'ক্রীতদাস নই, আমি শিল্পী…, মাতৃভূমি, মানবতা, প্রকৃতি ও সর্বপ্রাণের কথা বলি'

আতাহার টিটো ।।  ২৫ জুলাই ২০১৬

আতাহার টিটো

আতাহার টিটো

বলা হচ্ছে এবং শুনছি, “বাঘ-হরিন-ডলফিন-গাছপালার চাইতে উন্নয়ন বড়…!!!” এবং রামপাল কয়লাতাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের নাকি কোন ক্ষতি করবেনা।

বলি, বাঘ-হরিন-ডলফিন-গাছপালা সেগুলোও যে জীবন, যেমন আপনার এবং আমার। খাটো করে দেখবার এতটুকু সুযোগ নেই। প্রতিটি প্রাণের’ই অধিকার, এক আকাশের নীচে শান্তিতে সর্বোচ্চ অধিকারে বাঁচবার। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। সেই মানুষেরই উপর অর্পিত প্রকৃতি ও সর্বপ্রাণ রক্ষার দায়িত্ব। শুধুমাত্র মানুষ নামটি ধারন করলেই মানুষ হওয়া যায়না, অবশ্যই তা সমাজে প্রমান করবার আছে। ন্যুনতম মানুষ যদি হই, প্রতিটি প্রাণ মুল্যায়ন করবার, ভালবাসবার এবং আদর করবার আছে নিশ্চয়। মানুষ-মানবতা-প্রকৃতি-সর্বপ্রাণ’ই মুখ্য।

অবশ্যই আমরা বিদ্যুৎ এবং উন্নয়ন চাই। জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস না করে, জীবনের মৃত্যু না ঘটিয়ে। কোনভাবেই সুন্দরবন বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প হতে পারেনা। মনে রাখবার আছে, প্রকৃতি বাঁচলে সর্বপ্রাণ বাঁচবে। নিঃশ্বাস বাধাগ্রস্থ করে উন্নয়ন নয়। উন্নয়ন হতে হবে সর্বপ্রাণের মঙ্গলের। জীব বৈচিত্র রক্ষা এবং নিঃশ্বাস নিয়ে অন্তত বাঁচতে, সুন্দরবন বাঁচানো খুবই যুক্তিসঙ্গত। সুন্দরবন’ই জীবন।

বাংলাদেশ সংবিধানের (অনুচ্ছেদ ১৮ক) এ পরিবেশ রক্ষায় রাষ্ট্রের উপর অত্যাবশ্যকীয়ভাবে দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে। (অনুচ্ছেদ ১৮ক) বলা হয়েছে- “রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন”। বর্তমান ও ভবিষ্যতের নাগরিকের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের পক্ষে সরকারের দায়িত্ব।

পক্ষান্তরে দেখা যায়, (অনুচ্ছেদ ১৮ক) উপেক্ষা করে জীব বৈচিত্রের ক্ষতি করে সুন্দরবন সংলগ্ন রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়েছে। যার ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরছি, গত সালে ২ ডিসেম্বর  ২০১৫ ইং বাংলা ট্রিবিউন এ প্রকাশিত ‘সম্পাদক, সাপ্তাহিক’ ‘সাংবাদিক ও আলোচক গোলাম মোর্তজা’ এর “জটিল রামপালের অতি সরল ব্যাখ্যা” শিরোনামে প্রকাশিত কলামের কিছু অংশঃ

১. পৃথিবীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তিন ধরনের প্রযুক্তি দিয়ে পরিচালিত হয়।
ক. সাব ক্রিটিক্যাল
খ. সুপার ক্রিটিক্যাল
গ. আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল

বর্তমানের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল’। ভারতের অধিকাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সাব ও সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির। কিছু আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির। এশিয়ার উন্নত দেশ, ইউরোপ, আমেরিকার প্রায় সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিনির্ভর। বাংলাদেশে সুন্দরবনের পাশে ‘রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ পরিচালিত হবে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে।

২. সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে পরিবেশ দূষণ হবে না। কারণ এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তি। বিতর্ক বা গলদ এখানেই।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলবে আর পরিবেশ দূষণ হবে না- এমন প্রযুক্তি আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে আবিষ্কার হয়নি। কোনওদিন আবিষ্কার হবে, তারও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ‘সাব’ থেকে ‘আলট্রা’- দূষণের পরিমাণ কমানো গেছে। কম কয়লা পুড়িয়ে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। সাব ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা ৩৭%, সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে ৩৯%, আর আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে ৪২%।

