রোববার, ১৯ জুলাই, ২০১৫
একটা বিশেষ কাজে আমাকে হিমু সাহেবের স্মরাণাপন্ন হতে হচ্ছে। আমি তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। সেদিন হিমুর মেসের ঠিকানায় হাজির হয়ে দেখি হিমুর মেসের ঘর ফাঁকা। মেস ম্যানাজার বদরুল সাহেবের কাছে
শুনেছি, ডুব দেয়া হিমু সাহেবের
অভ্যাস। তিনি প্রায় ডুব দেন। তবে এইবার ডুব দিয়েছেন অনেক দিন হল।
আমি বল্লাম, তাকে পাওয়া যাবে এমন সম্ভাব্য ঠিকানা দিতে পারেন প্লিজ?
বদরুল সাহেব মাজেদা খালার বাসার ঠিকানা দিলেন। আমি মাজেদা খালার বাসায় হানা দিয়েছি।মাজেদা খালা হিমুর খোঁজে এসেছি শুনে আদরের চূড়ান্ত করলেন। তাঁর নিজের হাতে বানানো তিতা করলার সন্দেশ খেতে (জঘন্য) দিলেন। তাঁর কাছে ও হিমুর সন্ধান পাওয়া গেল না। তিনি বাদলের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেন। বাদলকে চিনেছেন
তো? হিমু সাহেবের ফুফাতো ভাই। একান্ত অনুগত শিষ্য। বিদায়ের সময় মাজেদা খাল আপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
ছলছল চোখে তিনি বল্লেন,
‘ফাজিলটাকে পেলে কান ধরে আমার কাছে নিয়ে এসো তো বাবা। আমি ওর মহাপুরুষ গিরি বের করে দেব।’
মাজেদা খালার দেয়া ঠিকানা
অনুযায়ী আমি এখন বাদলদের বাসায়। বাদল উদাস উদাস ভঙ্গিতে সোফায় বসে কি যেন ভাবছিল, এমন সময় আমি
ঘরে ঢুকলাম। বাদলের কাছে ও হিমু সাহেবের কোন খবর পাওয়া গেল না। তবে সে তার হিমু ভাইজানকে দিনে একটা করে টেলিপ্যাথিক ম্যাসেজ দিয়ে যাচ্ছে। তার ধারণা ম্যাসেজ
ডেলিভারি হচ্ছে না। যেদিন
ডেলিভারি হবে সেদিন হিমু ভাইজান অবশ্যই তাদের বাসায় আসবে। সেদিন বাদল আমাকেই প্রথম হিমু ভাইয়ের আসার সংবাদ দিবে, এই ওয়াদা ও সে
করে ফেলেছে। আমার আর বাদলের কথা বার্তার মাঝেই মুখে পাইপ ওয়ালা সুদর্শন এক ভদ্র লোক ঘরে প্রবেশ করেছেন। আমার দিকে সরু চোখে তাকাতেই বাদল উনার দিকে তাকিয়ে বল্লেন, ‘বাবা! ইনি হিমু ভাইজানের খোঁজে এসেছেন।’
ভদ্র লোকের ভুরু আরো কুঞ্চিত হয়ে গেল।
বল্লেন, ‘আই সি। বাদল তুমি একটু উপরে যাও। আমি উনার সাথে একান্ত আলাপ করতে চাই।’
বাদল বাধ্য ছেলের মত মাথা নিচু করে বেরিয়ে গেল। ভদ্র লোক এগিয়ে এসে সোফায় বসলেন।
‘হিমুকে দিয়ে তোমার কাজ কি?’
‘পার্সোনাল মেটার স্যার.…’
‘তুমি তোমার পার্সোনাল মেটার নিয়ে এখানে এসেছো কোন সাহসে?’
‘হিমু সাহেবের খোঁজেই এসেছি’
‘লিসেন, এইটা ভদ্র লোকের বাড়ি। এইখানে কোন সিরিয়াল কিলার থাকে না…’
‘সিরিয়াল কিলারের কথা আসছে কেন স্যার?’
