সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
মঙ্গলবার, ১০ মে ২০১৬
জেনিফার আলম : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাওয়ায় ফাঁসি কার্যকর হতে পারে যেকোনও সময়ই। ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাতের যেকোনও সময় ফাঁসি কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে কারাসূত্র। তারা বলছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষায় আগ্রহ না দেখানোয় ফাঁসির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলে নিজামীকে রাখা হয়েছে। এদিকে নিজামীর সঙ্গে শেষ বারের মতো দেখা করতে আজ রাত পৌনে আটটার দিকে তিনটি মাইক্রোবাসে করে পরিবারের ২১ জন সদস্য কারাগারের ফটকে আসেন। এরপর তাঁরা ভেতরে ঢোকেন। এ সময় তার পরিবারের দুই সদস্য ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শন করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারাগার থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্ধ্যার পর দেখা করার কথা বলা হয়। সে অনুযায়ীই তারা দেখা করতে আসেন।
এর আগে ফাঁসির আগে এমন ভি চিহ্ন দেখিয়েছিলেন জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান ও মুজাহিদের স্বজনরা।
স্বজনদের মধ্যে নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী, ছেলে ব্যারিস্টার নাজীব মোমেন, বড় ছেলের স্ত্রী, দুই নাতি, বড় মেয়ে মহসীনা ফাতেমা, নিজামীর চাচাতো ভাই, ভাইয়ের মেয়েসহ ৮ জন নিকটাত্মীয়রা ছিলেন।
নিজামীর লাশ পরিবহনের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) থেকে দু’টি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নূর হোসেন ও হাজী মো. জমির আলীর এ দুই অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো চ ১১-২৪৪২ নম্বরের চালক জমির আলী।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কাশিমপুর কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছেছে প্রধান জল্লাদ রাজুও। রাত ১০টার পর যে কোনও সময় ফাঁসি কার্যকর করা হবে। ইতোমধ্যে নিজামীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক আনা হয়েছে। বর্তমানে নিজামীকে কেন্দ্রীয় কারাগারের রজনীগন্ধা সেলের ৮ নম্বর কক্ষে রাখা হয়েছে।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকরের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ যেভাবে প্রস্তুত করা হয়, আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে মঞ্চ ঘিরে সে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিকেলেই ফাঁসি কার্যকরের স্থান পরিদর্শন করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো কারাগারে আনা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও দেখা হয়েছে।
কারা সূত্রে এসব কথা জানা গেছে। সূত্র জানায়, ফাঁসির মঞ্চ এলাকায় ফ্লাড লাইট লাগানো হয়েছে। শামিয়ানা টানানো হয়েছে। ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত থাকেন সরকারের এমন কয়েকজন কর্মকর্তাও কারাগারে আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ সাংবাদিকদের জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া ছাড়া নিজামীর অন্য সব আইনিপ্রক্রিয়া শেষ হয়। সর্বোচ্চ আদালত ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর সরকার ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। নিজামীকে ফাঁসি বহাল থাকার রায় পড়ে শোনানো হয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারাগারের আশপাশের সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। লোক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
কারাগারের আশপাশে যুদ্ধাপরাধের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য কারাগারের চারপাশে অবস্থান করছেন।

