সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বিনোদন ডেস্ক ঃ খ্যাতির বিড়ম্বনা বলে একটা কথা লোকসমাজে বহুল প্রচলিত থাকলেও মানুষ মাত্রই খ্যাতির কাঙাল। প্রত্যেকেই চায় অন্যেরা তাকে চিনবে, জানবে, তার সঙ্গে কথা বলার জন্যে, তাকে একবার সামনে থেকে দেখার জন্যে বহু আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অপেক্ষা করে থাকবে। প্রতিনিয়ত তাই সব মানুষই ছুটে চলে খ্যাতির পিছনে। কিন্তু এরপর? কিছু অর্জনের চাইতে নাকি সেটা রক্ষা করা কঠিন। আর সেই শতসিদ্ধ কথাটির অনুকরণেই অনেক তারকা খ্যাতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেও থেমে যান। নিজের হাতে নষ্ট করে ফেলেন এতদিন ধরে তিলে তিলে সাজানো নিজের অতীত আর ভবিষ্যতকে। আর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বাইরে নেই চেনা-পরিচিত অনেক বিখ্যাত তারকাও।
সাধারণত তারকাদের জীবন বাইরের সবার কাছে অনেকটা খোলা বই এর মতো হলেও নিজেদের খুব কাছের আর গোপনীয় সমস্যা আর ভাবনাগুলোর কথা তারা শুধুমাত্র বিনিময় করেন খুব কাছের আর পরিচিতজনদের কাছে। কিন্তু অনেক সময় নিজের অজান্তে কিংবা জেনে-শুনেই নিজেদের সেই কুৎসিত বা সমস্যাবহুল ব্যাক্তিগত জীবনকে বাইরে প্রকাশ করে ফেলেন তারকারা। তৈরি হয় সংঘাত। খুব সহজেই ছোট্ট কিছু কাজের মাধ্যমে জীবনের এতদিনের অর্জন এক ফুত্কারেই ছাই এর মতো বাতাসে উড়িয়ে ফেলেন তারা। চলুন জেনে আসি এমনই কিছু বিখ্যাত তারকার কথা যারা কিনা ধ্বংস করেছিলেন নিজেদের ক্যারিয়ার নিজের হাতেই।
ক্রিস ব্রাউন : ২০০৯ সালে হঠাৎ গুজব ছড়ায় বিখ্যাত গায়িকা রিয়ান্না আর গায়ক ক্রিস ব্রাউনকে নিয়ে। তাতে বলা হয়েছিল যে রিহানার গায়ে হাত তুলেছেন ক্রিস এবং তার প্রতি নির্যাতন চালিয়েছেন। ব্যাপারটা খুব বেশি দূর হয়তো গড়াতো না যদি না হঠাৎ করেই এই ঘটনার প্রমাণ হিসেবে পুলিশ আর মিডিয়ার সামনে উঠে আসলো কিছু সিনেমা। ক্রিসের হাতে রিয়ান্নার নির্যাতিত হওয়ার সিনেমা। তবে শুধু এটাই নয়, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করায় চেয়ার ছুঁড়ে মারেন ক্রিস। শোধনাগারে নিয়ে গেলেও সেখানকার নিয়ম ভঙ্গ করেন তিনি। মোটকথা, নিজের এতটা খ্যাতিকে নিজের হাতেই খুব যত্ন নিয়ে ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলেন এই গায়ক। পরবর্তীতে জেলই হয়ে যায় তার আবাসস্থল।
জেনিফার গ্রে : শুধু একটা ভুল সিদ্ধান্তের জন্যে যে একজন মানুষ ঠিক কতটা ভুগতে পারেন সেটার সঠিক উদাহরণ হয়তো একমাত্র জেনিফার গ্রেকেই বলা যায়। নিজের ক্লাসিক সিনেমা ডার্টি ড্যান্সিং এ অসাধারণ অভিনয় ও জনপ্রিয়তা এবং প্যাট্রিক সোয়েজকে জীবনে পাওয়া এ দুটো মিলিয়ে পরিচিতির বেশ তুঙ্গে ছিলেন এই অভিনেত্রী।বেশকিছু ভালো ভালো সিনেমার প্রস্তাব আসে তার কাছে। যথেষ্ট ভালো একটা ভবিষ্যতের জন্যেই অপেক্ষা করছিলেন জেনিফার। তবে এর ভেতরেই হুট করে নিজের নাকে খানিকটা কারুকার্য করান তিনি চিকিত্সকের মাধ্যমে। ফলে পরবর্তী সিনেমাগুলোতে তাকে চেনাটাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। এ গ্রেডের সিনেমা থেকে নেমে বি গ্রেডের সিনেমাতে চলে যান জেনিফার। ভেঙে যায় তার পুরোটা স্বপ্ন কেবল নিজের একটা ছোট্ট পরিবর্তনের জন্যে।
