২০ জুন সোমবার, ২০১৬
চট্টগ্রাম: প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং পুলিশের ছত্রছায়ায় চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজকে ঘিরে বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছে দুই কলেজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছাত্রলীগ নেতারা।
পরপর দুদিন সংঘাতের প্রেক্ষিতে রবিবার (১৯ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে চট্টগ্রাম কলেজে দুদিন ধরে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলা, ছাত্র-সংসদ কার্যালয় ভাংচুর এবং তান্ডব চালিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ক্ষুন্ন করায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানান ছাত্রলীগ নেতারা।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবিরের জিম্মিদশা মুক্ত হয়েছে। এরপর দুটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ একটি দুষ্টচক্র এই পরিবেশ নস্যাৎ করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং সমাজের অন্ধগলির বাসিন্দা। তারা প্রভাবশালী রাজনীতিকদের মদদপুষ্ট।
‘বহিরাগতদের উপর্যুপরি হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পুলিশ হামলাকারীদের প্রতিহত না করে নিরীহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নিপীড়ন চালিয়েছে। এতে বহিরাগতরা পুলিশের ছত্রছায়ায় থেকে আরও বেশি বেপারোয়া হয়ে উঠেছে। ‘
বিবৃতিতে হামলাকারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিদানকারীরা হলেন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম, ইউসুফ কবির, জাহাঙ্গীর রেজা, তারেকুল ইসলাম, নিবিড়, সোহেল রানা, কামরুল হাসান মাসুম, জাবেদুল ইসলাম জিতু, মনিরুল ইসলাম, খাদেমুল ইসলাম দুর্জয়, মো.সোহেল, ইকবাল হোসেন, নাজমুল হাসান, রিদুওয়ানুল বারী ফরহাদ, বিশ্বজিৎ শর্মা, আমিনুর রহমান রিফাত, জসিম উদ্দিন নাহিদ, সোহেল রানা, রফিকুল ইসলাম, কণিক বড়ুয়া, সরফুল ইসলাম মাহী, নাঈম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, খন্দকার নাইমুল আজম, মো.হাসান, কাইসার মাহমুদ, মানিক, জাহিদ হাসান সাইমুন, মো.হালিম, হাসান, সাইমুন, তানভীর, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার পলাশ, মাইমুন উদ্দিন মামুন, আহমেদ রেজা, মো.সাহেদ, কাজী নাঈম, ফখরুজ্জামান আল ফয়সাল।
ক্যাম্পাসে আধিপত্য নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজে গত দুদিন ধরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। সংঘাতে জড়িতরা সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
প্রায় তিন দশক ছাত্রশিবিরের দখলে থাকার পর ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির নেতৃত্বে চট্টগ্রাম কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেয় ছাত্রলীগ। একইসঙ্গে একই এলাকায় শিবিরের দখলে থাকা সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজেরও নিয়ন্ত্রণ নেয় ছাত্রলীগ।
বর্তমানে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ নিয়ন্ত্রণে রাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।
বর্তমানে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে রাখা নেতাদের অভিযোগ, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী বহিরাগতরা তাদের হটিয়ে ক্যাম্পসের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে।

