বৃহস্পতিবার, ০৫ মে ২০১৬ ১৫:৫৯ ঘণ্টা
বিনোদন ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
জেনিফার আলম : গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষের জীবন যখন অস্থির ঠিক সেই মুহূর্তে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পেলো নতুন ছবি ‘আইসক্রিম’। একেবারেই নতুন তিনটি মুখ নিয়ে ‘চোরাবালি’ খ্যাত নির্মাতা রেদওয়ান রনির এ ছবিটি মুক্তি পেতে না পেতেই একপশলা বৃষ্টি এসে প্রকৃতিকে অনেকটাই স্নিগ্ধকর শীতক করে তুললো। তাতে কী, শীত কিংবা গ্রীষ্ম বারো মাসই আইসক্রিমের চাহিদা রয়েছে সবার কাছে। এরি কারণে আমি ও আমার দুই রির্পোটার সহকর্মী হাজির হয়েছিলাম রাজধানীর নীলক্ষেত-নিউ মার্কেট এলাকার বলাকা প্রেক্ষাগৃহে, দেখতে এলাম ‘কেমন চলছে আইসক্রিম’।
সিনেমার শুটিংয়ের শুরু থেকেই নির্মাতারা বলে আসছিলেন ‘আইসক্রিম’ তারুণ্যেদের পছন্দীয় একটি ছবি। বিকেলের ঠিক আগ মুহূর্তে বলাকার সামনে পৌঁছামাত্র এর প্রমাণ মিলে। ১২ টার শো তখনও শেষ হয়নি। টিকেট কাউন্টারের সামনে বেশ কয়েকজন তরুণ তরুণীকে ঘোরাফেরা করতে দেখলাম। কারো কারো হাতে ‘আইসক্রিম’ এর টিকেট। তাদেরই একজন ঢাকা মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সায়েম। বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে ছবি দেখতে এসেছেন। তাকে প্রশ্ন করলাম আইসক্রিম কেন দেখতে এলেন? উত্তরে বললেন, ‘সিনেমা হলে এসে সাধারণত খুব একটা ছবি দেখা হয় না। কালে ভদ্রে আসি। এ ছবির প্রচার এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছবিটির ব্যাপারে পড়ে কাহিনীগল্প ভালো লেগেছে। তখন মনে হলো আমাদের মতো তরুণ-তরুণীদের কথা ভেবেই হয় তো এ ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাই ক্লাস শেষে চলে আসলাম।’
সায়েমের সাথে কথোপকতন শেষ হতে না হতেই ১২ টার শো তখন শেষ হলো। গুটিগুটি পায়ে বেরিয়ে আসছেন দর্শক। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও, সবার চোখেমুখে ছিলো তৃপ্তির বর্ণচ্ছটা। এরই মধ্যে সাতজনের একটি দলের দিকে এগিয়ে গেলাম। সবাই রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী। তাদের একজন রাতুল ‘আইসক্রিম’ সিনেমা প্রসঙ্গে বলেলেন, ‘ছবিটা মূলত সাইকোলজিকাল প্রেমের গল্প। যা আমাদের দশটা বাংলা ছবিতে দেখা যায় না। আর একারণেই হয় তো ছবিটি আমার ভালো লেগেছে।’
তার পাশে থেকে তার আরেক বন্ধু সুসান্ত বললো, ‘ছবিতে নাদিম নামে চরিত্র আছে। ওর অভিনয় দেখে মুখ থেকে সয়ংক্রিয় ভাবেই গালি চলে এসেছে। আর এটা হয়েছে ওর অভিনয় দক্ষতার জন্যেই।’
রাজধানীর নিও ডিওএসএইস থেকে নিউমার্কেটের পাশে গাউসিয়ায় কেনাকাটা করতে এসেছিলেন তাহসিনা তাকিয়া ও তার বন্ধু তাহরিম আজাদ অনন্য। কেনাকাটা শেষ করে জানতে পারলেন ‘বলাকায়’ নাকি ‘আইসক্রিম’ নামের ছবিটি চলছে। সাথে সাথে দু’জনে টিকেট কেটে বসে গেলেন সিনেমাটি দেখতে হলে।
সিনেমা শেষে হল থেকে বেরিয়ে এসে তাহসিনা তাকিয়া বললেন, ‘ আমাদের সময়টা বোরিংভাবে কাটেনি। আমি অনেকদিনধরে বাংলা সিনেমা দেখিনি। সিনেমাটির একটি দৃশ্য নায়ক উদয়ের একটি কান্নার সিন আছে। দৃশ্যটিতে নায়ক টয়লেটে বসে কাঁদছে। যা দেখে আমার অতি পরিচিত একটি ঘটনা মনে হয়েছে। আসলে বাস্তব জীবনের গল্পের উপর ভিত্তি করে পরিচালক সিনেমাটি বানিয়েছেন।’
বলাকা প্রেক্ষাগৃহের টিকেট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা আব্দুল হালিম জানান, ‘আইসক্রিম’ সিনেমাটি দেখারর জন্য মূলত তরুণ-তরুণীরাই বেশি আসছে। সেই সংখ্যাটা খুব বেশি নয়। তবে অন্যান্য বাণিজ্যিক ছবির তুলনায় বেশ ভালো।’
অন্যদিকে ছবি প্রসঙ্গে নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘যারাই ছবিটি দেখছে, তারাই প্রসংশা করছে। আর এটাই আমার প্রাপ্তি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েকদিন আমরা বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে বসে ছবিটি দেখেছি। আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী যখন দর্শকরা বিভিন্ন দৃশ্য চিৎকার আর করতালি দিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করেছে। যার বয়সে অধিকাংশই তরুণ। এরা যখনি প্রেক্ষাগৃহে আসতে থাকবে, তখনই বাংলা সিনেমার চেহারা ভবিষ্যতে পাল্টে যাবে।’