জর্জ মাইকেল : সবসময় নিজেকে নিয়ে প্রচন্ডভাবে গর্বিত এই তারকা নিজের হাতের এতদিন কুড়িয়ে পাওয়া সবটা খ্যাতি হারিয়ে ফেলেন যখন ১৯৯৮ সালে পাবলিক রেস্টরুমে বাজে অবস্থায় ধরা হয় তাকে। দুশ্চরিত্রের তকমা লেগে যায় জর্জের কপালে। তবে সেটাই শেষ নয়। এরপর আরো অনেক নিকৃষ্ট কাজ, বিশেষ করে ২০০৬ সালে জেলখানায় দাখিল হবার পর জনপ্রিয়তা একদমই ভাঁটায় এসে নামে এই গায়কের।
উইনোনা রাইডার : নব্বইয়ের দশকে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী নিজের অভিনয় আর নজরকাড়া সৌন্দর্যের জাদুতে ভুলিয়ে রেখেছিলেন পুরো নতুন প্রজন্মকে। তবে তার এই অদ্ভূত জনপ্রিয়তায় ভাঁটা পড়ে যখন হঠাৎ করেই দোকান থেকে জিনিস তুলে নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন তিনি। এর পরপরই মিথ্যে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ঔষধ নেওয়া, আরো অনেক দোকানে চুরি এবং শেষ অব্দি বড়সড় এক চুরি করে নিজের ক্যারিয়ারের প্রচন্ড ক্ষতি করে ফেলেন উইনোনা। বর্তমানে তিনি অভিনয় করলেও নিজের পুরনো খ্যাতিকে আর ফিরিয়ে আনতে পারেননি তিনি।
পউলা ডিন : ১৪ টি বই, রেষ্টুরেন্টের লম্বা সারি, বিশাল কর্পোরেট চুক্তি আর অনেকগুলো খাবার বিষয়ক শো- এসব কিছুই হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায় বিখ্যাত তারকা পউলা ডিনের জীবন থেকে, যখন মানুষকে সমান ভাবতে অস্বীকার করেন তিনি। প্রত্যেকটি মানুষই সমান। এ কথাটির সঙ্গে একমত হতে পারেননি পউলা। ফলে নিমিষেই তার সবকিছু চলে যায় আর সেই সঙ্গে এক পলকে ফিকে হয়ে যায় এতদিনের জমানো খ্যাতিটাও। যদিও পরবর্তীতে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন পউলা আর শুরু করেছেন নিজের শো। তবে সেগুলো খুব একটা কাজে দেয়নি।
ব্রিটনি স্পেয়ার্স : নিজেদের জীবনের কতটা খারাপ অবস্থা সেটা বোঝাতে গিয়ে অনেকেই তুলনা করেন ব্রিটনি স্পেয়ার্সের ২০০৭ সালটির সঙ্গে। সত্যিই সে বছর প্রচন্ড বাজে একটি বছর কাটান ব্রিটনি। বিচ্ছেদ, সাংবাদিকদের অতর্কিত হামলা, ছাতা দিয়ে গাড়িকে আক্রমণ আর মাথা কামিয়ে ন্যাড়া হয়ে যাওয়া- এর সবটার ভেতর দিয়েই ব্রিটনিকে যেতে হয়েছে ২০০৭ সালে। একেবারের মতোই ভেঙে পড়েছেন ব্রিটনি- এমনটাই ধারণা ছিল সবার। বাস্তবে আসলে সেটাই হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমানে অবশ্য নিজের সেই ধ্বসে যাওয়া ক্যারিয়ারকে আবার ঝাড়পোছ করার চেষ্টায় আছেন এই তারকা।
হুইটনি হউস্টন : হুইটনি হউস্টনের ঝুলিতে কি ছিলনা? গ্র্যামি, বক্স অফিসের সাফল্য, প্লাটিনাম হিটস- সবকিছু ছিল তখন তার কাছে। তবে এর ভেতরেই হঠাৎ কালো ছায়া হয়ে আসে তার জীবনে ববি ব্রাউন আর মনে করা হয় এই মানুটির কারণেই শেষটায় এসে যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে হুইটনিকে। খুব একটা বেশি বয়স না হলেও ২০১২ সালে বাথটবে মৃতাবস্থায় পাওয়া যায় হুইটনিকে। নিজের শেষ বছরে এসে মাদক আর গৃহ নির্যাতনের অভিযোগে তার খ্যাতিও নেমে এসেছিল তলানিতে। আর সবটার পেছনে ঐ একজন। ববি ব্রাউন!