‘সাব’ বা ‘সুপার’র চেয়ে ‘আলট্রা সুপার’ ক্রিটিক্যালে যেহেতু কয়লা কিছু পরিমাণ কম পোড়াতে হয়, ফলে দূষণও কিছুটা কম হয়। সেই দূষণ কমের পরিমাণ কম-বেশি ২% থেকে ৫%।

আরও সহজ করে বলি- সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে ১০০ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হবে, আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তা ১০ টন কমবে। অর্থাৎ ১০০ টনের জায়গায় ৯০ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড বের হবে। ১০ টন কম মানে পরিবেশ দূষণ একটু কম। ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করব, কোনও দূষণ হবে না, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না- যা সম্পূর্ণ ‘অসত্য’ এবং বাস্তবতা বিবর্জিত কথা।

৩. সরকারের পরিবেশ সমীক্ষা অনুযায়ী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে প্রতিদিন ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড, ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড নির্গত হবে। বছরে ৯ লাখ টন অত্যন্ত ক্ষতিকর বিষাক্ত ছাই বাতাসে মিশবে। সরকারের এই হিসেব কিন্তু ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তিকে বিবেচনায় নিয়েই।

সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার দূরে বিষাক্ত সালফার, নাইট্রোজেন, ছাই উৎপন্ন হবে, আর সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না? এই বিষাক্ত জিনিসগুলো যাবে কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর নেই, আছে শুধু ‘ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে না’ তথ্যহীন বক্তব্য।

৪. ‘আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, পারদ, সিসা, আর্সেনিক মিশ্রিত বিষাক্ত ছাই নির্গত হয়।

রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও এর সবই নির্গত হবে। রামপালের পাশের পশুর নদী থেকে পানি তুলতে হবে, গরম পানি ফেলতে হবে- নদীর পানি, জলজ জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতি হবেই। ভারতের যেসব জায়গায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সেসব জায়গার নদী-খাল-পানি দূষণ হয়, পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। বহু উদাহরণ ইচ্ছে করলে এই লেখাতেও দেওয়া যায়।

৫. ক্ষতি হওয়ার পরও তাহলে ভারতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন নির্মাণ করা হয়েছে? এখনও কেন নির্মাণ করা হচ্ছে? বাংলাদেশে হলে সমস্যা কী?

উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। কিছু ক্ষতি মেনে নিয়েই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ভারতও তাই করেছে। বাংলাদেশেরও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। এটা নিয়ে কোনও বিতর্ক বা আপত্তি নেই। আপত্তি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে নয়। আপত্তি রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে। কারণ রামপালের পাশে সুন্দরবন।

বিদ্যুতের চেয়েও সুন্দরবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎকেন্দ্র রামপাল ছাড়াও আরও অনেক জায়গায় নির্মাণ করা যায়। একাধিক নির্মাণ করা যায়। নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু সুন্দরবন পৃথিবীতে একটিই। আর একটি সুন্দরবন যেহেতু বানানো যাবে না, সুতরাং সুন্দরবন ধ্বংস বা ক্ষতিও করা যাবে না।

৬. সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা পরিবহনের জন্য জাহাজ চলবে। শব্দ ও আলোক দূষণ হবে। বলা হচ্ছে জাহাজে আনা কয়লা এমনভাবে ঢেকে আনা হবে, যা সুন্দরবনের ভেতরে নদীতে পড়বে না। বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে করে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা ঢেকে আনার তত্ত্বটি সম্পূর্ণ অবাস্তব।

ভারতের কয়লা পরিবহনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, খোলা ট্রেনে করে কয়লা পরিবহন করা হয়। তখন বাতাসে দূষণ ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় কোম্পানি ভারতে যা করে না বাংলাদেশে তা করবে- যা কোনভাবেই বিশ্বাসযোগ্য কথা নয়।

৭. আমাদের দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ, সংবাদ কর্মীর ভারতের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেখার সুযোগ হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পরিবেশ দূষণ বিষয়ে যা এই লেখায় বলা হলো তার সবই সেসব কেন্দ্র থেকে হয়। জার্মানির কোলনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অনেকবার আলোচনায় এসেছে।

