বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : ‘বাকী চাহিয়া লজ্জা দিবেন না’ প্রবচনটি খুবই ব্যবহৃত। রাজধানী ঢাকায় খুচরা দোকানে নগদ বেচাকেনা হলেও গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে বাকীতে বিক্রীর প্রচলন এখনো বিদ্যমান। এজন্য স্বল্পপুঁজির পান-সিগারেটের দোকানীরা ‘বাকীর হাত থেকে বাঁচতে’ এই লেখাটি টানিয়ে রাখেন। নির্বাচন কমিশনের আচরণে মনে হচ্ছে, স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার সমান সুযোগ দেয়া লজ্জার বিষয়।
সমান সুযোগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে লজ্জা পাচ্ছেন। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করবে অথচ কে নির্বাচনে এলো কে এলো না; কে ভোট দিতে পারলো, কে পারলো না; নির্বাচনে ভোট হলো, না হলো সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়; মূল কথা হলো সন্ধ্যায় প্রত্যাশিত ফলাফল ঘোষণা করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। দৃশ্যপট যাই হোক দিনের শেষে সিইসি ঘোষণা দেবেন ‘ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে; ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ভোটে অমুক প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন’। এই যেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের কাজ। আর এই নির্বাচনে জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা খরচ হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্ঘুম রাত কাটবেন।
নির্বাচনে যদি জনগণের মতের প্রকৃত প্রতিফলন না ঘটে, পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবকিছু (প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের গ্রেফতার-জেল-জুলুম-ভয়ভীতি-আতঙ্ক সৃষ্টি) করা হয়; নির্বাচন কমিশন যদি তিন সিটি কর্পোরেশন (ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম) নির্বাচনের মতোই পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করেন তাহলে ভোটের প্রয়োজন কী? জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সৈয়দা সায়রা মহসীনের মতো পছন্দের ব্যক্তিদের পৌর মেয়রদের নির্বাচিত ঘোষণা করলেই হয়! খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তফসিল ঘোষিত ২৩৪ পৌরসভার নির্বাচনে কমিশনের প্রায় একশ’ কোটি টাকা খরচ হবে। নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয় পছন্দের ব্যক্তিদের পৌরসভাগুলোতে মেয়র হিসেবে বিনা ভোটে বিজয়ী ঘোষণার নীল-নকশা করা হয় তাহলে রাষ্ট্রের শত কোটি টাকা খরচ করার প্রয়োজন কী আছে? তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মানুষ কী দেখেছে?
মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮ বছর পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আয়োজন করেছিল নির্বাচন কমিশন। অথচ বাধ্যবাধকতার দোহাই দিয়ে ২৩৪ পৌরসভায় অসময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। কমিশনের দাবি স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইনে ডিসেম্বরের মধ্যে পৌরসভাগুলোতে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রশ্ন হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মেয়র-কমিশনারদের মেয়াদ শেষে ৮ বছর নির্বাচন করা হয়নি; তখন নির্বাচনী বাধ্যবাধকতা ছিল না? অথচ ইসির এক সময়ের আইনজীব ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, মধ্য ডিসেম্বরে আদালত বন্ধ হয়ে যাবে। এ সময় নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে কেউ কোটে যেতে চাইলেও যেতে পারবে না। এতে সরকারী দলের প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। বর্তমানে দেশের যে অবস্থা তা সবার জানা। সারাদেশে চলছে গণগ্রেফতার। আতঙ্ক-ভয়-ভীতি সর্বত্র। ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে হাজার হাজার নেতা ফেরারী জীবন যাপন করছেন। রাতে বাসায় ঘুমাতে পারেন না এমন শত শত নেতা রয়েছেন যারা পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী। অথচ নির্বাচনী প্রচারণায় সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কোনো পদক্ষেপ নেই নির্বাচন কমিশনের।
নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করারও উদ্যোগ নেই। ক্ষমতাসীনদের তুষ্ট করতেই শুধু নির্বাচন করার অতি আগ্রহ ইসিকে পেয়ে বসেছে। কারো সঙ্গে কথা না বলেই হঠাৎ করেই সরকার স্থানীয় নির্বাচনকে দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়েও কমিশনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের কথাবার্তায় মনে হয় তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি নয়; তারা সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত কর্পোরেশন, পরিদপ্তর, অধিদপ্তরের কর্মকর্তা। প্রশাসন সিদ্ধান্ত দিয়েছে সেটা পালন করাই তাদের চাকরি রক্ষার প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন যে রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান সেটা যেন ভুলে গেছেন ইসির দায়িত্বশীলরা। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিকে তারা কার্যত সরকারের আজ্ঞাবহ কর্পোরেশনে পরিণত করেছেন।
রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুবির পর মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইসির আজ্ঞাবহ ভূমিকায় প্রশাসনের সব ধরণের চেষ্টার পরও গাজীপুরে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ভরাডুবি ঘটে। অতপর ইসি কার্যত সরকারের তাবেদারে পরিণত হয়। নির্বাচন কমিশন হয়ে পরে সরকারের ইচ্ছাপূরণের প্রতিষ্ঠানে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ বাদ। ওই নির্বাচনে ১৫৩ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকীরা কিভাবে নির্বাচিত হন তা সবার জানা। গোটা বিশ্ব ওই নির্বাচন নিয়ে ছিঃ ছিঃ করেছে। অতপর উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপ মানুষ ভোট দিতে পারলেও পরবর্তী তিন ধাপের ভোটের নামে কি হয়েছে তা মিডিয়ার কল্যাণে দেশ-বিদেশের মানুষ দেখেছে। তারপরও সন্ধ্যার পর সিইসি সংবাদ সম্মেলন করে জানান ভোট ফেয়ার হয়েছে; জনগণ স্বতঃফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে।
তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের নামের প্রহসনের খবর সবার জানা। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাস সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিন সকাল আটটার মধ্যে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র দখল, অনেক ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সকাল ৯টার মধ্যে সম্পন্ন এবং সে খবর সাংবাদিকরা সংগ্রহ করতে গেলে ইসি থেকে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। দুপুরে প্রতিপক্ষের প্রার্থীরা একে একে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। অতপর সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দেয় ভোট ফেয়ার হয়েছে এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দিলেও মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের মানুষ মেয়র নির্বাচনে ভোটের নামের তামাশার চিত্র দেখেছে। অথচ নির্বাচনের নামে প্রহসনের বিষয় ইসি একেবারে নীরব থেকেছে। পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো সাংবাদিকদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হবে না। এবার সাংবাদিকরা সব কেন্দ্রে যেতে পারবেন।
প্রশ্ন হলো সিইসি জবাব দেবেন কি কেন তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিবিষেধ আরোপ করা হয়েছিল? পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক ভোট কেন্দ্রে যাবেন এটা গোটা বিশ্বে স্বীকৃত। অথচ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কেন সাংবাদিকদের ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি? সিইসি বলেছেন, পৌর নির্বাচনে আগের চেয়ে আরও দ্রুত অ্যাকশন নেবো। ব্যালট চুরি, ছিনতাই, এগুলোর কোনো রকম তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেবো। সাংবাদিকদের বলবো সবগুলো কেন্দ্রে যাবেন, কাভার করবেন। পুলিশ আপনাদের বাধা দেবে না। কিন্তু আপনাদের কাছে কার্ড (পরিচয়পত্র) থাকতে হবে। তাদের বলে দেবো, গতবারের মতো যেন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে। প্রশ্ন হলো অতীতে তিনি কি এ্যাকশন নিয়েছিলেন? না নিয়ে থাকলে সে ব্যর্থতা কি তিনি স্বীকার করেছেন? সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ।
সব দলের জন্যই পৌরসভা নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি করবো। সিইসি কি জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন? নেবেল প্লেয়িং ফি- কাকে বলে? ২০ দলীয় জোটের হাজার হাজার নেতা কারাগারে। এখনো সারাদেশে গণগ্রেফতার চলছে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন তাদের অনেকেই এখন কারাগারে। অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে ফেরার জীবনযাপন করছেন। অনেকেই হামলা-মামলার ভয়ে ঘর ছাড়া। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ অনেকের। নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের এক পক্ষ ঘর ছাড়া অন্যপক্ষ সক্রিয় এতে কি লেভের প্লেয়িং ফিল্ড হবে? এবার পৌরসভা নির্বাচনগুলো হচ্ছে দলীয় পরিচয়ে। মেয়র প্রার্থীরা দলীয় পরিচয়ে নির্বাচন করবেন। কেউ নৌকা মার্কা, কেউ ধানের শীষ, কেউ লাঙ্গল আবার অন্যান্য মার্কায় নির্বাচন করবেন। বর্তমানে প্রশাসনে যে দলীয়করণ হয়েছে এতে করে উপজেলা, জেলা পর্যায়ে সরকারী চাকরি তথা ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসিরা কি সরকারী দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা না দিলে, পক্ষ না নিলে চাকরি রক্ষা করতে পারবেন?
