ব্রেকিং নিউজ:
Search

বান্দরবান থেকে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার নেওয়া হচ্ছে

Tuesday,03 Oct 2017

Ctgbarta24.com

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তুমব্রু পশ্চিমকুল এলাকায় আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৯০০ পরিবার রোহিঙ্গাকে বান্দরবানের জেলা প্রশাসন কক্সবাজারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) কাছে হস্তান্তরের প্রাথমিকভাবে সেখান ৫২ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সরিয়ে নেওয়া ৫২ পরিবারকে কুতুপালংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এ সময় তিনি বলেছেন, বান্দরবানে ১৭ হাজার পরিবারসহ বিভিন্ন স্থানে ২৩টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে থাকা সব রোহিঙ্গাকে পর্যায়ক্রমে কুতুপালংয়ে নিয়ে আসা হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেছেন, তাঁর ইউনিয়নে তুমব্রু পশ্চিমকুলে ৮৮৬ পরিবার ও তুমব্রু কোনাপাড়ায় সীমান্তের শূন্যরেখায় ১ হাজার ৩৬০ পরিবার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।
তুমব্রু পশ্চিমকুল আশ্রয়শিবিরে আজ দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, রোহিঙ্গারা প্রথমে আরআরআরসি পাঠানো গাড়িতে কুতুপালংয়ে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। সেখানকার রোহিঙ্গা মাঝি (সরদার) মোহাম্মদ আনাস বলেছেন, তাঁদের কুতুপালং নয়, নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে কেউ কেউ এসে প্রচার চালিয়েছেন। এ জন্য আশ্রয়শিবিরের লোকজন যেতে গড়িমসি করছে। পরে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, আরআরআরসির অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দোজা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারোয়ার কামাল ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসে বোঝানোর পর তাঁরা যেতে রাজি হন।

কক্সবাজারের আরআরসির কমিশনার আবুল কালাম বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তুমব্রু ইউনিয়নের সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের এক সপ্তাহের মধ্যে কুতুপালংয়ে নিয়ে আসা হবে। আরআরআরসির কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ক্যাম্প ইনচার্জ) রেজাউল করিম বলেছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের রোহিঙ্গাদের জন্য তুর্কি সরকারের সহযোগিতায় কুতুপালংয়ে থাকা, পানীয়জল ও স্যানিটেশনসহ সবকিছু ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা থেকে তাদের খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
তুমব্রু পশ্চিমকুল থেকে রোহিঙ্গারা বিকেলে কুতুপালংয়ে পৌঁছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছ থেকে ত্রাণসামগ্রী নেন। এ সময় ৬০ বছরের হামিদ হোসেন বলেন, তাঁদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে ভুল বোঝানো হয়েছে। কিন্তু কুতুপালংয়ে এসে ভুল বুঝতে পেরেছেন। তাঁরা বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের সহযোগিতায় খুবই খুশি।

ত্রাণ বিতরণ শেষে মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সাংবাদিকদের বলেন, নতুন ও আগে আসা মিলে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের থাকার জন্য দুই হাজার একর জমি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত বেশিসংখ্যক লোকজন আসতে থাকায় আরও এক হাজার একর জমি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, কুতুপালংয়ে মোট সাড়ে পাঁচ হাজার একর জমি রয়েছে। প্রয়োজনে সব জমিই রোহিঙ্গাদের রাখার জন্য ব্যবহার করা হবে। মন্ত্রী বলেন, কোনো রোহিঙ্গাকে উখিয়ার কুতুপালংয়ে শিবিরের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের পর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে শিবিরে নিয়ে এসে নিবন্ধন করা হবে।

ত্রাণ বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব শাহ কামাল, আরআরআরসি কমিশনার আবুল কালাম, বান্দরবানের জেল প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image