সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2016-06-30 19:12:45 PM
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি হাটহাজারী উপজেলায় মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অস্ত্রসহ গ্রেফতারের ৫৭ দিন পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি।
চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদেরকে জানান, হাইকোর্টের দেয়া রনির জামিন আদেশ বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারে পৌঁছে। যাচাইবাছাইয়ের পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
এসময় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ঢল নামে। ফুলের মালা দিয়ে তখন রনিকে বরণ করে নেন নেতাকর্মীরা। পরে কারাগারের সামনে আনন্দ মিছিল হয়।
গত ২৫ মে দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল মামলায় রনিকে জামিন দেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত। তবে অস্ত্র মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন।
এদিকে গত ২৮ জুন অস্ত্র মামলায় রনিকে তিন মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এর আগে গত ১৯ জুন চট্টগ্রামের চতুর্থ বিচারিক হাকিম শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে রনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
এরপর রনির পক্ষে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানানো হলে গত ১৩ জুন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত অথবা ছয় মাসের জন্য জামিন দেন আদালত। কিন্তু পুলিশ জামিনে মুক্তির আগেই অভিযোগপত্র দাখিল করায় তার মুক্তি পিছিয়ে যায়।
এরপর রনির পক্ষে হাইকোর্টে আবারও জামিনের আবেদন করা হলে ২৮ জুন তিনি তিন মাসের জামিন পান।
প্রসঙ্গত গত ৭ মে বেলা সোয়া ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর থেকে রনিকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় তার কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলে গণমাধ্যমে তথ্য দিয়েছিল বিজিবি।
নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন নির্বাচনে দায়িত্বরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুনুর রশিদ। এছাড়া অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত রনিকে আটকের সময় পাঞ্জাবির কলার ধরে টানা-হেঁচড়া ও লাঞ্ছনার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনার দিন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ শুরু হয়। রনির মুক্তির দাবিতে রাজপথে নামে ছাত্রলীগ।
নূরুল আজিম রনি চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে পরিচিত।

