Monday,11 Sep 2017
Ctgbarta24.com
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের হত্যালীলা ও তান্ডবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দুদেরও হত্যা করা হচ্ছে। পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘর-বাড়ি। রাাখাইন প্রদেশে এ পর্যন্ত ৮৬ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। দুই শতাধিক ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণের ভয়ে উখিয়ার কুতুপালংয়ে পালিয়ে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উখিয়া উপজেলা সভাপতি স্বপন শর্মা রনি আমাদের সময় ডটকমকে জানান, ‘গত কয়েকদিনে এ পর্যন্ত ৫৬২ জন হিন্দু শরনার্থী পালিয়ে এসেছে। তাদের কুতুপালং এলাকায় লোকনাথ মন্দিরের পাশে একটি পোলট্রি ফার্মের ঘরে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।’ পলিয়ে আসা হিন্দু ধর্মালম্বীরা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের মত তাদের গ্রামেও হামলা চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা-নির্যাতন চলছে, পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি। এখনও প্রায় ৮ হাজার হিন্দু প্রাণের ভয়ে জঙ্গলে পালিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেস্টা করছে।
তবে সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রাখায় তারা অনুপ্রবেশ করতে পারছেনা। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কালো শীল জানান, রাখাইন প্রদেশের রিত্তাপাড়া, পুরাতন ফকিরা বাজার, ফকিরা বাজার, চিগেনছড়ি,সাপবাজার,গুচিদং ও ঢেঁকিবুনিয়া গ্রামে কয়েক পুরুষ ধরে হিন্দুরা বসবাস করে আসছে। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কখনো কোন সমস্যা হয়নি। সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছিলাম। রমণী শীল নারে আরেকজন জানান, কয়েকদিন আগে মুখোশধারীর একটি দল ওইসব হিন্দু পল্লীতে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে স্ত্রী ও পাঁচ সস্তানকে সঙ্গে নিয়ে কুতুপালংয়ে পালিয়ে এসেছি।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কুতুপালং এলাকায় আশ্রয় নেওয়া হিন্দু ধর্মবলম্বী অনিকা ধর বলেন, রোহিঙ্গাদের মত তাদের গ্রামেও হামলা চালিয়ে চালানো হয় এবং তার চোখের সামনে তার স্বামী মিলিঙ্গা ধরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একইভাবে রিত্তা ধরের স্বামী ফুবন ধর ও প্রমীলা শীলের স্বামী স্বপন শীলকেও হত্যা করা হয়েছে। রিত্তা ধর অন্ত:স্বত্তা। নিজের ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ দিয়ে দিশেহারা তিনি। উল্লেখ্য, গত ২৪ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে নতুন করে দমন অভিযান শুরু হয়। মিয়ানমার সরকারের হিসাবে, গত এক সপ্তাহে রাখাইনে সহিংসতায় অন্তত চারশ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ২৬০০ ঘর-বাড়ি। তবে রোহিঙ্গাদের দাবি, হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজার। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, সংঘাত থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত তিন লাখেরর মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এ সংখ্যা ৭ লাখের মতো।
আস









