রোববার,০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
রাশেদুল করিম: আর কতো লাশের ভার সইবে নাফ নদী? মানবতা যেন নদীর স্রোতে ভাসমান। লাশ আর মৃতদেহ স্তুপের ভার সইবার ক্ষমতা আরতো নাই! মুসলিম ফোবিয়া একমাত্র কারন রাখাইন রাজ্যে। যখন তাদের ধর্মগুরু বলেন, মুসলিমরা হচ্ছে শেয়ালের মতোন,যখন তারা একত্রিত হয়; তখন হিংস্র হয়ে শিকার করে। সুতরাং রাখাইনে যদি রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাই তাহলে তারা সংখ্যাগুরুদের ডমিনেট করবে। এই আইডিওলজি বা বিশ্বাস যখন তার অনুসারীরা গ্রহন করে তখন তাদের মনে ক্ষমতাচু্্যত হবার ভয় কাজ করে। যার দরুন সেনাবাহিনীর সাথে মিলেমিশে রোহিঙ্গা নিধনে কাজ করছে সেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইরা।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে এই ভয়ে তাদের উচ্চ ডিগ্রি নিতে বাঁধা। চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে কোন সেবা নেই। ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সংস্কার করতে নগ্ন বাঁধা। সরকারী চাকরি সেতো রোহিঙ্গাদের জন্য সোনার হরিন। একটি দেশের সংখ্যালঘু নাগরিক যখন যুগের পর যুগ অপমান, লানচিত, ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে এই নাফ নদীতে মরা ছাড়া তাদের আর কি করার আছে। নিজের বাড়ী-ঘর ফেলে কার ইচ্ছে হয় আরেকটি দেশে রিফিউজি হয়ে থাকতে। নিজের মা,বোনদের ধর্ষণ হতে দেখলে কার মনের ভেতর আগুন জ্বলবে না। আর এই আগুন এক সময় নিজেকে বিদ্রোহী করে তুলে সমঅধিকারের জন্য।
রাজনৈতিক বা ডিপলোমেসি ছাড়া এই সমস্যা সমাধান হবে বলে মনে হয় না। আর যেখানে অনেক রাস্ট্রের চোখ মায়ানমারের প্রাকৃতিক সম্পদের খনির দিকে, সেখানে ভারত বলি বা বিশ্ব মোড়ল বলি জাতিসংঘ বলি কেউ এই রোহিংগা জনগোষ্ঠিকে বাঁচাতে ন্যাটো বাহিনী পাঠাবে না। আর আমরাও চাইবো না মায়ানমারের সাথে ব্যক্তিগত সমস্যা তৈরি করে টেকনাফ স্থলবন্দর কে অকার্যকর বানাতে। কারন দেশের রাজস্ব খাতে হাজার কোটি টাকা জমা হয় এই স্থলবন্দর থেকে। তবে বারংবার সমস্যার কারনে দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ টু মায়ানমার ট্রানজিট ঘাট বন্ধ। যার দরুন রাজস্ব আহরন যা আসতো এখন তাও বন্ধ।
তবে বাংলাদেশ সরকারের বন্ধু সুলভ আচরনের সুযোগ মায়ানমারের সরকার খুব ভালো করে ব্যবহার করছে। যার কারনে আকাশসীমা লংঘন করার সাহস করে। আবার জলসীমা লংঘন করার সাহস দেখায়।
পরিশেষে, গনতন্ত্রের মানসকন্যা, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কঠোর মনোভাব জাতিসংঘের মাধ্যমে মায়ানমারকে রোহিংগা হত্যা বন্ধ করতে বাধ্য করবে আশা করতেই পারি।
শান্তির দূত হয়ে মাননীয় নেত্রী এ জাতিকে নোবেল জয়ী নেত্রী হিসেবে বিশ্বের দরবারে লাল সবুজের পতাকাকে আরও উজ্জ্বল করবেন।
লেখক : সংবাদকর্মী



