বুধবার,২৫ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক পর্যায়ে দ্বিতীয় যৌথ সীমান্ত সম্মেলনে স্থলবন্দর, সীমান্ত অপরাধ, শিশু ও নারী পাচার, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, ওষুধ পাচার, অপরাধীদের তালিকা বিনিময় ও চোরাচালানসহ নানা ইস্যুতে ঐক্যমতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও ভারত।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ইস্যু নিয়ে দুই দেশের জেলা প্রশাসক পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে এ ঐক্যমত হয়।
বুধবার সকাল দশটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানান বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাসক মো. সামশুল আরেফিন ও ভারতের লুংলি জেলার ডেপুটি কমিশনার আশীষ মহেন্দ্র সুরে।
রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাসক মো. সামশুল আরেফিন বলেন, ‘বৈঠকে দু’দশের সীমান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তে বড় কোন সমস্যা নেই। রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার সীমান্তে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মালামাল পাচার রোধ, সীমান্ত অপরাধ, অস্ত্র পাচার রোধ ও অপরাধীদের তালিকা বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।’
অনুষ্ঠান শেষে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভারতের প্রতিনিধিরা আন্তরিকতা দেখিয়েছে। সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তাবায়ন হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে সীমান্ত পাচার বানিজ্য, অস্ত্র পাচার ও অপহরণ নিয়ে উভয় দেশের কর্তব্যরত ব্যাক্তিরাই উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের লুংলি জেলার ডেপুটি কমিশনার আশীষ মহেন্দ্র সুরে বলেন, ‘সব ধরনের সমস্য সমাধানে দু’দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। এই সম্পর্কের মাধ্যমেই সকল সমস্যা দূর হবে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদী। উভয় দেশের পাচারের সূত্র অনুসন্ধ্যান জরুরী। সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ সমস্যা রুখতে উভয় পক্ষই অপরাধীর তালিকা বিনিয়ম করছে। গত জানুয়ারিতে মিজোরামে আমরা প্রথম বৈঠক করেছিলাম। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।’
বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও ভারত মিজোরাম রাজ্যের তিনটি জেলার প্রশাসনিক পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ১২ সদস্য বিশিষ্ট দলের নেতৃত্ব দেন রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাসক মো. সামশুল আরেফিন।
এছাড়া ভারতের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন লুংলি জেলার ডেপুটি কমিশনার আশীষ মহেন্দ্র সুরে, পুলিশ সুপার জোসাংলিয়ানা, মামিত জেলার ডেপুটি কমিশনার লালবিয়া শঙ্করী, মামিতের পুলিশ সুপার সি. লালনুন মাওয়াইয়া, লাওয়াংটলাই জেলার পুলিশ সুপার লাল রিংডিকা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ ঘোষ।
বৈঠকে সীমান্ত হাট ও সীমান্ত জরিপ এবং স্থানীয়ভাবে দুই দেশের মধ্যে খেলাধূলার আয়োজনসহ পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এরআগে বৈঠকের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিতে সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘এ বৈঠক বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সৌহার্দ্য এবং সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ভারত একাত্তরে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অসামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল। স্বাধীনতার পরও অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে সহযোগিতা করে আসছে।’
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