প্রশ্ন রাখা হয়েছে, পরিবেশের ক্ষতি হলে জার্মানি কী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করত? কোলনের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আমার নিজের দেখার সুযোগ হয়েছে। যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র তার আশপাশে বিশাল এলাকায় কোনও জনবসতি নেই। যারা ছিলেন তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই এলাকায় জীববৈচিত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

ঠিকমতো বৃষ্টি হয় না, ফসল হয় না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিকে কেন্দ্র করে বিশাল এলাকা নিয়ে স্থায়ী সাদা মেঘের মতো ধোঁয়ার আস্তরণ তৈরি হয়েছে। এই ক্ষতি মেনে নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে জার্মান। কারণ এর আশপাশে সুন্দরবনের মতো বিশেষ কোনও বন নেই। সংরক্ষিত কোনও অঞ্চল নেই। জনবসতিও নেই। এই এলাকায় ফসল না হলেও তাদের কোনও সমস্যা হয় না। বহু অনাবাদী জমি এখনও তাদের পড়ে আছে। জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও তুলনা চলে না। তুলনা চলে না ভারতের সঙ্গেও।

ভারত শুধু সুন্দরবন না যেকোনও বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে না। অথচ বাংলাদেশে এসে সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে।

এছাড়া ২০৫০ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের সকল দেশ যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌর, পানি ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। সেখানে আমাদের দেশ উন্নত বিশ্বের ছুঁড়ে ফেলে দেয়া বাতিল প্রযুক্তি গ্রহন করে ভারতীয় কোম্পানির ক্ষতিকারক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করছে। অবশ্যই তা বুঝিয়ে দেয়, কাউকে খুশি করতেই দাসত্বের অনুন্নত উন্নয়ন…!!!

অপরদিকে, ভারতের বিশাল অংশ জুড়ে আছে সুন্দরবন। কিন্তু তারা তাদের সুন্দরবন সংলগ্ন কোন এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করেনি এবং করবেওনা কখনও।

কারন বাধার প্রাচীর তুলে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের আইন। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রাণলয়ের গাইড লাইন ২০১০ অনুসারে নগর, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণি অভয়ারণ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকা অর্থাৎ ভারতের জীব-বৈচিত্র্য সম্পন্ন কোন অঞ্চলের ২৫ কি:মি: সীমার মধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এড়িয়ে চলতে হবে।

সেখানে বাংলাদেশের সাথে ভারতের গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা সত্বেও, ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি ভারতেরই পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ইআইএ গাইড লাইন ২০১০ আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ না দেখিয়ে শুধুমাত্র বযবসায়িক স্বার্থসিদ্ধির জন্যই সুন্দরবন সংলগ্ন পরিবেশ দূষণকারী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করবার জন্যেই মরিয়া। যা কিনা ভারত তার নিজের অংশে কখনও তা করার কথা চিন্তাও করতে পারেনা…!!! বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কাছ থেকে এমন ধ্বংসাত্বক কার্যক্রম মোটেই আমাদের কাম্য নয়।

জীব বৈচিত্র রক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধান (অনুচ্ছেদ ১৮ক) আমলে না নিয়ে রাস্ট্রযন্ত্র অর্পিত দায়িত্বে অবহেলার প্রমান দিয়ে নিশ্চুপ ভুমিকা পালন করে চলেছেন এবং অন্য একটি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন…!!! সত্যই যা প্রতিটি নাগরিক কে দারুনভাবে ভাবিয়ে তুলছে। আমাদের সার্বভৌমত্ব আমাদেরই রক্ষা করবার আছে অবশ্যই তা বুক টান টান করে শিরদাঁড়া উচিয়ে, নতজানু হয়ে নয়।

ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র, অবশ্যই তাকে বন্ধু হিসেবেই পেতে চাই। কোলকাতার অনেক বন্ধু আছেন যাঁরা বাংলাদেশের জীব বৈচিত্র রক্ষায় প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে আমাদের এই সুন্দরবন রক্ষার ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গত আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। সুন্দরবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন মনে প্রাণে সুন্দরবন কে ভালবেসে। তাঁরা খুব ভালো করেই জানে খুলনা এবং কোলকাতার দুরত্ব খুব বেশি নয়। এবং দুই বাংলার গা ঘেঁষেই জুড়ে আছে সুন্দরবন। সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই প্রভাব অবশ্যই কোলকাতার উপরেও পড়বে।

