নির্বাচনি প্রচারণায় এমপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ চায় আওয়ামী লীগ

নির্বাচনি প্রচারণায় এমপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ চায় আওয়ামী লীগ

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৫

পাভেল হায়দার চৌধুরী।।

পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম :  নির্বাচনি প্রচারণায় এমপিদের অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আবেদন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামী রবিবার দলটির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে এ আবেদন নিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় বোর্ডের যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, যেহেতু সংসদ সদস্যরা দল মনোনীত এবং জনপ্রতিনিধি; তাদের নির্বাহী ক্ষমতাও নেই, তাই তারা প্রচারণায় অংশ নিলে এক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হবে না বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। উল্লেখ্য, এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনি প্রচারণায় এমপিদের অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিল।

এছাড়া বৈঠকে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্ধারিত পৌরসভার সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে পাঠাবে। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা সে তালিকা যাচাই-বাছাই করে পাঠাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে। স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দানে গঠিত বোর্ড ‘স্থানীয় সরকার বা পৌর মেয়র মনোনয়ন বোর্ডকে নিয়ে তালিকা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সব সদস্যসহ প্রধানমন্ত্রী মনোনীত সর্বোচ্চ আটজন অন্তর্ভুক্ত হবেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের নতুন এ বোর্ডে। কার্যনির্বাহী সংসদ প্রধানমন্ত্রীকে এ ক্ষমতা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এসব প্রার্থীরাই আগামী পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে নির্বাচন হওয়ায় তড়িগড়ির মধ্যে এবার এভাবে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী বাছাই করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তৃণমূলই তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূলেও গণতন্ত্র বিকশিত হবে। দলও শক্তিশালী হবে।

বৈঠকে রাজশাহী, রাজশাহী মহানগর, পঞ্চগড়, বরগুনা, নড়াইলসহ ৯টি জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জমা পড়া আরও বেশ কয়েকটি কমিটিতে গোঁজামিল থাকার কারণে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পঞ্চগড়সহ রংপুরের ৮টি জেলায় কোনওরকম ত্রুটি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একমাত্র রংপুর বিভাগের ৮টি কমিটিই কোনওরকম ঝামেলা ছাড়া অনুমোদন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভৎসনা পেলেন দুই মন্ত্রী

নান্দাইল উপজেলায় আবদুস সালামকে বাদ দিয়ে কমিটি করায় কেন্দ্রীয় সদস্য, ধর্মমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে ভর্ৎসনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আপনি তো মন্ত্রী হয়েছেন, এমপি হয়েছেন, সবই তো পেয়েছেন। এখন দলটা গোছান। সালামকে দিয়ে মিটিং ডেকে ওই সমস্যার সমাধান করেন।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তার বক্তব্যে বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি জাগ্রত হবে। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাকেও ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘আপনি এত ভয় পাচ্ছেন কেনও?’ কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচন না করলেই শেষ হয়ে যাবে, আবার নির্বাচন করলেই চাঙ্গা হবে- এমন ধারণা ঠিক না। তিনি বলেন, আমি সব দলের অংশগ্রহণে পৌরসভা নির্বাচন হোক সেটা চাই। এ প্রথম দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।

বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

জন মন্তব্যকারী




Leave a Reply

Inline