মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বৃহস্পতিবার, ৫ মে ২০১৬ ১৯:১০ ঘন্টা
উপ-মহাদেশের উইকেটগুলো সাধারণত স্পিন সহায়ক হয়ে থাকে। স্পিন-সহায়ক উইকেট পেলে তো আর কথায় নেই। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সাফল্য পেতে খুব একটা বেগ পেতেও হয় না বাংলাদেশি স্পিনারদেরকে। কিন্তু একটু ভিন্ন কন্ডিশন হলে টাইগার স্পিনাররা সাফল্য কিভাবে আদায় করে নিতে হয় সেটিও ভুলে যায়।
সময়ের সাথে সাথে সবকিছুরই পরিবর্তন হয়, আর এই বাক্যটির সাথে মিল রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। তবে বদলে গেছে সময়, বদলে গেছে পুরনো ধারনার মাত্রা! আর এই বদলে যাওয়ার সুর ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিগত কয়েকবছর ধরে চলছে পেসারদের জয়জয়কার।
গাজী গ্রুপ ক্রিটার্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, “বাংলাদেশের স্পিনাররা কন্ডিশনের মান অনুযায়ী বল করতে পারেন না। তাছাড়া দিন দিন কমছে মানসম্পন্ন স্পিনারের সংখ্যা। বিসিবির উচিত ‘স্পিনার হান্টের’ মতো কর্মসূচির উদ্দ্যোগ নেওয়া।”
গত ২২ এপ্রিল থেকে মাঠে গড়িয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাটসম্যানরা রানের ঝড় তুলে চলেছেন। অথচ সেই অনুপাতে তাইজুল-মাহমুদুল্লাহ ছাড়া বাকী দু’একজন স্পিনার ছাড়া বাকীদের সাফল্য নেই বললেই চলে ম্যাচে। স্পিনারদের এই বিষয়টি ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশ দলের সহকারী এবং গাজী গ্রুপ ক্রিটোর্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বলবো আমাদের বোলিং এখনো সেই মানের পর্যায়ে পৌছাতে পারেনি। তাছাড়া আমাদের ছেলেরা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে বোলিংও করতে পারেন না। বিশেষ করে ওই মানের স্পিনার নেই যে এই কন্ডিশনে কিভাবে বল করতে হবে। এখন যে উইকেটে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের খেলা হচ্ছে এখান থেকে সাহায্য আসবে না, আবার টার্ন থাকবে না। তবে এটা আসলে আমাদের দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো না। তার উপরে আবার দিনদিন মানসম্পন্ন স্পিনারের সংখ্যাটা অনেকাংশে কমেই চলেছে।’
উইকেট যদি একটু ফ্ল্যাট হয়ে যায় তাহলে বাংলাদেশের স্পিনাররা কিভাবে বল করতে হবে সেটিও এখনো ভালোভাবে রপ্ত করতে পারেনি। স্পিন-সহায়ক উইকেটে তারা যতোটা ভালো বোলিং করে থাকে। তবে একটু ভিন্ন ধরণের উইকেট হলে তারা ভালো বল করতেও ভুলে যান।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘তারা জানে না এসব উইকেটে কিভাবে বল করতে হয়। যারা ১০ বছর ক্রিকেট খেলছে, ওই সমস্ত স্পিনারদেরও একই সমস্যা হচ্ছে। তাই আমি মনে করি মানসম্পন্ন স্পিনারের সংখ্যা আমাদের আরে বাড়ানো উচিত। আগে হয়তো উইকেটে সাহায্য ছিলো। কিন্তু এখন তারা উইকেট থেকে সেই সাহায্য আর পাবেন না। তাই এখন আপনাকে এই ধরণের উইকেটে স্পিন করাতে হবে। ফ্ল্যাট উইকেটে ভেরিয়েশনসহ অনেক কিছু করতে হবে। আমি মনে করি আমাদের মানসম্পন্ন স্পিনারের সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে।’
আর তাই বাংলাদেশের দক্ষ স্পিনারদের উন্নতিতে স্পেশাল ক্যাম্প করার পক্ষে মত দিলেন সালাউদ্দিন। তাতে করে স্পিনারদের আরো বেশি যত্ন নেয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘এটার জন্য আলাদা স্পেশাল ক্যাম্প করা উচিত। স্পিনারের দিকে আরো নজর দেয়া উচিত। আগে তিনটা বাঁহাতি স্পিনার খেললে জেতার সম্ভাবনা ছিলো। এখন বাঁহাতি স্পিনারদের সবাই ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারছে। স্পিন করাতে হবে, ফ্ল্যাট উইকেটে বৈচিত্র কিংবা প্রচুর বল ঘুরাতে হবে। টার্নটা কোনো ব্যাপার না কিন্তু আপনাকে স্পিন করানোটা শিখতে হবে। আমার মনে হয় এসব ব্যাপারে স্পিনারদেও প্রাথমিক জ্ঞানটা অনেকাংশে কম।’
ঘরের মাঠে খেলা হলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে একটা সময় তিন থেকে চারজন স্পিনারকে নিয়ে মাঠে নেমে পড়তো। কিন্তু দিনদিন দক্ষ স্পিনারের সংখ্যাটা কমে যাওয়ায় পেসারদের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ। আর পেসারদের আরো দক্ষ করার জন্য পেসার হান্টের মতো কর্মসূচী গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেটা করলে নিশ্চয় আবারো ভালোমানের স্পিনার বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কোচ।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘স্পিনার হান্ট ক্যাম্প করলে অবশ্যই ভালো হয়। তবে আমার মনে হয় স্পিনারদের আরো একটু যত্ন নেয়া উচিত। কারণ আমাদের এখানে সব সময় পেস বোলারদের জন্য বিদেশি কোচ নিয়ে আসা হয়। কিন্তু স্পিনারদের জন্য কোনো আলাদা কোচ নিয়ে এসে তাদের যদি যত্ন নেয়া হয় না। তাহলে আমি মনে করি জিনিসটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক ভালো হবে।’