তবে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কাছ থেকে সর্বদা সহযোগীতার চাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি বেশি, যা পরিলক্ষিত হয় শোষণ আগ্রাসন এবং দখলদারিত্ব মনোভাব দ্বারা। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, ফেলানির কাঁটাতারে ঝুলে থাকা। আমাদের অডিও ও চলচ্চিত্র তাদের বাজারে প্রবেশাধিকার না দেয়া এবং ক্যাবল টেলিভিশন চুক্তি হওয়া সত্বেও বাংলাদেশের ক্যাবল টেলিভিশন সম্প্রচার না করা। যা কিনা মোটেই বন্ধুত্বের প্রকাশ নয়। পক্ষান্তরে দেখা যায় বন্ধুকে খুশি করতেই বাংলাদেশে ভারতীয় সকল ক্যাবল টেলিভিশন সম্প্রচার করা হচ্ছে অবাধে, যা প্রমান করে দাসত্বের।

বলি, “দাম দিয়ে কেনা বাংলা, কারো দয়ায় পাওয়া নয়।” সাধারন মানুষের প্রধান হাতিয়ার “প্রতিবাদ” বুক টান টান করে শিরদাঁড়া উচিয়ে প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেই প্রতিবাদের ভাষা অন্তত চালু রাখা চাই। নিশ্চয় শিরদাঁড়া নুঁইয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যায়না।

বলি মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ দিয়ে একটি বিদ্যুৎ কারখানা তৈরী করা সম্ভব। কিন্তু পৃথিবীর সমগ্র মানুষ একত্রে এনে একটি সুন্দরবন তৈরী করা সম্ভব নয়। মনে রাখবার আছে, ঐ কয়লাবনে হবে মৃত্যুচাষ, সর্বপ্রাণের সর্বনাশ। কয়লাচিতায় সুন্দরবন পুঁড়িয়ে, সর্বপ্রাণ মরতে দিতে পারিনা।

দারুনভাবে আশাকরি, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে বন্ধুত্বের প্রমান দেখাতে জীব বৈচিত্র রক্ষায় ফড়িয়া বেনিয়া ব্যবসায়িক চিন্তা বাদ দিয়ে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো ধ্বংসাত্বক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সুন্দরবন সহ সর্বপ্রাণ বাঁচাবে।

সে সাথে আমাদের নীতিনির্ধারকগণের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, অবশ্যই তাঁরা নতজানু আচরণ ও ঘুমন্ত বিবেক কে জাগ্রত করে। জীব বৈচিত্র রক্ষায় ধ্বংসাত্বক রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে সুন্দরবন সহ দেশ এবং সর্বপ্রাণ বাঁচাবেন।

“শিল্প যদি সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্যে না হয়, তবে তা দিয়ে ঘর সাজানোই শ্রেয়”। একজন মানুষ হিসেবে, মনুষত্ব ও শিল্পের দায়বদ্ধতার যায়গায়। পরিচ্ছন্ন-মানবতাসম্পন্ন প্রেমময়-সুন্দর একটি সমাজ গড়ার লক্ষ্যে, মানুষে মানুষে পারস্পরিক টান। মানবতা এবং সর্বপ্রাণে প্রেম ভালোবাসা জাগানো আমার কর্তব্য এবং সমাজের প্রতিটি অন্যায় ও মানবতাহরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমার দায়িত্ব।

পরিশেষে এটুকুই বলতে চাই, বুক টান টান করে শিরদাঁড়া উচিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার আছে। দেশ বর্ণমালা ও সর্বপ্রাণ ভালবাসবার এবং আদর করবার আছে কামনা করি। সঙ্গীতের আলোয় আঁলোকিত হোক পৃথিবী সমগ্রবিশ্ব রুপান্তরিত হোক একটি প্রেমময় পরিবারে। মানুষে মানুষে পারস্পরিক আত্মার টান সর্বপ্রাণে ভালবাসা-সত্য ও সুন্দরের প্রাণশক্তি জাগুক প্রাণে। সুন্দরবনের মায়া ছড়িয়ে যাক জীবন থেকে জীবনে সর্বপ্রাণে। সুন্দরবন’ই জীবন জীব বৈচিত্রের সুন্দরবন ধ্বংস করে ক্ষতিকর রামপাল কয়লাতাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র চাইনা। সর্বপ্রাণের মঙ্গল হোক।

 

আতাহার টিটো

সঙ্গীতশিল্পী ও লেখক




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image