ফেডারেশন কাপের ফাইনাল আজ
খেলা ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
Published: 2016-06-27 03:39:31 AM BdST
আরামবাগ ক্লাব চত্বরটা অদৃশ্য এক ভূমিকম্পে থরথর করে কাঁপছে। শিহরণ, উত্তেজনা, আবেগ, রোমাঞ্চের কাঁপুনি! আজ সন্ধ্যায় কি এখানে রং খেলা হবে? আবার ফাইনাল-হতাশায় শোকের আবহও নেমে আসার শঙ্কা থাকছে। তবে নিশ্চিত করেই আরামবাগবাসী উৎসবের অপেক্ষায় থাকবে। ঘরোয়া ফুটবলে প্রথম কোনো ট্রফি জয়ের উৎসব!
কিন্তু আরামবাগের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সামনে দাঁড়িয়ে আবাহনী নামের এক পাহাড়সম বাধা। যে আবাহনীর এমন ফাইনাল অনেক খেলেছে।
সর্বশেষটি কদিন আগেই স্বাধীনতা কাপের ফাইনাল (চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ২–০ গোলে হার)।
তবে এই ফেডারেশন কাপে আরামবাগের বড় দল শিকার দেখে আবাহনী নিজেদের নিরাপদ নিশ্চয়ই ভাবছে না। হার না-মানা মানসিকতা নিয়েই ফাইনালে এসেছে আরামবাগ। শেখ জামালের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও টাইব্রেকারে তারা যেভাবে জিতেছে, তা এককথায় অনবদ্য। সেমিফাইনালেও বিজেএমসির সঙ্গে পিছিয়ে পড়েও যুদ্ধ জয়।
আরামবাগ অধিনায়ক ও গোলরক্ষক মিতুল হাসান বুঝি ট্রফিটা নিয়ে নেচে ওঠার ছবি আঁকছেন চোখে। বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে আনা ট্রফিটা ধরে ছবি তুললেন আবাহনীর অধিনায়ক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। যশোরের ছেলে মিতুলের চোখমুখে ঠিকরে বেরোনো রোমাঞ্চ তাঁর কণ্ঠেও, ‘এতটা পথ যখন এসেছি, শেষটাও আমরা স্বপ্নের মতো করতে চাই।’ তাঁর সতীর্থদেরও একই কথা। শেষটায় দারুণ কিছু করতে উদ্গ্রীব আরামবাগের সবাই।
বাফুফে ভবন থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে আরামবাগ ক্লাব ভবন। সেখানে গিয়ে কথা হলো কয়েকজনের সঙ্গে। এক পান দোকানি জানালেন, ফাইনালটা দেখতে যাবেন দোকানে অন্য কাউকে বসিয়ে। পাঁচ-ছয় লাখ লোকের বাস আরামবাগ আবাসিক এলাকার কয়েক হাজার সমর্থক আসবেন বলেও খবর।
কেস্টার আকন, ইয়োকোর মতো পরীক্ষিত আফ্রিকান ফরোয়ার্ডদের নিয়ে দ্রুত প্রতি-আক্রমণ আরামবাগের বড় শক্তি। তবে সরাসরি তৃতীয় বিভাগ থেকে আসা আবদুল্লাহ, জাফর ও সুফিলের মতো নবীনেরাও কম ভরসা নন। আবদুল্লাহ এই ফেডারেশন কাপেই গোল করে হারিয়ে দিয়েছেন আবাহনীকে। জাফর সেমিফাইনালে করেছেন জয়সূচক গোল।
এই তারুণ্যই কোচ সাইফুল বারীর রণকৌশলের বড় অংশজুড়ে থাকছে। তবে দল এতটা আসবে ভাবতে পারেননি, ‘তরুণেরা এত ভালো খেলবে ধারণার বাইরে ছিল। ওদের হার না-মানা মানসিকতা দেখে একটু অবাকও হয়েছি।’
কিন্তু এও সত্যি, ফাইনালের স্নায়ুচাপ সামলানোর ক্ষমতা আরামবাগের নেই। আগে দুবার ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠে দুবারই হার। ১৯৯৭ সালে আবাহনীর কাছে ২-১ গোলে, ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৩-০। অন্যদিকে আবাহনী ফেডারেশন কাপ জিতেছে আটবার। ইতিহাস-ঐতিহ্যে আবাহনীই তাই পরিষ্কার এগিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু ম্যাচে।
আকাশি-নীলের আক্রমণে দারুণ ছন্দে দুই আফ্রিকান সানডে ও কামারা। সেমিফাইনালে শেখ রাসেলকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন সানডে। চোট কাটিয়ে ব্রিটিশ ফরোয়ার্ড লি টাক ফিরতে তৈরি। লি একাদশে এলে কামারা বাইরে থাকবেন। তবে যাঁকেই বেছে নেওয়া হোক, লড়াইটা আজ আবাহনীর আক্রমণ বনাম আরামবাগের রক্ষণ হতে পারে।
আবাহনী কোচ জর্জ কোটানের আশা তাঁর দল সুযোগের অপচয় করবে না। সংবাদ সম্মেলনে এটাই ঘুরেফিরে সামনে আনলেন,‘আরামবাগ রক্ষণাত্মক দল। আর আমার শক্তি আক্রমণভাগ, আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলি। আগের ম্যাচে আরামবাগের কাছে হেরেছিলাম রক্ষণে ওরা ১১ জনকেই দাঁড় করিয়ে রাখায়। আমার দল পাঁচ-ছয়টি গোল করার সামর্থ্য রাখে। চাইব ফাইনালে ছেলেরা জ্বলে উঠুক।’
তাহলে আবাহনীই জিতবে? ক্যারিয়ারের শুরু ও শেষের দিকে আরামবাগে খেলা আলফাজ আহমেদের বিশ্লেষণ, ‘মন চায় আরামবাগ জিতুক। কিন্তু শক্তিতে অনেক এগিয়ে আবাহনী। ওরাই ফেবারিট।’
সর্বশেষ পাঁচ ফাইনালে
ফেডারেশন কাপের গত পাঁচ ফাইনালের তিনটির নিষ্পত্তি হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।
সর্বশেষ পাঁচ ফাইনালে ২৬ গোলের ১৬টি করেছেন বিদেশিরা, স্থানীয়দের গোল ১০টি। এবং পাঁচ ফাইনালেই ম্যাচসেরা বিদেশিরা—ইব্রাহিম (আবাহনী), ইয়েকো সামনিক (বিজেএমসি) সনি নর্দে (শেখ রাসেল), ওয়েডসন (শেখ জামাল, ২ বার)।
এই পাঁচ ফাইনালেই ছিল শেখ জামাল। শেষ দুবার টানা চ্যাম্পিয়ন। এবার দলটি বিদায় নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে।
আবাহনী ফাইনাল খেলছে পাঁচ বছর আট মাস পর। সর্বশেষ ২০১০ ফাইনালে শেখ জামালকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন। ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার ইব্রাহিম হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ১৫ বছর পর ফাইনালে আরামবাগ।

