বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবিতে ২০১৩ সালের ২৪ জুন শিশুসহ জোড়া খুনের অভিযোগপত্রভূক্ত আসামি ছাত্রলীগের বহিস্কৃত নেতা সাইফুল আলম লিমনকে অস্ত্র গুলি ও তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর লালখান বাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লিমনের সাথে গ্রেপ্তার করা হয়, সাদ্দাম হোসেন (২৩), তৌহিদুল ইসলাম (২৯) ও আজিজুল হক (২৮) নামে তিন সহযোগী। এরা সকলেই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে র্যাব জানিয়েছে।
এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ওয়ান শুট্যার গান, ৪টি ম্যাগজিন ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-৭ এর সহকারি পরিচালক এএসপি সাহেদা সুলতানা ও স্কোয়াডন লিডার সাফায়েত জামিল ফাহিম দু’জনই সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও সন্ধ্যায় ফোনকরে জানতে চাইলে সিটিজিবার্তা২৪ডটকম’কে প্রথমে লিমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন এএসপি সাহেদা সুলতানা|
অবশ্য পরে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপশি তিনি বলেন, ‘লিমনসহ চারজনকে এখন র্যাবের পতেঙ্গা অফিসে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হবে।’
সিআরবিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুসহ দু’জন নিহতের ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রিয় উপ অর্থ সম্পাদক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবব ও বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৬২ জনের বিরুদ্ধে গত সোমবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ডিবি। অভিযোগপত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু,নগর যুবলীগ নেতা খোকন চন্দ্র তাতীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবিতে এক কোটি ১০ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে যুবলীগের কর্মী সাজু পালিত (২৮) ও শিশু আরমান (৮) নিহত হয়। এঘটনায় আদালতে জমা দেয়া মামলার অভিযোগপত্রে বাবর ও লিমনসহ মোট ৬২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাক্ষী রাখা হয়েছে ৪০জনকে। যদিও সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মহিবুর রহমান বাদী হয়ে বাবর-লিমনসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। পরে নিহত সাজু পালিতের মা মিনতি পালিত বাদী হয়ে অজিত বিশ্বাসকে আসামি করে আদালতে অপর একটি হত্যা মামলা করেন।
তবে অভিযোগপত্রে বাবর-লিমনসহ ৬২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দিলেও মোট ২৬ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আবার এজাহারে না থাকলেও শাহ আলম নামে একজনে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাইফুল আলম লিমনকে এক নম্বর, লিমনের অনুসারি চবি ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপুকে সাত নম্বর ও অপর অভিযুক্ত হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকে ৩৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। লিমন এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এতদিন জামিনে ছিলেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত ৬২ আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১২ জন। গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে রয়েছেন ৪৮ জন। বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন আসামি অমিত মুহুরী ও শিমুল প্রসাদ। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি।
ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, রেলের ১ কোটি ১০ লাখ টাকার দরপত্র নিয়ে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনার পর পৌনে দুই বছর মামলাটির তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার সাবেক উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান। গত এপ্রিল মাসে এটি তদন্তের জন্য নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। প্রথমে নগর ডিবির সাবেক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম তদন্ত করেন। সর্বশেষ তদন্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিবির পরিদর্শক আতিক চৌধুরী।
হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী আর সাইফুল আলম লিমন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত । জোড়া খুনের পর বাবর গ্রেপ্তার হলে তাকে যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য পদ থেকে এবং লিমন গ্রেপ্তার হলে তাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করে নিজ নিজ সংগঠনের কেন্দ্রিয় কমিটি। লিমন আর স্বপদে ফিরতে না পারলেও কিন্তু বাবর এক বছরের মধ্যে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদোন্নতি পেয়ে উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হন।
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম/ওয়াহিদ/এমকে
বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা লিমন গ্রেপ্তার
লিমন ছাত্রলীগের কোনো স্তরের নেতা কিংবা কর্মী নয়’ এস এম জাকির হোসেন
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
