রবিবার,২২ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরায় গ্রামের বাড়িতে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জানাজায় ছিলেন না তার দুই ভাই বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও ব্যবসায়ী জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে পৈত্রিক বাড়ি রাউজানের গহিরাতে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বাইতুল বিল্লালে’ পারিবারিক কবরস্থানে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল ৯টার দিকে তার মরদেহ পৌঁছায় সেখানে।
সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মাজহারুল ইসলামের কাছ থেকে সাকার মরদেহ বুঝে নেন তার ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এর মিনিট দশেক পরেই তাদের পারিবারিক মসজদের আঙ্গিনায় সাকার জানাজার নামাজ পড়া হয়। জানাজা পড়ান হেফাজত ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।
এ সময় সাকার পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ স্বজনরা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না আপন দুই ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরী। জানাজায় অংশ নেননি সাকার চাচাত ভাই ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীও।
তবে তার ছেলে এবিএম ফয়েজ কাদের চৌধুরী, ভাই ফজলে একরাম চৌধুরী, ফজলে এমরান চৌধুরীসহ অন্যান্য আত্মীয়রা সেখানে ছিলেন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাগ্নে আতিউল্লাহ চৌধুরী সম্রাট বলেন, ‘সকালে ফ্লাইট না পাওয়ায় তারা গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।বিকেলে নগরীর চকবাজারের প্যারেড ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য গায়েবানা জানাজায় অংশ নেবেন তারা।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে রা্উজানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখানে বিবেচনায় রাখা দরকার। অনেকদিন ধরে তারা বাড়ি আসতে পারেননা।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাকা চৌধুরীরা চার ভাই ছিলেন। এর মধ্যে সাকাই সবার বড়। তার একভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী গত এপ্রিলে মারা গেছেন। গিয়াস কাদের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও জামাল কাদের রাজনীতি করেন না। গিয়াস বর্তমানে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে মূল পারিবারিক কবরস্থানে জায়গা না থাকায় নতুন কবরস্থানে মেজ ভাই সাইফুদ্দীন কাদের চৌধুরীর পাশে সাকা চৌধুরীকে দাফন করা হয়।
শনিবার রাত ৩টার পর থেকে সেখানে পুলিশ পাহারায় কবর খোঁড়া শুরু হয়। সাত থেকে আটক জন গোড়খোদক খননের কাজ করেন।ভোর ৬টার মধ্যেই সেটি সম্পন্ন হয়।
সকাল ৯টার দিকে মরদেহ সরাসরি বাড়ির উঠানে জানাজাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার ছেলে হুম্মাম ও স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী তাকে ফের গোসল করাতে চান। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তা আর হয়নি।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির দণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর আপিল করেন সাকা।
গত ১৮ নভেম্বর সেই আবেদন খারিজ করে ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। শনিবার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান সাকা। কিন্তু ক্ষমা পাননি তিনি। যদিও কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করে ছেলে হুম্মাম বলেছেন, তার বাবা প্রাণভিক্ষা চাননি।
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন