নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
Published: 2016-07-02 12:15:09 AM BdST
চট্টগ্রাম : পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন শাহজাহান ও সাইদুল ইসলাম ওরফে সাকু।
তাদেরকে শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশের করা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের জন্য আগামী ১৭ জুলাই দিন ধার্য করেন।
পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার (১ জুলাই) সকালে নগরী এবং রাঙ্গুনিয়া থেকে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, মাহমুদা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাদের রিমান্ড শুনানি হবে আগামী ১৭ জুলাই।
গ্রেপ্তার সাইদুল ও নিখোঁজ মুছার ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌস আজ সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তার দুই ভাইকে পুলিশ ৭-১০ দিন আগে আটক করে থানা হাজতে রাখে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালান দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তার এক ভাইকে পুলিশ শুক্রবার আদালতে তুলেছে। আরেক ভাইয়ের হদিস পাচ্ছেন না। তার দাবি করেন ভাইকে জীবিত ফেরত দেওয়া হোক। আর দোষী হলে বিচার হোক।
পুলিশের ভাষ্য, এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, মাহমুদা হত্যায় অন্যদের সঙ্গে শাহজাহানও সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। সাকু এই হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন কামরুল শিকদার ওরফে মুছার ভাই।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য শুক্রবার দুপুরে বলেন, সাকুকে রাঙ্গুনিয়া থেকে ও শাহজাহানকে নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সাকুর কাছ থেকে নিয়েছিলেন তাঁর ভাই মুছা। পরে তা উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই মামলার আসামি ওয়াসিম, আনোয়ার, অস্ত্র সরবরাহকারী ভোলা ও তাঁর সহযোগী মনিরকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এখনো পলাতক রয়েছেন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া মুছা, মো. কালু (২৮), মো. রাশেদ (২৯) ও নূর নবী (২৮)।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার আনোয়ার ও ওয়াসিম তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, মাহমুদা হত্যার পুরো বিষয়টির সমন্বয় করেছিলেন মুছা। আর মাহমুদাকে পেছন থেকে ছুরি মারেন নবী।
মুছার স্ত্রী পান্না আক্তারের দাবি, গত ২২ জুন চট্টগ্রামের বন্দর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মুছাকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পরিচয়ধারী লোকজন। এ সময় সন্দেহভাজন নবীও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য, মুছা ও নবী তাদের হেফাজতে নেই। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