মাইকেল জ্যাকসন : তালিকার সবচাইতে শুরুতে যে মানুষটিকে না রাখলেই নয় তিনি হচ্ছেন পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন। জীবনে কি করেননি তিনি? যেমনটা অর্জন করেছেন খ্যাতি, ঠিক তেমনটাই সেটাকে উড়িয়েছেনও দুই হাতে। বিটলসকে কিনে আবার সেটার সুর বিজ্ঞাপনের জন্যে বেঁচে দেওয়া, প্রিসলিকে বিয়ে করা, নিজেকে কালো থেকে সাদা চামড়ায় পরিণত করার ব্যর্থ চেষ্টা, বিনোদন পার্কের মালিক হওয়াসহ হাজারটা কাজের মাধ্যমে নিজের জীবদ্দশায় আলোচিত হন জ্যাকসন। সেই সঙ্গে মাদক আর অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন তো আছেই। তবে এতকিছুর পরেও অবশ্য আজ অব্দি বেশ জনপ্রিয় হয়ে আছেন এই তারকা।
অ্যানা নিকোলে স্মিথ : দ্য প্লে মেট অব দ্যা ইয়ার খ্যাত এই তারকা শুধু নিজের হাতে নিজের ক্যারিয়ারকে নষ্টই করে ফেলেননি পাশপাশি সেটাকে হাসির খোরাকও বানিয়েছেন সবার কাছে। কি বাদ দেননি তিনি এ পথ মাড়াতে গিয়ে? উচ্চাভিলাষী জীবনের প্রতি বেশ মোহ ছিল অ্যানার। আর সেই তাগিদ থেকেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেন অ্যানা। ছোটখাটো নানারকম সমস্যা সৃষ্টি করার সঙ্গে সঙ্গে ৮৯ বছর বয়স্ক এক তেল সম্রাটকে বিয়ে করা, অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন আর মাদক গ্রহণ- এ সবকিছুর জন্যে নিজের তারকা খ্যাতির চাইতেও বেশি আলোচিত হয়ে যান এই অভিনেত্রী। তবে নিজের এই জীবন যাপন দিয়ে কেবল নিজেরই নয়, নিজের সন্তানেরও জীবন নষ্ট করে ফেলেন অ্যানা। একটা সময় গিয়ে নিজের সন্তানকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন এই অভিনেত্রী।
অ্যাক্সেল রোজ : আশির দশকের শেষ ও নব্বই এর প্রথম দিকে গান এন রোজের জন্যে দেশে-বিদেশে সবখানে বেশ পরিচিতি পেয়ে যান অ্যাক্সেল। তবে সেই সঙ্গে চলে আসে অনেকটা আত্মদম্ভ আর অহমিকাও। ফলে একে একে নিজের দলের সঙ্গীদেরকে হারিয়ে ফেলতে থাকেন তিনি। আর সেটা শেষ হয় দর্শকদের ছুঁড়ে দেওয়া বোতল আর আবর্জনা দিয়ে। আর এর সবকিছুর পেছনেই ছিলেন কেবল অ্যাক্সেল নিজে।
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
