নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2016-06-29 09:35:30 PM BdST
চট্টগ্রাম: খাদ্য তৈরি ও বিক্রিতে নানা অনিয়ম এবং যানবাহনের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে আজ বুধবার (২৯ জুন) চট্টগ্রামে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নোংরা পরিবেশ, ময়লা হাতে পণ্য তৈরি, পণ্যের গুণগত মান বজায় না রাখা, পোড়া তেল ব্যবহার, পণ্যের মেয়াদ নিয়ে প্রতারণাসহ নানা অনিয়মের কারণে নগরের চারটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থাই ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, মেরিডিয়ান চিপস, বিএসটি ফুড প্রোডাক্টস ও অলিম্পিক মিল্ক অ্যান্ড ফুড প্রসেসিংকে মোট ৩১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নগরের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় দিনভর এসব অভিযান চালান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এ সময় তাঁকে সহায়তা করেন র্যাবের কর্মকর্তারা।
র্যাব সূত্র জানায়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ও খালি হাতে নুডলস তৈরি এবং শৌচাগারের ভেতর ড্রামে করে কাঁচা মটর সংরক্ষণের দায়ে থাই ফুড প্রোডাক্টসকে সাত লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্যের গুণগত মান বজায় না রাখা, খালি হাতে চিপস, ললিপপ তৈরি ও বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়া কোমল পানীয় তৈরির দায়ে মেরিডিয়ান চিপসকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য উৎপাদন এবং পোড়া তেল ব্যবহারের জন্য বিএসটি ফুড প্রোডাক্ট নামের আরেকটি বেকারি প্রতিষ্ঠানকে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া আমদানি করা গুঁড়ো দুধের গায়ে মেয়াদ না লেখা ও অনেক আগে আমদানি করা দুধ শিশুখাদ্য হিসেবে প্যাকেটজাত করার সময় ভুল মেয়াদ বসানোর দায়ে অলিম্পিক মিল্ক অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন, কমবেশি সব কটি কারখানাই নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করছিল। কেউ আবার মেয়াদ না লিখে বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজারজাত করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। এসব অভিযোগে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে লবণে আয়োডিন না দেওয়া, স্বয়ংক্রিয় মেশিনের নামে সনাতন পদ্ধতিতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উৎপাদন, ওজনে কম দেওয়া ও প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ায় ‘মেসার্স মালেক সল্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নগরের এয়াকুবনগর এলাকায় এ অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ রুহুল আমীন। এ সময় তাঁকে সহায়তা করেন আরও দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নুরুল আলম ও শান্তা রহমান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ রুহুল আমীন সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন, প্যাকেটের গায়ে স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি উল্লেখ থাকলেও আসলে কারখানাটিতে সনাতন পদ্ধতিতে লবণ তৈরি হচ্ছিল। তাঁরা আয়োডিনযুক্ত লবণ দাবি করলেও কারখানার ভেতরে আয়োডিনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
লবণে আয়োডিন না দিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করায় নগরের মাঝিরঘাট এলাকায় আরও একটি লবণের কারখানাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি।
এ ছাড়া চালকের লাইসেন্স না থাকা, নিবন্ধন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো, হেলমেট ব্যবহার না করা ও হাইড্রলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে মোট ১২ জনকে ৭ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরীনা রহমান।

