পিডিবি, টেলিফোন ও ইন্টারনেটের তার কী নেই!
মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
সোমবার, ০৯ মে ২০১৬
চট্টগ্রাম : এলোমেলোভাবে টানানো গুচ্ছগুচ্ছ তার। এ যেন তারের জঞ্জাল। এমন দৃশ্য চোখে পড়বে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় সবখানেই। যেখানে ডিশের লাইন, টেলিফোন আর ইন্টারনেটের নানা তারে সয়লাব রাস্তার দুইপাশের বিদ্যুতের খুটি।
বিভিন্ন সংস্থা যার যার মতো করে অগোছালোভাবে এসব লাইন টানছে এদিক সেদিক। কোথাও কোথাও তার ছিড়ে পড়ছে রাস্তায়। তাতে বাড়ছে বিপদের ঝুঁকি।
নগরীর ব্যস্ততম বানিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদের বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, যখন দমকা বাতাস হলে কিংবা বৃষ্টি হলে এখানকার মানুষের মনে একটা আতংঙ্ক সৃষ্টি হয়ে যায়। কখন কোন তার ছিরে মাটিতে পড়ে কোথায় যেন আগুন ধরে যায়। তার চিরে গিয়ে অনেক সময় অতীতে দুর্ঘটনাও গঠেছে।
আরেক এলাকাবাসী রফিক বলেন এই যে দেখুন তার ছিড়ে পড়ে আছে। যে কোন মুহুর্থে প্রাণঘাতির গঠনাও হতে পারে। ছোট বাচ্ছাকাচ্ছা নিয়ে আমরা হাটাচলা করার সময় চরম আতঙ্কিতর মধ্যে থাকি।
এতে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই নগরবাসীকে জঞ্জাল মুক্ত করতে উন্নত দেশের আদলে চট্টগ্রামেও মাটির নিচ দিয়ে আলাদা চ্যানেল করে ক্যাবল লাইন নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নগরবিদরা।
এব্যপারে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, সিটি কর্পোরেশন যদি সুনির্দিষ্টভাবে একটা চ্যানেল তৈরি করতে হবে এবং সবাইকে বাধ্য করে দিতে হবে ওই চ্যানেলগুলোর ভেতর দিয়ে তাদের ক্যাবলের তারগুলো টেনে নিয়ে যেথে হবে।
পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশন চ্যানেলটা বানাতে যে অর্থ ব্যয় হবে সেটা তাদের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারেন। চসিকের মূল যে কাজটা করতে হবে পুরো নগরীজুড়ে চ্যানেল নেটওয়ার্কটা তৈরি করে নেওয়া।
অনেক দেশে মাটির নিচে আলাদা চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা সংস্থার এসব তার নেয়ার ব্যবস্থা থাকলেও চট্টগ্রামে এদিকে কোন নজরই নেই প্রশাসনের। তাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এসব তারকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার তাগিদ এই নগরবিদের।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার কারণে এ ব্যাপারে শৃঙ্খলা আনা কষ্টসাধ্য বলে মনে করছে সিটি কর্পোরেশনও। এজন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে কথা বলে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান সিটি মেয়র।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, অনেকগুলো ডিপার্টমেন্ট আছে যেমন পিডিপি, টিএন্ডটি এবং ক্যাবল অপারেটররা যারা আছেন সবাইকে পরবর্তী কোঅর্ডিনেশন মিটিংয়ে তাঁদেরকেও আমন্ত্রণ জানাবো। তখন মিটিংয়ে সকলের সাথে সমন্ময়ে নগরবাসীর সুবিধার্থে একটা সির্ধান্ত নিতে পারবো বলে আশা করছি।
এদিকে বিশৃংখল এসব তারকে শৃংখলার মধ্যে আনা গেলে শহরের সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়তো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

