মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী-চলছে প্রস্তুতি ভোটযুদ্ধের

পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫

মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী-চলছে প্রস্তুতি ভোটযুদ্ধের

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম ||

পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫

মাহাবুবুল করিম : নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পর মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা। কারণ দেশে এবারই প্রথম দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন|

প্রথমভাগে সারাদেশে ২৩৪ পৌরসভায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত মঙ্গলবার এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে হলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে। এই বিধান রেখে গত ১৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার ( পৌরসভা) (সংশোধন) বিল ২০১৫ পাস হয়। তার আগে মন্ত্রিসভায় দেশের সব স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার|

দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা প্রস্তুতি শুরু করেছে। পাশপাশি ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিরোধীদল জাতীয় পার্টিও পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক্ষেত্রে ইসিতে নিবন্ধিত সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জোরালো প্রচার শুরু করেছে।

এদিকে টানা দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।। বুধবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বেঠকে বসেন। কিন্তু এ বৈঠকে পৌর নির্বাচন অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিন্ধান্ত নিতে পারেনি দলটি।

অপরদিকে উচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এ দলটির ব্যানারে কেউ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না’

আওয়ামী লীগ আজ  বৃহস্পতিবার এক জরুরি সভার মাধ্যমে পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নসহ নির্বাচনী বিভিন্ন কৌশল নির্র্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সভা ডেকেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় বোর্ডের এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বুধবার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষতির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবারের বৈঠকেই পৌরসভা নির্বাচনে কি প্রক্রিয়ায় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে তা ঠিক করবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সুপারিশ ও পরামর্শ সমন্বয় করে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দুইজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, এবার পৌরসভা নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়ার বিধান থাকায় মেয়র পদে প্রার্থী সিলেকশনে আওয়ামী লীগের কোন সমস্যা হবে না। কারণ মনোনয়নের বিধানটি সরাসরি দলীয় ফোরামে থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় হাইকমান্ড মেনে নিতে বাধ্য হবে।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ইসির বিধান অনুসারে কমপক্ষে নির্বাচনী এলাকার ১০০ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তথ্য মনোনয়ন ফরম তোলার সময় জমা দিতে হবে।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুসারে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সমপর্যায়ের নেতার ওপর দেওয়া হয়েছে। দল সমর্থিত প্রার্থীকে এ সব পদধারী ব্যক্তি একটি প্রত্যয়নপত্র দেবেন। কোনো রাজনৈতিক দল পৌরসভা নির্বাচনে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে ওই দলের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হবে।

আর ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে শর্তে বলা হয়েছে- মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবি, স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি তফসিল ঘোষণার পাঁচ দিনের মধ্যেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে। ওই চিঠির অনুলিপি নির্বাচন কমিশনেও দিতে হবে|

স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার ১০০ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এর মধ্যে পাঁচজনের তথ্য সফটওয়ারের মাধ্যমে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যাচাই করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে কেউ পৌরসভার মেয়র পদে এর আগে নির্বাচিত হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে তাকে ভোটার স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৩ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ৫ ও ৬ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ ডিসেম্বর।

গত মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) ইসি সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

সিটিজিবার্তা২৪-পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫

ডিসেম্বরে যে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহন করা হবে ||

রংপুর বিভাগের ২০টির মধ্যে রয়েছে ঃ  কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, দিনাজপুর সদর, ফুলবাড়ী, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, নীলফামারীর সৈয়দপুর, জলঢাকা, পঞ্চগড় সদর, রংপুরের বদরগঞ্জ, লালমনিরহাট সদর ও পাটগ্রাম পৌরসভা।

রাজশাহী বিভাগের ৪৯টির মধ্যে রয়েছে ঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, রোহনপুর, শিবগঞ্জ, নাচোল, জয়পুরহাট সদর, আক্কেলপুর, কালাই, নওগাঁ সদর, নজিপুর, নাটোর সদর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, নলডাঙ্গা, গোপালপুর, গুরুদাসপুর, পাবনা সদর, ভাঙ্গুড়া, ঈশ্বরদী, চাটমোহর, সাঁথিয়া, সুজানগর, ফরিদপুর, বগুড়া সদর, শেরপুর, সারিয়াকন্দি, গাবতলী, সান্তাহার, কাহালু, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ, রাজশাহী জেলার কাঁকনহাট, আড়ানী, মুণ্ডুমালা, কেশরহাট, গোদাগাড়ী, তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, তানোর, কাটাখালী, চারঘাট, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি ও কাজিপুর পৌরসভা।

খুলনা বিভাগের ৩০টির মধ্যে রয়েছে ঃ মেহেরপুরের গাংনী, কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর, ভেড়ামারা, কুমারখালী, খোকসা, খুলনার পাইকগাছা, দাকোপের চালনা, চুয়াডাঙ্গার সদর, দর্শনা, জীবননগর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, হরিণাকুন্ডু, শৈলকূপা, যশোর সদর, নওয়াপাড়া, মনিরামপুর, বাঘারপাড়া, চৌগাছা, কেশবপুর, নড়াইল সদর, কালিয়া, বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ, মংলা পোর্ট, মাগুরা সদর, সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া পৌরসভা |

বরিশাল বিভাগের ১৭টির মধ্যে রয়েছে ঃ ঝালকাঠির নলছিটি, পিরোজপুর সদর, স্বরূপকাঠি, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, কুয়াকাটা, বরগুনা সদর, বেতাগী, পাথরঘাটা, বরিশালের বানারীপাড়া, মুলাদী, গৌরনদী, মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভা ।

ঢাকা বিভাগের ৬৫টির মধ্যে রয়েছে ঃ টাঙ্গাইল সদর, ধনবাড়ী, মধুপুর, মির্জাপুর, ভুঞাপুর, সখীপুর, গোপালপুর, কালীহাতি, জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, শেরপুর সদর, নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, ভালুকা, গফরগাঁও, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, নেত্রকোনা সদর, মদন, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জ সদর, কুলিয়ারচর, হোসেনপুর, কটিয়াদী, বাজিতপুর, ভৈরব, করিমগঞ্জ, মানিকগঞ্জ সদর, সিঙ্গাইর, মুন্সীগঞ্জ সদর, মিরকাদিম, ঢাকার ধামরাই, সাভার, নরসিংদী সদর, মাধবদী, মনোহরদী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, তারাবো, রাজবাড়ী সদর, পাংশা, গোয়ালন্দ, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, নগরকান্দা, গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গীপাড়া, মাদারীপুর সদর, কালকিনি, শিবচর, শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া, ডামুড্যা, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ পৌরসভা।

সিলেট বিভাগের ১৬টির মধ্যে রয়েছে ঃ সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই, সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, মৌলভীবাজার সদর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখা, হবিগঞ্জ সদর, নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা।

চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৭টির মধ্যে রয়েছে ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, কুমিল্লার চান্দিনা, লাকসাম, দাউদকান্দি, বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম, হোমনা, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ছেংগারচর, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, মতলব, ফেনী সদর, দাগনভুঞা, পরশুরাম, নোয়াখালীর বসুরহাট, চৌমুহনী, হাতিয়া, চাটখিল, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ, রামগতি, রায়পুর, চট্টগ্রামের সন্দীপ, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, মিরসরাই, বারৈয়ারহাট, পটিয়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুন্ড,  খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, রাঙামাটি সদর, বান্দরবান সদর ও লামা পৌরসভা।

মাহাবুবুল করিম

সম্পাদক

www.ctgbarta24.com

Email – ctgbarta24.com@gmail.com

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

জন মন্তব্যকারী




Leave a Reply

Inline