‘আসছে কারন তুমি যার খোঁজে এসেছে সে একজন সিরিয়াল কিলার। না না, আরো মারাত্মক। ফাজিল একটা…’
‘হিমু সাহেবকে নিয়ে আপনার ভূল ধারনা হচ্ছে স্যার। আমি শুনেছি, তিনি সাধু শান্ত টাইপ মানুষ…’
‘হলুদ পান্জাবী পড়ে খালি পায়ে রাত বিরাতে হাঁটলেই মহাপুরুষ হয় না। যাই হোক, এটা নিয়ে তোমার সাথে আর
তর্ক ও করতে চাচ্ছি না। আমি তিন গুনার আগেই তুমি বিদেয় হবে আর কোন দিন বাড়ির ত্রী-সিমানায় আসবে না। এলেই গুলি করে মেরে ফেলবো। তুমি বোধয় জানো না, আমার কাছে লাইসেন্স করা বন্দুক আছে…’
ভদ্র লোকের ভাব গতি দেখে মনে হল, সত্যি সত্যি গুলি করে দেবেন। আমি বেরিয়ে পড়লাম। আচ্ছা, মিসির আলী সাহেব কী হিমুর কোন খবর জানেন?
জানতে পারেন।
আমি মিসির আলী সাহেবের বাসায় হাজির হলাম। মিসির আলী সাহেবের বাসায় বল্টু সাইজের ছোট্ট একটা তালা
ঝুলছে। বাড়ির মালিক হাজি হাশেম মিয়ার কাছে জানা গেল, মিসির আলী বার্ধক্য জনিত কোন এক রোগে ভূগছেন
এবং একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে
চিকিৎসাধীন আছেন। সে ক্লিনিকের ঠিকানা যেন কাউকেই দেয়া না হয়, এই কঠিন নির্দেশ স্যার তাকে দিয়ে গেছেন। স্যারের নির্দেশে হাশেম মিয়া অটুট। ক্লিনিকের ঠিকানা তিনি
কাউকেই দিবেন না। দিলে হাশেমের স্ত্রী তিন তালাক।
হিমু সাহেবকে পাওয়া যাচ্ছে না,
এজন্যে থানায় ডায়েরী করা যেতে পারে। আমি ডায়েরী করতে রমনা থানায় হাজির হলাম। রমনা থানার ওসি সাহেব খ্যাখ খ্যাখ করে বল্লেন, ‘কে যেন হারিয়ে গেছে?’
বল্লাম, ‘হিমু সাহেব। ভালো নাম শুনেছি হিমালয়।’
– ‘আপনি হিমুর কে?’
– ‘কেউই না। তবে উনাকে আমার বিশেষ প্রয়োজন।’
হিমু সাহেব সম্ভবত ওসি সাহেবের পূর্ব পরিচিত। হিমুর নাম শুনেই তিনি শুরুতে চমকে উঠেছিলেন। তাঁর রাগ সপ্তম থেকে পাতালে নেমে এল।
– ‘হিমু সাহেবের খবর জানতে পারে, এমন একজানের সাথে ফোনে কথা বলতে পারবেন?’
বল্লাম, ‘অবশ্যই।’
‘ওকে, তাইলে ওয়েট করুন। আমি লাইন ধরে দিচ্ছি।হিমুকে আমার ও খুব দরকার। আপনার ভাবি প্রায় তাকে বাসায় দাওয়াত দিতে বলেন। যাকে লাইনে ধরিয়ে দিচ্ছি, উনার নাম মিস রূপা…’
মিস রূপাকে আধা ঘন্টা চেষ্টার পর টেলিফোনে পাওয়া গেলে ও তিনি অদ্ভূত ব্যাবহার করে লাইন কেটে দিলেন। শুধু এইটুকুই বলেছিলেন, ‘কোন এক বর্ষার দিনে হিমু আসবে বলে কথা দিয়েছিল। হিমুরা কথা দিয়ে কথা ভঙ্গ করেনা।’
এর পর ফুঁফানো আর কয়েক সেকেন্ড পর টেলিফোন রেখে দেয়ার খুট শব্দ ছাড়া আর কিছু শুনতে পাইনি। রূপা ম্যাডাম মিথ্যা বলবেন বলে মনে হচ্ছে না। এত মিষ্টি গলায় কেউ মিথ্যা বলেনা।
কোন এক ঝুম বরষায় হিমু অবশ্যই আসবে।
চান্নি পশর রাইতে সে আবার রাজপথে নামবে জোছনা স্নানে। আপনাদের কেউ হিমুকে পেলে জানাবেন, উনাকে আমাদের দরকার। বড্ড জরুরী!
উৎসর্গ:- হিমু পরিবহনের নিবেদিত সে সকল সদস্যদের যারা স্বার্থের উর্ধে গিয়ে স্যারের প্রতি ভালোবাসা বুকে লালন করে এগিয়ে যাচ্ছে। জীবনের একটা সুন্দর সময় আমি এই সংগঠনের সাথেই কাটিয়েছি। আমি কৃতজ্ঞ।
-এহসান বিন দিদার।
সমন্বয়ক, ময়ূরাক্ষী।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper
