তি থাকলে আমার ইতিবাচক গঠনমূলক সমালোচনা করুন। আপনাদের সমালোচনা থেকে আমি সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করবো।
মেয়র বলেন, ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রকাশিত গেজেটে আলোকায়নের বিপরীতে ৩ ভাগ থেকে ৫ ভাগ ট্যাক্স বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও চসিক বর্ধিত হার কার্যকর করা থেকে বিরত রয়েছে। কারণ নগরীকে শতভাগ আলোকিত না করে অতিরিক্ত ২ ভাগ ট্যাক্স ধার্য করা ঠিক হবে না।
মেয়র বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সাবেক মেয়র, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, সাবেক এমপি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হোল্ডিং সার্ভে করে কর পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগও নেওয়া হবে। তাহলে নগরবাসীর মনে শান্তি ও প্রশান্তি ফিরে আসবে।
নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে পৌরকর আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির প্রয়াসও দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর পর পৌরকর পুনর্মূল্যায়নে সরকার সিটি কর্পোরেশনকে ক্ষমতা দিয়েছে, প্রাপ্ত ক্ষমতা ও এখতিয়ার মূলে সিটি করপোরেশন মেয়াদৌত্তীর্ণ ১১টি ওয়ার্ডে কর পুনর্মূল্যায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন উত্তরাধিকার সূত্রে শিক্ষা খাতে সেবা ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ দুটি সেবার জন্য নগরবাসীকে একটি টাকাও ট্যাক্স দিতে হয় না। উপরন্তু সিটি করপোরেশন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সেবার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাদে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার স্বার্থে চলতি বছর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জহুরুল আলম জসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক, ৪ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন মজুমদার। শিক্ষার্থীদের পক্ষে দশম শ্রেণির ছাত্র ছিদ্রাতুন মুনতাহা বক্তব্য দেন।

