মামলা তদন্তে পুলিশকে আন্তরিক হতে বলেছেন বিচারক

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

adalot

চট্টগ্রাম : মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিসহ আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করতে প্রতিবেদন দাখিল, যথাসময়ে মামলার সাক্ষী উপস্থাপন নিশ্চিতকরণ, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো আন্তরিক হতে বলছেন চট্টগ্রামের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কনফারেন্স হল রুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তবে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার-এর প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম, সিভিল সার্জন, চট্টগ্রাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পরিচালক র‌্যাব-৭-এর প্রতিনিধি, পুলিশ সুপার রেলওয়ে-এর প্রতিনিধি, পরিচালক, চ.মে.ক. হাসপাতাল-এর প্রতিনিধি, বিভাগীয় প্রধান, ফরেনসিক, চ.মে.ক হাসপাতাল, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্য বিচারকবৃন্দ ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সভাপতি/সেক্রেটারি/বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর ও সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দে স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনসহ যে সমস্ত আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পাদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেটি শক্তভাবে মেনে যথাসময়ে তদন্তকার্য সম্পাদন করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলেছেন।

তিনি বলেন, অনেক মামলায় দেখা যায় যে, ভিকটিমকে সাক্ষী করা হয় না। তিনি এই বিষয়ে অধিকতর সতর্ক ও যত্মবান হওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। গাড়ি দুর্ঘটনার মামলায় গুরুতর জখম প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডাক্তারি সনদ আদালতে দাখিল করা হয় না, ফলে ঐ মামলাগুলো যথাযথ সাক্ষ্যের অভাবে প্রমাণিত হয় না। এই বিষয়ে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অধিকতর মনোযোগী হওয়ার জন্য বলেন। অনেক মামলায় দেখা যায়, বিশেষত মাদকের মামলায়, সংবাদদাতা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা একই ব্যক্তি, এটি প্রিন্সিপাল ও ন্যাশনাল জাস্টিস এর পরিপন্থি বলেও উল্লেখ করেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

পুলিশ রিপোর্টে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখিত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সকল সাক্ষীদের নামের সাথে তাহাদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করিবার উপর তিনি গুরুত্বারোপ বলেন। ফলে মামলার ন্যায় বিচারের পথ সুগম হয়।

বর্তমান চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম যোগদানের পর থেকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, আইনের শাসন বাস্তবায়ন, মানবাধিকার সংরক্ষণের জন্য নিরলস চেষ্টা করছেন বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়। তিনি ২০১৫ সালের ২৫শে নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় পুলিশ ফাইলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ৯৪১৬ টি, ক্রোকি পরোয়ানা ৪৬৬ টি এবং বিভিন্ন আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ৮৭২৫ ও ক্রোকি পরোয়ানা ১০২৮ টি ও সাজা পরোয়ানা ১৯০ টি বিনাজারি অবস্থায় থাকার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি যোগদানের পর থেকে অত্র ম্যাজিস্ট্রেসিতে দ্রুত সমনজারির ব্যবস্থা করা হয়, নকল খানায় তিন দিনের মধ্যে নকল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়, নতুন রেকর্ডরুম স্থাপনসহ রেকর্ড রুমে লোকেশন ম্যাপ সংযোজন করা হয়, নিষ্পত্তিকৃত নথি রেকর্ড রুমে প্রেরণ করা হয় এবং রেকর্ড রুমের বিনষ্টকৃত নথি ধ্বংস করা হয়।

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

জন মন্তব্যকারী




Leave a Reply

Inline