সিইসি দাবি করেছেন, মন্ত্রী এমপিরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এটাতো কাজীর কেতাবে গরুর হিসেব রাখার প্রবাদের মতো অবস্থা। ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এমপিদের ঠেকানো গেছে? তারা যদি নিজ এলাকায় যায় সিইসি কিভাবে ঠেকাবেন? ঠেকানোর নজীর কি আছে? মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এমপিরা নির্বাচনী এলাকায় গেলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে থাকতেই হয়। তাহলে কি নির্বাচন প্রভাবিত হবে না? সিইসি দাবি করে বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলের জন্য বলবো- আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আশা করি তারা সবাই প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। প্রচার-প্রচারণাও করবে। প্রশ্ন হলো ইসি কি নিরপেক্ষতার কোনো নজীর সৃষ্টি করেছে? অতীতের অভিজ্ঞতা কি বলে? স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অরাজনৈতিকভাবে যুগের পর যুগ ধরে হয়ে আসছে। হঠাৎ করে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।
এ নিয়ে ইসি কি রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এমনকি যারা নির্বাচন করেন সেই স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়ার প্রয়োজন মনে করেছেন? সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা বাস্তবায়নের জন্য তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নির্বাচন কমিশন কি কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত অধিদপ্তর-পরিদপ্তর? নির্বাচন ইস্যুতে যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে ইসির কোনো নিজস্ব কোনো চিন্তা-ভাবনা-পরিকল্পনা নেই? গতকাল নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেছেন, কোন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তাদের রাজনীতি করা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা, কোন দলের নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়ার বিষয় তাদের (ইসি) এখতিয়ারভুক্ত নয়। চমৎকার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার। রাজনীতি করতে হলে অবশ্যই নির্বাচন করতে হবে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ‘সংবিধান স্থাগিত’ করে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। আর বাংলাদেশে ‘বিপ্লব করে ক্ষমতায় যাওয়ার’ মতো পরিস্থিতি নেই। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো যে নির্বাচনে অংশ নেবে তাদের জন্য নেবেল প্লেয়িং ফি- গঠন করার দায়িত্ব কার? সমতল মাঠ ছাড়া কেউ কি মাঠে খেলতে যায়? নিরপত্তাহীনতার কারণেইতো অষ্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসেনি।
তিনি বলেছেন, ইসির দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা। যথার্থই বলেছেন। কিন্তু ইসি কি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পরছে বা পেরেছে বা উদ্যোগ নিয়েছে? ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় পুরান ঢাকা নাজিরাবাজারে নির্বাচন কমিশনার মোবারক হোসেন জনতার ধাওয়া খেয়ে যখন পালিয়ে যান তখন কি তিনি বুঝতে পারেননি সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ায় জনতা তাকে ধাওয়া দিয়েছে? স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদের মতে, যেহেতু প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় নির্বাচন, তাই আরও কিছুটা সময় নিয়ে পূর্ণ-প্রস্তুতিসহ তফসিল ঘোষণা করা উচিত ছিল। বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনীয় আচরণ-বিধির গেজেট প্রকাশ করা উচিত ছিল। তোফায়েল আহমেদ মনে করেন সবকিছু ছাপিয়ে নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে বিএনপির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করানোই নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ কিভাবে নির্বাচন কমিশন মোকাবিলা করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
কারণ ফাঁকা মাঠে গোল দেয়া এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ সম্ভাব্য প্রার্থীদের কারাগারে রেখে-হামলা মামলা করে-গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট থেকে দূরে রেখে পাতানো নির্বাচন করা জনগণের ভোটের অধিকারের সঙ্গে প্রহসনের নামান্তর। তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মানুষ সেটা দেখেছে। প্রকৃত অর্থেই ইসি যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায় তাহলে সব দলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের উচিত ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করা। কারণ ভোটার কাকে ভোট দেবে সেটা ভোটারের নিজস্ব অধিকার; কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থী যাতে নির্বিঘেœ ভোটারদের কাছে যেতে পারেন সে পরিবেশ সৃষ্টি করাই ইসির দায়িত্ব। সেটাই ইসিকে করতে হবে। আর যদি ক্ষমতাসীনতের তাবেদারের মতো ইসি প্রার্থী কে হলো না হলো, ভোটের বাক্সের কী হলো না হলো দেখার প্রয়োজন মনে না করে শুধু সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে ফলাফল ঘোষণার চিন্তা-ভাবনা করেন তাহলে কোটি কোটি টাকা খবর করে নির্বাচন করার চেয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের মেয়র হিসেবে ঘোষণা দিলে জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা খরচ করার প্রয়োজন হবে না।
নির্বাচন কমিশন ‘বাকী চাহিয়া লজ্জা দিবেনে না’ প্রবাদের মতো ‘নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করিয়া লজ্জা পাবেন না’ চিন্তা-ভাবনায় আছে সেটাই দেখার বিষয়। –